Latest News

Popular Posts

সম্বুদ্ধজাতিকা (অংশ ৩৫)

সম্বুদ্ধজাতিকা (অংশ ৩৫)

সুরঞ্জন প্রামাণিক

নট টু রেপ— একটি রাজনৈতিক ইস্যু বটে

বুঝতে পারছ, আমার কৃষকমুক্তি নারীমুক্তির ধারণা কেমন ঘোলাটে হয়ে গেছে। এবার দ্বিতীয় ঘটনার কথা বলি। নট টু রেপ-সেমিনার। সুব্রতর উদ্যোগে স্কুলের বাইরে সেই সেমিনারটা করা গেছে। কয়েকটা স্কুলের নাইন থেকে টুয়েলভের ছাত্র ও তাদের অবিভাবকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সমস্ত আলোচনাকে আমরা কতকগুলো ‘টপিক’-এ ভাগ করে নিয়েছিলাম। এও ঠিক করা হয়েছিল যে, মেয়েদের বিষয়ে বলব আমি, ছেলেদের কথা বলবে সুব্রত। মানে বক্তা দু’জন। আমি আর সুব্রত। সভায় নির্দিষ্ট কোনও সঞ্চালক ছিল না। আমরা ছিলাম পরস্পরের সূত্রধর। আমরা কেউ-ই এক তরফাভাবে কথা শেষ করিনি। কথায় ফাঁকে ফাঁকে শ্রোতাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে কোনও প্রশ্ন আছে কি না। প্রশ্ন এলে তার মীমাংসা করার চেষ্টা করা হয়েছে। যদিও সেটা খুব কম।

একটা কথা বলতে ভুলে গেছি। আমার এই পাঁচ বন্ধুদের সঙ্গে ‘যৌনতা’ বিষয়ে আলোচনা করবার সুযোগ হয়নি। কিন্তু এই প্রোগ্রামটার দিন-ক্ষণ ঠিক হবে, সুব্রতর কাছ থেকে এ রকম নিশ্চয়তা পাওয়ার পর, সুব্রতকে বিষয়টা জানানো জরুরি ছিল। এ বিষয়ে সুজন মিত্রকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাঁর লেখা থেকে আমি একটা নোট তৈরি করি। সুব্রতকে পাঠাই। আর-চার জনকেও ফরোয়ার্ড করে দিই। এমনকী নোটটা সোমাকেও পাঠিয়েছিলাম। এবং আলোচনা সভায় উপস্থিত থাকবার জন্য আমরা দু’জনই তাদের অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কেবল সোমা আসেনি।

আরও পড়ুন: কামেশ্বরী

শিল্পী আফনসো কস্তা

যাই হোক, ক্লাবের সভাপতি তাঁর স্বাগত ভাষণ শেষ করলেন আমাকে আলোচনা শুরু করবার আহ্বান জানিয়ে। তোমার নিশ্চয়ই মনে আছে, গার্লস স্কুলগুলোতে আলোচনার বিষয় ছিল পাচার— হিউম্যান ট্রাফিকিং, আর অনুষঙ্গ হিসাবে এসছিল ধর্ষণ। উদ্দেশ্য ছিল পাচারের হাত থেকে ছাত্রীদের আত্মরক্ষার জন্য সচেতন করা। কিন্তু ছাত্র-অবিভাবকদের জন্য এই আলোচনার বিষয়, টিচিং মেন নট টু রেপ। আলোচনা কেন, কী জন্য— ক্লাব সভাপতি তা জানিয়েছিলেন। তার সঙ্গে আমি ‘একটিমাত্র কথা সংযোজন করব’ বলে আমার কথা শুরু করি, ‘কথাটা হল, ধর্ষণ এক সামাজিক ব্যাধি। যৌনব্যাধি। ধর্ষিত না-হওয়ার জন্য সমাজ-পরিবার মেয়েদের নানাভাবে শিক্ষা দিয়ে থাকে। অর্থাৎ প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা বলে। অথচ এই রোগটিতে আক্রান্ত হয় মূলত পুরুষ, তাকে আক্রান্ত না হওয়ার শিক্ষা, ‘নট টু রেপ’ এই মর্মে দেওয়া যায় কি না, এই ভাবনা থেকে আমরা কথা বলব।’ এর পরেই যদি কারও প্রশ্ন থাকে, হাত তুলে বা লিখে জানাতে বলে আমি রাসায়নিকভাবে জীবের উৎপত্তি বিষয়ে কথা বলতে বলতে ‘মানুষের উৎপত্তি পশুজগৎ থেকে— এই সত্যে স্থিত হই, বলি, ‘এই যে জৈব অভিব্যক্তি, তোমরা যারা জীববিদ্যার ছাত্র, তারা জানো— এই অভিব্যক্তিতে জনন-ই চালিকা শক্তি। মানুষের ক্ষেত্রে তার নাম হয়েছে যৌনতা। আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে যৌনতা সমভাবে বিস্তৃত হয়ে আছে। একটা বোধও বটে। ধর্ষণ যৌনতাবোধের বিকৃতি কিনা, এই বিষয়ে কথা বলবেন আমার সহবক্তা সুব্রত সেন।’

আমার কথা বলা শেষ হতেই এক জন অবিভাবক হাত তুললেন। তিনি জানতে চাইলেন ধর্ষণকে আমি সামাজিক ব্যাধি বললাম কেন? আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে উত্তর দিলাম এইভাবে, ‘সামাজিক ব্যাধি আমরা সেই সব রোগকেই বলি যার উদ্ভব সমাজের চলমানতা থেকে। অন্যভাবে বলা যায়, যে রোগ সমাজ ও অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি রিলেটেড যেমন, টিবি— একটি সামাজিক ব্যাধি। ধর্ষণও সমাজ অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এই বিষয়ে পরে ফিরে আসা যাবে। আপনারা সুব্রতর কথা শুনুন! আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে সমবিস্তৃত হয়ে আছে যে যৌনতা, সেই বিষয়ে তিনি আলোকপাত করবেন।’

আমার ‘নোট’-এ যোনি-শব্দ ভেঙে যৌনতা দেখানো ছিল, যেমনটা আগে বলেছি, তোমার মনে পড়বে; এবং তার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করা ছিল। সুব্রত তার মতো করে সে সব বলে আমার কথার প্রসঙ্গ টেনে বলল, ‘পশুজগৎ থেকে মানুষ তো বিচ্ছিন্ন হল কিন্তু মুশকিলে পড়ল— কী বলো তো?’

আরও পড়ুন: ঘুমের ওষুধ খাওয়ার আগে যা মনে এসেছিল

ছাত্রদের কাছ থেকে কোনও উত্তর পাওয়া গেল না। সুব্রত বলল, ‘তোমরা-কিন্তু ব্যাপারটা জানো— মুশকিলটা হল, খাদ্যশৃঙ্খল-এর ক্ষেত্রে— পশুজগৎ বাঁচে খাদ্য-খাদক সম্বন্ধে। কী, তাই তো?’ এবার সমবেত ‘হ্যাঁ’ আওয়াজ তুলে মিলিয়ে গেল। সুব্রত বলল, ‘মানে যে যেমন পারে ধরে-খুঁটে খায়, প্রকৃতিই তাদের খাদ্যভাণ্ডার। তোমরা বলতেই পারো, মানুষের খাদ্যভাণ্ডারও তো প্রকৃতি। কী বলা যায় তো? বেশ। তা হলে মুশকিল কোথায়? এক জন ছাত্র উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ‘মানুষকে খাদ্য তৈরি করে খেতে হয় এটাই মুশকিল।’ সুব্রত বলল, ‘ঠিকই বলেছ কিন্তু এটাই সব নয়। বসো। প্রকৃতি মানুষের খাদ্যভাণ্ডার— ঠিকই; প্রকৃতি মানে জল-জমি-জঙ্গল— এটা সব মানুষের দখলে নেই। মানে যে যার মতো ফসল ফলিয়ে খাদ্য জোগাড় করতে পারে না। এটাই হল মানুষের মুশকিল খাদ্যভাণ্ডার প্রবলের দখলে। এইখানে মানুষের বন্দিত্ব— ইতিহাস বইতে তোমরা দাস মানুষের কথা পড়েছ… একটু চিন্তা করলে তোমরা দেখতে পাবে, আমাদের সমাজের মধ্যে সেই আদি দাস-যুগই ছড়িয়ে আছে বা আদি দাস-যুগ আধুনিক হয়েছে। মাপ করবেন! কথাটা একটু ভারী হয়ে গেল।’

এর পরই সুব্রত আমাকে কী বলতে হবে তার সূত্র দিয়ে হাতে মাইক্রোফোন ধরিয়ে দেয়। সুব্রতর ‘মাপ চাওয়া’টা ইস্যু করে আমি বললাম, ‘আসলে দাস-প্রভু, শ্রমিক-মালিক, কাজের লোক-বাবু, সাহেব-অধস্তন— এই সব কথা রাজনীতির ক্ষেত্রে ব্যবহার করার চল হয়েছে, রাজনীতির ইতিহাসে এসব কথা আছে, এই আলোচনায় কথাগুলো আসা স্বাভাবিক কিন্তু এটা একটি অরাজনৈতিক মঞ্চ, ছাত্রদের কাছে যে কথা সুব্রত বলেছেন, সন্দেহ নেই তা ভারী কিন্তু অবিভাবকের কাছে তা রাজনৈতিক মনে হতে পারে— আমার মনে হয় তা দোষের নয়। দোষের নয় এ কারণে যে, মানুষের খাদ্য— ফসল ফলানো থেকে তা রান্নাঘরে পৌঁছে তার খাদ্য হয়ে-ওঠা এবং তা খাওয়া পর্যন্ত— সমস্তটাই অর্থনৈতিক কার্যকলাপ। কী তাই না! এই কার্যকলাপ, সন্দেহ নেই, শ্রেষ্ঠ নীতি-নির্ভর, মানে রাজনীতি— এক আলোচনা সভায় খুব সুন্দর একটা কথা শুনেছিলাম (আমার চোখ চলে গেল সায়নের দিকে), অর্থনৈতিক কাজকর্মকে প্রাণবন্ত করে তোলে রাজনীতি— আমি বলতে চাইছি, এই আলোচনা, বলতে দ্বিধা নেই, একটি রাজনৈতিক ইস্যুও বটে। খাদ্যভাণ্ডারের নিরিখে মানুষের বন্দিত্ব— তার স্বরূপ কী, এ বিষয়ে তোমাদের ধারণা না-থাকারই কথা। তবে বন্দিত্বের ধারণা কিন্তু তোমাদের আছে, ইচ্ছেমতো কিছু না করতে পারা মানে স্বাধীনতা না থাকা, বা অনোর ইচ্ছেমতো কাজ করা— না-করলে, এ রকম কথা তোমাদের কেউ কেউ নিশ্চয়ই শুনেছ, আজ খাওয়া বন্ধ— এ সবই এক রকমের বন্দিত্ব। আমি একটা জায়গা পড়ে শোনাচ্ছি, পড়ার মধ্যে আমার কথা ঢুকে পড়বে তোমাদের উদ্দেশ্যে’…

পড়ছি বলে যা পড়ার ফাঁকে ফাঁকে বলেছিলাম তা তোমাকে স্মৃতি থেকে লিখছি:

‘মানুষের ক্ষেত্রে খাদ্যের উৎসগুলো প্রবলের দখলে, এইখানে সে বিপন্ন, অসহায়। কিন্তু চারিদিকে ‘রক্তক্লান্ত কাজের আহ্বান’। তাকে সাড়া দিতে হয়; স্বেচ্ছায়, অনিচ্ছায়। যেখানে ইচ্ছার বিরুদ্ধাচরণ, সেখানেই অবদমন। তারও আগে, তোমাদের বেড়ে ওঠার সময় জুড়ে নানা বিধি-নিষেধ তোমাদের স্বতঃস্ফূর্ত ইচ্ছার বিরোধিতা করেছে, অবদমিত হয়েছে তোমাদের মন ও মনন, অবচেতনে গড়ে উঠেছে আর এক জগৎ। বিষাদ আর অন্ধকারের আড়ালে এক কল্পলোক, স্বপ্নজগৎ— সেসব বাস্তব হয়ে উঠতে চায়— আমি আমার শ্রদ্ধেয় অবিভাবকদের জিজ্ঞেস করছি, চায় না কি? না, উত্তর চাইছি না। যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তা হলে আপনার সন্তানের ক্ষেত্রে আপনি অ্যাম্প্যাথিটিক হতে পারবেন, সমমর্মী হবেন আশা করা যায়; তা হলে তার মন বুঝতে সহজ হবে। কেন বলছি এ কথা? কারণ মনোবিজ্ঞানীরা বলেছেন, মানুষের আদিম কাম প্রবৃত্তিগুলি অবদমিত হলেও চুপ করে বসে থাকে না। নানাভাবে তারা আত্মপ্রকাশ ও আত্মতৃপ্তির পথ খুঁজতে থাকে। একটা পথের পরিণতি মানসিক বিকার— যৌনতাবোধের বিকৃতি থেকেই ধর্ষণ সংঘটিত হয়, এই বিকার আমরা রুখতে চাই। আর-একটা পথ সাহিত্য-শিল্পকলার দিকে। কারও কোনও প্রশ্ন?’  

একটা চিরকুট এলো। অবদমন কেন হয়, মানসিক বিকার কেন ঘটে?

‘খুব ওয়াইজ কোশ্চেন’— প্রশ্নদুটো আমি পড়ে শোনালাম। প্রশ্নকর্তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রথম প্রশ্নের যে উত্তর দিয়েছিলাম, তা এ রকম: ‘পশুজগৎ থেকে মানুষের উৎপত্তি— এই যে উৎপত্তি, এর মানে হল প্রজননের মাধ্যমে মানুষের উদ্ভব হয়েছে— এবার পশুজগতের দিকে তাকাও, আমাদের গৃহপালিত পশু দেখলেই দেখতে পাবে, তাদের শাবকদের জন্ম, বেড়ে ওঠায় কোনও নিষেধ নেই, পাশাপাশি একটা মানবশিশুকে আমাদের গৃহপালিত পশুর সঙ্গে তুলনা করে পর্যবেক্ষণ করো, কথাগুলো আগে বলেছি— কতই না বাধানিষেধ! বাধানিষেধের চাপে পড়েই অবদমন ঘটে। প্রাসঙ্গিক উদাহরণ দেওয়া যাক, শিশুর জনন-অঙ্গ নিয়ে খেলা— একা আনমনে বা দু’জন একান্তে— এটা প্রকৃতিগত, পশুশাবকের ক্ষেত্রে যা সত্য, মানবশিশুর ক্ষেত্রেও তা-ই সত্য কিন্তু শিশুর মা-বাবা, আত্মীয়-পরিজনের কাছে ব্যাপারটা ‘করতে নেই’, অতএব, তাকে ভয় দেখানো নিষেধ করা, বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া— শাবকের মতো শিশু ‘আনন্দে’ বেড়ে উঠতে পারে না, কিন্তু তার সুখ পাওয়ার ইচ্ছেটা না মরে বয়সকালে তা-ই যৌন আকাঙ্ক্ষা হিসাবে জেগে ওঠে— তা পূরণ না হলে, বিকৃতি আসতে পারে মানে বিকৃত পথে আকাঙ্ক্ষা পূরণ। আমি সুব্রতকে অনুরোধ করব, এই বিকৃতিকে তিনি যেন বিস্তৃত করেন!’

আরও পড়ুন: আমরা কৃষ্ণচূড়া ফুল চিনিই না, অথচ গানের কলি গাই

চারটি জীব বৈশিষ্ট্য, আহার-নিদ্রা-প্রজনন-ভয়ের কথা বলে সুব্রত জানাল যে, এই চার বৈশিষ্ট্যই পশুজগৎ থেকে মানুষকে চিরবিচ্ছিন্ন হতে দেয়নি। এবং এরাই যে মানবসমাজের চালিকা শক্তি হয়ে উঠেছে, তার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছে, ‘তোমরা জৈব বিবর্তনের কথা পড়েছ বা পড়বে, সেখানে ‘মিউটেশন’ বলে একটা কথা আছে, তার প্রতিশব্দ পরিব্যক্তি— ব্যাপারটা তোমরা জানো তো?’ একটা মৃদু আওয়াজ উঠল। শান্ত হলে সুব্রত বলল, ‘ব্যাপারটা আমিও ভালো জানি না, সেই কবে পড়েছি, তবে জানা দরকার, বুঝতে পারছি। যদি মানুষ না হতাম, আমার প্রকৃতি যা জানাত তাতেই চলে যেত, যেমন একটা কুকুরের চলে যাচ্ছে— পরিব্যক্তি হচ্ছে এক কথায় জিনের পরিবর্তন— এই পরিবর্তন কী করে ঘটে, খানিকটা অনুমান করা যায়, জননক্রিয়া তার প্রাথমিক পর্যায় তোমরা নিশ্চয়ই লক্ষ করেছ, একটা কুকুরছানা বা বেড়ালবাচ্চা নির্দিষ্ট বয়সে পৌঁছলে পর, তারা জননের জন্য সঙ্গী খোঁজে— মানুষও খুঁজবে— এটাই স্বাভাবিক। তোমাদের অনেকেই এখন সেই বয়সে কিন্তু মানুষের ‘ব্রহ্মচর্য’ ধারণা রয়েছে, যদিও তা পালনের সামাজিক পরিবেশ আজ আর নেই, তবু তোমার ভিতরে বা কোনও মেয়ের ভিতরে— তোমাদের জিন চাইছে তার প্রসারণ ঘটুক, তাই তারা পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে… এটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একটু অন্যরকম হয়ে গেছে, মানবসমাজে পুরুষেরা একটি মেয়েকে বিয়ে করার পর জননক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে… বিয়ে করার জন্য পুরুষকে অবশ্যই যোগ্য হতে হবে— যোগ্য হওয়ার জন্যই এত লেখাপড়া! এই লেখাপড়াটা বাইরের ব্যাপার এবং আমার মনে হয়, জিনের ব্যাপারটা এর মাধ্যমে খানিকটা দমিয়ে রাখা যায়। এটা অবদমন নয়। কিন্তু আকর্ষণ— বিশেষ করে একটি ছেলের দিক থেকে খুব জোরালো হতে পারে, সে তার পছন্দের মেয়েটির কাছাকাছি হতে চায়, মানুষের ক্ষেত্রে এ হল ‘যৌন প্রেম’।’

প্রেম সম্পর্কে সুব্রত একটা গল্প বলেছিল, তার শুরুটা ছিল এ রকম: ‘তোমাদের একটা গল্প শোনাই— ঠিক গল্প না, একটা কাহিনি— একটি মেয়েকে পাঁচ-পাঁচটি ছেলে প্রেম নিবেদন করেছে…’ গল্পটা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ, আমি তো তখন আশঙ্কায় ভুগছি- সত্যব্রত, কল্যাণ, সায়ন, রুদ্র সেখানে উপস্থিত রয়েছে। যাই হোক গল্পটা খুব সুন্দরভাবে বলেছিল। গল্প শেষ করে সুব্রত খুব বেদনার্ত বলেছিল, ‘কিন্তু সব ঘটনা তো আর এ রকম পরিণতিতে পৌঁছয় না, তার-ই এক মর্মন্তুদ ঘটনা বলবেন বিনতা।’

ক্রমশ…

উপন্যাসের বাকি অংশ পড়তে ক্লিক করুন:

সম্বুদ্ধজাতিকা (১ম অংশ)
সম্বুদ্ধজাতিকা (২য় অংশ)
সম্বুদ্ধজাতিকা (৩য় অংশ)
সম্বুদ্ধজাতিকা (৪র্থ অংশ)
সম্বুদ্ধজাতিকা (৫ম অংশ)
সম্বুদ্ধজাতিকা (ষষ্ঠ অংশ)
সম্বুদ্ধজাতিকা (৭ম অংশ)
সম্বুদ্ধজাতিকা (৮ম অংশ)

সম্বুদ্ধজাতিকা (৯ম অংশ)
সম্বুদ্ধজাতিকা (১০ম অংশ)
সম্বুদ্ধজাতিকা (একাদশ অংশ)
সম্বুদ্ধজাতিকা (অংশ ১২)
সম্বুদ্ধজাতিকা (অংশ ১৩)
সমুদ্ধজাতিকা (অংশ ১৪)
সমুদ্ধজাতিকা (অংশ ১৫)
সমুদ্ধজাতিকা (অংশ ১৬)
সমুদ্ধজাতিকা (অংশ ১৭)
সমুদ্ধজাতিকা (অংশ ১৮)
সম্বুদ্ধজাতিকা (অংশ ১৯)
সম্বুদ্ধজাতিকা (অংশ ২০)
সম্বুদ্ধজাতিকা (অংশ ২১)
সম্বুদ্ধজাতিকা (অংশ ২২)
সম্বুদ্ধজাতিকা (অংশ ২৩)
সম্বুদ্ধজাতিকা (অংশ ২৪)
সম্বুদ্ধজাতিকা (অংশ ২৫)
সম্বুদ্ধজাতিকা (অংশ ২৬)
সম্বুদ্ধজাতিকা (অংশ ২৭)
সম্বুদ্ধজাতিকা (অংশ ২৮)
সম্বুদ্ধজাতিকা (অংশ ২৯)
সম্বুদ্ধজাতিকা (অংশ ৩০)
সম্বুদ্ধজাতিকা (অংশ ৩১)
সম্বুদ্ধজাতিকা (অংশ ৩২)
সম্বুদ্ধজাতিকা (অংশ ৩৩)
সম্বুদ্ধজাতিকা (অংশ ৩৪)

টাটকা খবর বাংলায় পড়তে লগইন করুন www.mysepik.com-এ। পড়ুন, আপডেটেড খবর। প্রতিমুহূর্তে খবরের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *