বাগদেবীর আরাধনায় সাকেত নগর ফেজ ২ অধিবাসীবৃন্দ, মিডিয়া পার্টনার mysepik.com

অনিন্দ্য বর্মন

কলকাতা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা পুরনো আবাসনগুলির পাশেই গড়ে উঠছে নিত্যনতুন বাসস্থান। এরকমই একটি নতুন আবাসন হল ডানলপ মোড়ের নিকটবর্তী সাকেত নগর ফেজ ২। আবাসনের বাসিন্দারা ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১-এ খুবই জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে বাগদেবীর আরাধনার আয়োজন করেন। এটিই হল সাকেত নগর ফেজ ২-এ প্রথম সরস্বতী পুজো।

সকালে সমস্ত আচারবিধি মেনেই মায়ের পুজো সম্পন্ন হয়। পুষ্পাঞ্জলি, কচিকাঁচাদের হাতেখড়ি ইত্যাদির ব্যবস্থাও ছিল। দুপুরে আবাসিকদের আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজ। রাতেও ছিল আবাসিক এবং অতিথি অভ্যাগতদের জন্য খাওয়ার ব্যবস্থা। সন্ধ্যাবেলা প্রায় ৩ ঘণ্টা ব্যাপী জমজমাটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয়েছিল। এই পুজো এবং এই সান্ধ্য অনুষ্ঠানই ছিল সরস্বতী পুজো উদ্‌যাপনের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।

আরও পড়ুন: বীণাপাণির হিরণকিরণ ছবিখানি…

এই সমগ্র ব্যবস্থাপনার মূলে ছিল সাকেত নগর ফেজ ২-এর আবাসিক কমিটি। পুজো এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন এখানকারই অধিবাসীবৃন্দ। ৩ ঘণ্টা ব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল ২২টি ছোট অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের নাম― সাকেত নগর ফেজ ২ আবাসিকবৃন্দের সরস্বতী পুজো ২০২১। সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠান আরম্ভ হয়। আবাসনের মধ্যেই একটি ছোট মঞ্চ নির্মাণ করা হয়। আলো এবং শব্দের ব্যবস্থাও ছিল। সাকেত নগর ফেজ ২-এর মহিলাদের সমবেত উদ্বোধনী সংগীতে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সমবেতভাবে গাওয়া হয় ‘আকাশভরা সূর্য তারা…’। সমবেত সংগীতে অংশগ্রহণ করেন অসীমা ব্যানার্জি, ইন্দ্রাণী রায়, বন্দনা ভাওয়াল, শ্রবণা মুখার্জি, অলিভা কর, মোনালিসা বিশ্বাস, শাশ্বতী সাঁতরা, শ্রেয়া কাপাড়ি, শর্মিষ্ঠা সাহা এবং মুনমুন দে। হারমোনিয়ামে সঙ্গত করেন সুকন্যা মণ্ডল এবং তবলায় ছিলেন কাকন সাহা।

আরও পড়ুন: গড়ফা থানা এলাকায় হোটেলে আগুন, অগ্নিদগ্ধ এক কর্মী

এরপর একে একে বিভিন্ন আবাসিকরা তাঁদের সংগীত, আবৃত্তি, বাদ্যযন্ত্র এবং নৃত্য পরিবেশন করেন। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আশি পণ্ডিত, আর্য মাইতি, আয়ুশি কাপাড়ি, প্রত্যুষ মিত্র, নির্ভীক সেনগুপ্ত এবং অদ্রিজা দাঁ। সংগীত পরিবেশন করেন শিনিয়া ভট্টাচার্য এবং অর্চিতা গড়াই। নৃত্য পরিবেশন করেন ঈশানিকা সাঁতরা, ঐশীকা সাঁতরা, জাহ্নবী মিত্র, আরাত্রিকা বিশ্বাস এবং আইভি ব্যানার্জি।

অংশগ্রহণকারী আবাসিকদের মধ্যে কচিকাঁচা থেকে বড়― সবাই সমান দক্ষতা এবং উদ্দীপনার সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। ২২টির মধ্যে অনেকগুলোই দর্শক-শ্রোতাদের মন জয় করেছে। এর মধ্যে বিশেষ উল্লেখ্য বাদ্যযন্ত্রে লোপামুদ্রা ব্যানার্জি (বাঁশি) এবং প্রত্যুষ মিত্র (মাউথ অর্গান), সংগীতে শরণ্য মুখার্জি, রুদ্রাংশু ঘটক এবং উষসী দে সেনগুপ্ত, আবৃত্তিতে শ্রাবণী সেনগুপ্ত এবং নৃত্যে সর্বাণী ঘটক এবং ডুলং ঘোষ সরকার।

এই সমগ্র অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল আবাসনের কচিকাঁচাদের অভিনীত সুকুমার রায়ের হ য ব র ল-এর একটি নাট্যরূপ। প্রত্যেক শিশুই নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। স্বাভাবিকভাবেই এই নাটকটি বিপুল প্রশংসিত হয়।

আরও পড়ুন: যাদবপুর ইউনিভার্সিটির সামনে এসএফআই-এর রাস্তা অবরোধ

প্রত্যেক আবাসনিক অনুষ্ঠানেই সাধারণত আবাসনের বাসিন্দারাই দর্শক আসন গ্রহণ করে থাকেন। কিন্তু সাকেত নগর ফেজ ২-তে দেখা গেল আশপাশের মানুষও এই অনুষ্ঠান দেখতে উপস্থিত হয়েছেন। যথেষ্ট পরিমাণে সামাজিক এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থাও আয়োজকদের পক্ষ থেকে করা হয়েছিল।

সমগ্র অনুষ্ঠানের সঞ্চালকের ভূমিকায় ছিলেন আবাসনেরই বাসিন্দা নবেন্দু সেনগুপ্ত। অনুষ্ঠানটির সহযোগী মিডিয়া পার্টনার ছিল mysepik.com। আলোকসজ্জা এবং আলোক প্রক্ষেপণে ছিলেন বাবলু রায়। শব্দ ব্যবস্থা এবং প্রক্ষেপণে ছিলেন বাদল ইলেকট্রিক। সর্বাণী ঘটক-এর নৃত্য এবং শিশুদের নাটকের আবহ সংগীত এবং প্রক্ষেপণে ছিলেন অনিন্দ্য। আশা করাই যায়, এই বছরের মতোই আগামী বছরেও সাকেত নগর ফেজ ২ থেকে এরকম আরও জমজমাট অনুষ্ঠানের উপহার পাওয়া যাবে।

ছবি নিজস্ব

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *