সেবক-রংপো রেল টানেলে ফের ধস, মৃত ১

Mysepik Webdesk: ফের সেবক-রংপো রেল টানেলে ফের ধস নেমে মৃত্যু হল এক শ্রমিকের। এবারের দুর্ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গ-সিকিমের সীমান্ত এলাকা মামখোলায়। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতের দিকে ১০ নং টানেলে কাজ করছিলেন ৮ জন শ্রমিক। বৃষ্টির কারণে রাত ২টো নাগাদ আচমকা মামখোলা পাহাড়ি নদীতে জলস্তর বেড়ে যাওয়ার ফলে ভেসে যায় ওই টানেলটি। সেই টানেল থেকে পাঁচজন বেরিয়ে আসতে পারলেও আটকে যায় তিনজন। ওই তিনজনকে ভোরের দিকে উদ্ধার করে একজনকে কালিম্পং জেলা হাসপাতালে ও বাকি দু’জনকে সিকিমের সিংতাম জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আরও পড়ুন: রাজনীতি থেকে ফের গানের জগতে ফিরছেন বাবুল সুপ্রিয়? ফেসবুক পোস্ট ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে

কালিম্পং জেলা হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তি নেপালের বাসিন্দা। তাঁর নাম ধন সিং ভাণ্ডারি। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার ভোরে ঘটনাস্থলে পৌঁছান গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুং। তিনি স্থানীয় র‍্যাফটিং টিমকে দ্রুত উদ্ধারকার্য চালাতে অনুরোধ করেন। প্রসঙ্গত, গত ১৭ জুন এই রেল লাইনেরই ৯ নং টানেলে ধস নেমে দুর্ঘটনার ফলে ২ শ্রমিকেরমৃত্যু হয়েছিল।

আরও পড়ুন: করোনা আবহে দিঘায় হোটেল ভাড়া নিলে পাওয়া যাবে আকর্ষণীয় ছাড়

আকাশপথ এবং সড়ক পথের পাশাপাশি এবার রেলপথে শিলিগুড়ি থেকে সেবক হয়ে থেকে সরাসরি সিকিমে পৌঁছে যাওয়ার জন্য জোরকদমে চলছে রেল লাইন পাতার কাজ। সেবক রোড থেকে রাংপো পর্যন্ত মোট ৩৮.৫৫ কিলোমিটার দূরত্বের ওই রাস্তার মধ্যে ৩.৪১ কিলোমিটার রাস্তা সিকিমের অন্তর্গত আর বাকিটা পশ্চিমবঙ্গের মধ্যেই পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে জমিজটের কারণে কাজ আটকে থাকলেও ফের নতুন করে জোরকদমে কাজ শুরু হয়েছে। মোট ৩৮.৫৫ কিলোমিটার যাত্রাপথে থাকছে চোদ্দটি টানেল এবং উনিশটি রেলব্রিজ। ৫টি ডিভিশনাল জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে তৈরি হচ্ছে রেলপথ। ওই রুটের বেশিরভাগ রাস্তাই জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে যাবে। পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে মোট ১৪ টি টানেল তৈরি করে হয়েছে। এর মধ্যে তারখোলার কাছে সবথেকে বড় টানেলটি ৫ কিলোমিটারেরও বেশি লম্বা। সবচেয়ে ছোট টানেল ৫৩৮ মিটার। সেবক থেকে রাংপো পর্যন্ত মোট পাঁচটি স্টেশন তৈরি করা হচ্ছে। স্টেশনগুলি হল যথাক্রমে সেবক, রিয়াং, তিস্তা, মল্লি এবং শেষ স্টেশন রাংপো। পশ্চিমবঙ্গের অংশে থাকছে সেবক, রেয়াং ও তিস্তা বাজার স্টেশন। বাকীগুলি পড়ছে সিকিমে। টানেলের ভেতরে কংক্রিটের আস্তরণ বানাতে সুইডেন থেকে আনা হয়েছে বিশেষ যন্ত্র। সেই কাজ চলাকালীনই ফের দুর্ঘটনা ঘটল।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *