নিরাপত্তা বড় বালাই: ব্যবস্থা এবং খরচা জোগাতে হিমশিম এমএলএ চন্দনা বাউড়ির

Mysepik Webdesk: এবারের একুশের বিধানসভা ভোটে যখন তৃণমূল কংগ্রেস একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জয় অর্জন করেছে, সেই সময় বিজেপির হয়ে উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত রেখে জয় পেয়েছেন অন্যতম দরিদ্র প্রার্থী চন্দনা বাউড়ি। তিনি এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন বাঁকুড়ার শালতোড়া আসন থেকে। এই আসনে ভারতীয় জনতা পার্টিকে জয় এনে দিয়েছেন পেশায় রাজমিস্ত্রির জোগাড়ে কাজ করা চন্দনা বাউড়ি।

তবে বিজেপির এই প্রার্থীর স্বামী, দুই সন্তানসহ শাশুড়িকে নিয়ে পাঁচ জনের পরিবারে নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর মতো অবস্থা। স্বামী রাজমিস্ত্রি। স্বামীর সঙ্গেই করেন জোগাড়ের কাজ। এই অবস্থায় করোনার ফলে হয়েছে লকডাউন। নানান বিধিনিষেধের জেরে রাজমিস্ত্রির কাজও এখন বন্ধ। এদিকে, চন্দনার নিরাপত্তার জন্য রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। তাঁদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করতে নাজেহাল অবস্থা এখন বিজেপির বিধায়কের।

আরও পড়ুন: কথা রাখলেন মমতা, পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি পরিবারপিছু দেওয়া হবে ৫০০ টাকা

প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে, পশ্চিমবঙ্গের ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে তাদের বিধায়কদের জন্য কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে বিজেপি। সেইমতো চারজন জওয়ান পৌঁছে গিয়েছেন চন্দনা বাউড়িকে নিরাপত্তা দেওয়ার কাজে। কিন্তু করোনার কারণে কাজ বন্ধ থাকায় অথৈ জলে পড়েছেন এই বিজেপি বিধায়ক। নিরাপত্তা বাহিনীর এই চারজনকে কী খেতে দেবেন কিংবা কোথায় রাখবেন, তা বুঝে উঠতে পারছেন না চন্দনা।

ভোটের আগে নির্বাচনী হলফনামায় চন্দনা জানিয়েছিলেন যে, মাত্র ৩১ হাজার ৯৮৫ টাকা তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ। অন্যদিকে, তাঁর স্বামীরও সম্পত্তির পরিমাণ মাত্র ৩০ হাজার ৩১১ টাকা। তাঁদের ৩টি গরু এবং ৩টি ছাগল রয়েছে। তাছাড়াও জানা গিয়েছে যে, তাঁদের বাড়ির টালির চালিও পর্যন্ত ফুটো। সেই ভাঙা চালির ছিদ্র দিয়ে অবলীলায় ঘর পর্যন্ত গড়িয়ে পড়ে বৃষ্টির ফোঁটা কিংবা প্রবল দাবাদহে সপাটে হূল ফোটায় সূর্যের তেজ। এই অবস্থায় নিরাপত্তারক্ষীদের জন্য কীভাবে অন্নের জোগান করবেন, তা ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছেন না বিজেপির এই ‘দরিদ্রতম’ এমএলএ।

আরও পড়ুন: যশ মোকাবিলায় দিঘায় নামল সেনা

সূত্রের খবর, আপাতত তিনি তাঁর আত্মীয় বাড়িতে নিরাপত্তারক্ষীদের গিয়েছেন। তাঁদের প্রাতরাশ করাচ্ছেন মুড়ি-আলুভাজা দিয়ে। চন্দনার এই অবস্থা দেখে দেহরক্ষীরাই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে বাজার থেকে সবজি কিনে দিচ্ছেন। সাহায্য নিতে কষ্ট হলেও নিরুপায় নুন আনতে পান্তা খেয়ে দিন গুজরান করা চন্দনা।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *