জাপান-মায়ানমার ম্যাচে রাজনীতির ছায়া: রাজনৈতিক আশ্রয় চাইলেন মায়ানমার গোলরক্ষক

Mysepik Webdesk: লিয়ান আউং। তিনি মায়ানমার দলের গোলরক্ষক। মায়ানমারের জাতীয় ফুটবল দল যখন জাপানে ২০২২ সালের বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের ম্যাচ খেলতে গেল (২৮ মে), দলের সঙ্গে গিয়েছিলেন ২৭ বছর বয়সি এই গোলকিপার। ধারেভারে জাপানের থেকে অনেক পিছিয়ে থাকা মায়ানমার জাপানের বিরুদ্ধে ১০ গোলে হেরেছিল। সেই দলের অতিরিক্ত গোলকিপার ছিলেন আউং। তবে সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে তাঁর নাম উঠে আসে খেলার মাঠের অন্য একটি ঘটনার কারণে। কারণটা কিছুটা রাজনৈতিকও বটে। জাপানের বিরুদ্ধে ম্যাচ শুরুর আগে মায়ানমারের জাতীয় সংগীত বেজে উঠেছিল। ঘটনার সূত্রপাত ওখানেই। জাতীয় সংগীত গাইতে গাইতে এই গোলকিপার ডানহাতের তিনটি আঙুল ওপরে তুলে ধরেন। উদ্দেশ্য ছিল, সামরিক জান্তার বিরোধিতা করা। হাত ওপরে করায় দেখা যায় যে, তাঁর বাহুতে ইংরেজিতে লেখা রয়েছে, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিজ’ অর্থাৎ আমরা ন্যায়বিচার চাই।

আরও পড়ুন: ১১৭ বছর বাদে রিয়ালে ‘অস্প্যানিশ’ অধিনায়ক, নতুন অধিনায়ক মার্সেলো

এরই মধ্যে মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সুখকর নয়। সেনা অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ জাপান থেকে সরে গিয়ে হবে জাপানের ওসাকায়, এমনই স্থির হয়। জাপান ম্যাচের পর ১৫ মে মায়ানমারের খেলা ছিল তাজিকিস্তানের বিপক্ষে। গোটা মায়ানমার দল তাজিকিস্তানের সঙ্গে খেলার জন্য জাপানেই রয়ে যায়। যদিও ম্যাচে ০-৪ গোলে পরাজিত হয় অং সান সু কি-র দেশের জাতীয় দল। উল্লেখ্য যে, এই ম্যাচের প্রথম গোলটি (৩৪ মিঃ) করেছিলেন কলকাতার মোহনবাগানে খেলে যাওয়া আই লিগ জয়ী দলের সদস্য কোমরান তুরসুনাভ।

আরও পড়ুন: দেশ, সীমান্ত এবং মিলখা সিংয়ের রূপকথা

জাপান এবং তাজিকিস্তান, দু’টি ম্যাচের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, আউংয়ের দিকে নজর কিন্তু অনেকেরই। তিনি নিজেও বুঝতে পেরেছিলেন যে, দেশে ফিরলে হয়তো চাপের মুখে পড়তে পারেন। সেই কারণে মায়ানমার ফিরতে চাননি আউং। মায়ানমারের জাতীয় দল ১৬ রাতে কানসাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে দেশে ফিরেছে। আউং-ও দলের সঙ্গে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। তবে, শেষ মুহূর্তে নিজের অবস্থার কথা জাপানের কর্তৃপক্ষের কাছে বর্ণনা করে বিমানে না চড়ে জাপানে রয়ে যান তিনি। তাই দলের বাকিরা ফিরে গেলেও তিনি রয়ে গেছেন জাপানে। জাপান সরকার কিন্তু সামরিক জান্তা-বিরোধী অবস্থান নিয়েছে। তাছাড়াও জাপানের নাগরিকরাও মায়ানমার ইস্যুতে সহানুভূতিশীল। সেই কারণেই ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন যে, হয়তো অল্প সময়ের মধ্যেই শরণার্থীর মর্যাদা পেয়ে যাবেন লিয়ান আউং। তবে, এই ফুটবলার জাপানে দীর্ঘ সময়ের জন্য থেকে যেতে পারবেন কিনা, তা এখন নির্ভর করছে জাপানের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের ওপর।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *