শান্তিপুরের সাহাপাড়া বারোয়ারি তাঁত শ্রমিকদের ক্লান্তি দূর করে

তিরুপতি চক্রবর্তী

সুদীর্ঘ এক স্বর্ণালি অতীতের সরণি বেয়ে দেবী দুর্গা পূজিত হয়ে চলেছেন সাহাপাড়া বারোয়ারিতে। প্রায় ১৫০ বছরের দীর্ঘ পথচলার পরতে পরতে লেগে আছে উৎসবের রঙিন গল্পগাথা।

আরও পড়ুন: ৯৭ বছরে ঝাড়খণ্ডের ‘বাবুপাড়া’ রেল কলোনি ভোজুডির দুর্গাপুজো

ইতিহাস ঘাঁটলে আমরা এই পাড়ার এক প্রৌঢ়ের কথা জানতে পারি, যিনি গঙ্গাস্নানে গিয়ে একটি ভাসমান পাটাতন পান। সেটিকে পাড়ায় এনে শান্তিপুরের প্রখ্যাত মৃত শিল্পী অজিত পালকে দেখান। তিনি  সেটিকে দেবী দুর্গার পাট হিসাবে চিহ্নিত করলে তাঁরা সেটি পাল বাড়িতে নিয়ে যান৷ সেখানে অজিত পাল মহাশয় এই পৌরাণিক দুর্গামূর্তি  নির্মাণ করেন। সেই থেকে সাহাপাড়া বারোয়ারির পথ চলা শুরু।

আরও পড়ুন: তখন কালীগঞ্জ উপজেলা, দেবহাটা, গাজিরহাট, পারুলিয়া, নলতায় দলবেঁধে পুজো দেখতে শুরু করেছি

এই পুজোও এতদঞ্চলে বুড়ো বারোয়ারি নামেই পরিচিত। সাহাপাড়া তাঁতপ্রধান শান্তিপুরের আদি জায়গা৷ যেখানে ছিল বনেদি শাড়ি কারিগরদের বাস। সেই বনেদিয়ানার ছোঁয়া লাগল দেবীমূর্তির অঙ্গে।

আরও পড়ুন: ২৪৯ বছরের পুরনো শান্তিপুরের ডাবরে পাড়া বুড়ো বারোয়ারি

পালেরা মূর্তি তৈরি করে দেবার পর দেবীর সম্পূর্ণ অঙ্গসজ্জা এলাকাবাসীরা নিজহাতে তৈরি করতেন। এজন্য এই বারোয়ারির চালচিত্র ও সাজসজ্জা একক ও অনন্য। আজ ও এই পাড়ার সকল অধিবাসী মিলেই শোলা, জরি, বুলেন, জ্যামেরা প্রভৃতি দিয়ে নির্মাণ করেন দেবীর অঙ্গসজ্জা। অপরূপ অঙ্গসজ্জায় দেবী ঝলমল করে ওঠেন পঞ্চমী থেকে দশমী অবধি।

সারাবছরের ক্লান্ত তাঁত শ্রমিকদের আনন্দের জায়গা হয়ে ওঠে এই পুজো প্রাঙ্গণ। ক্লান্তি যেন একনিমেষে উধাও হয়ে যায় তখন। তাই পাড়ার ছেলে বুড়োরা যেমন দেবীর অঙ্গসজ্জায় মেতে ওঠেন, তেমনি পাড়ার মহিলারা দেবীর ভোগ  রাঁধা থেকে বিতরণ অবধি দায়িত্বের সঙ্গে পালন করেন।

সন্ধ্যাবেলায়, পাড়ার  সবাই একত্রিত হয়ে মন্দির প্রাঙ্গণকে উৎসবমুখর করে তোলেন। তাঁদের কলতানে ঢাকা পড়ে যায় সারাবছরের ক্লান্তিকর দীর্ঘশ্বাস। পাঁচ দিনের এই আনন্দ তাঁদের সারাবছরের কাজের শক্তি জোগায়। একটা  লাইন বাদ গেছে। আর হ্যাঁ, বর্তমানেও দেবী মূর্তি বংশ পরম্পরায় অজিত পালের বংশধর প্রদীপ পাল করছেন।

ছবি লেখক

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *