সনেট

শুভদীপ মৈত্র


শব্দহীন উচ্চারণে পড়ছ আমায়
কাঁটার স্পন্দনে বিদ্ধ সময়ের স্রোত
মাঝবয়সে এনেছে উগ্র নিরুপায়ে
ঝরে যাওয়া পাতার ঋজু এক স্তোক।
অঝর বৃষ্টিতে জানি খুশি হয় চাষা
ফসল-সম্ভব জমি, সক্রিয় লাঙল,
থাকে পাট্টার আশ্বাস কিছু, ঘামে মেশা
কিছু মহাজনী সুদ করে সে সম্বল।

আশ্বিনে মেঘের মতো তীব্র ও অক্ষম
প্রতিটা সাধ উড়ছে তা বাষ্পীভবনে।
এদেশ নিষ্ফলা দেখো সংবেদ কম
টিঁকে থাকার দুর্বল ঐতিহ্যবহনে,
অশক্ত আঙুলে লেখা ছিরিছাঁদহীন
চোখ ছুঁয়ে করো তবু আমৃত্যু স্বাধীন।

আরও পড়ুন­­: পরিশিষ্ট


আমি আজ চুপচাপ নাটুকে আকাশ
তারা আর মেঘেদের লড়াই দাপটে
ছিঁড়ে যাচ্ছে মাথা আর স্নায়ুও অবশ,
এ সময় বারবার কারা পিছু হটে?
তারা আলোর সন্ধানী না নিতান্ত খল?
তাই অভ্যাসবশত কেটেছে চুকলি
পাবলিক ট্রান্সপোর্টে আর কাদাজল;
খামোখা আমাকে ছুড়ে বশ্যতা শেখালি।

সুদৃঢ় সংকেত তবু জিনমানচিত্রে
লেখা দেখো, ভেঙেচুড়ে পড়ে রিরংসা,
ব্যাধির মতো রয়েছে সেসব পবিত্র
দোলাচল দূরগামী বেহিসেবি ভাষা।
দূর থেকে বিনিময়ে তবু হলে অপ্রস্তুত
আমি শুধু কালি দিয়ে জুড়িয়েছি ক্ষত।

আরও পড়ুন: বর্ষা সিরিজ (শেষাংশ)


সময় থমকে আছে বৃষ্টি-ভেজা ক্যাফেটার গায়ে
ভাঙা কাপে চুঁয়ে দেখো ফোঁটা ফোঁটা গড়ায় নিয়তি
তোমাকে উদোম করে কখনও শব্দ চাঁছিনি— প্রায়
এত দূত দুঃসাহসে খুইয়েছি বোধ, পরিমিতি।
শহরের বলিরেখা বৃষ্টিতে পেয়েছে আবডাল
তখন আলোর পাশে অজস্র পোকার নাচানাচি,
নেশা ও অমোঘ টান বিরক্তিতে হারায় কেবল,
ঝাপসা টেনিল শুধু খেউড়ের প্রমাদে কাছাকাছি
নিয়ে আসে আমাদের। আমি চুপ ভ্রমর গুঞ্জনে
বলে যাও কত কথা, যা হোক বিশুদ্ধ সব ভাঁট
আহ মেড মেরিয়্যান এ সামাজিকতা অকারণে
বাক্যবিস্তার, আসলে সন্ধ্যা ছিল নিজেতে ভরাট।
মিথ্যের বেসাতি ফেঁদে অকপটে ডেকেছি তোমায়
নামহীন অভিসার, চুপিসারে ভিজেছে ব্রীড়ায়।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *