‘স্পেস সবার জন্য’, স্বপ্ন সফল করে চার মানুষ নিয়ে পৃথিবীতে ফিরল মহাকাশে ঘুরতে যাওয়া মহাকাশযান

Mysepik Webdesk: আমেরিকান ব্যবসায়ী এলন মাস্কের কোম্পানি স্পেসএক্সের ড্রাগন মহাকাশযানে চড়ে চারজন সাধারণ মানুষ মহাকাশে বেড়াতে গিয়েছিলেন। অবাক লাগছে? কিন্তু এটাই সত্য। চার সাধারণ মানুষ স্পেসএক্সের ড্রাগন মহাকাশযানে চড়ে আজ আবার ফিরে এসেছেন। আজ সকালে এই মহাকাশযানটি ফ্লোরিডা উপকূলে আটলান্টিক মহাসাগরে অবতরণ করেছে। এই চারজন তিন দিন আগে ইন্সপিরিশন-৪ নামে এই মিশনে গিয়েছিলেন। ভারতীয় সময় ভোর সাড়ে পাঁচটায় স্পেসএক্স ক্যাপসুল প্যারাসুট নিয়ে সমুদ্রে অবতরণ করে। তখন আমেরিকায় সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল। সূর্যাস্তের কিছুক্ষণ আগে ক্যাপসুলটি অবতরণ করে। উল্লেখ্য, এখান থেকেই তিন দিন আগে রওনা দিয়েছিল এই স্পেস ফ্লাইটটি।

আরও পড়ুন: অক্সিজেন সংবেদন

ক্যাপসুল সমুদ্রে অবতরণের পর স্পেসএক্সের মিশন কন্ট্রোলার বলেন, “স্পেসএক্স থেকে পৃথিবীতে স্বাগতম। মিশনটি বিশ্বকে দেখিয়েছে যে স্পেস আমাদের সবার জন্য।” এলন মাস্ক এই মিশনের মাধ্যমে ২০০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। এই তহবিল সেন্ট জুড চিলড্রেনস রিসার্চ হাসপাতালকে দেওয়ার কথা ঠিক হয়েছিল। মিশনটি সম্পন্ন হওয়ার সময় ১৬০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা হয়েছিল। এরপর এলন মাস্ক তাঁর তরফে ৫০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছিলেন।

SpaceX Inspiration4 mission will send 4 people with minimal training into  orbit – and bring space tourism closer to reality | Space

এই যাত্রায় থাকা ক্রু সদস্যরা ছিলেন বিশ্বের প্রথম, কোনও পেশাদার নভোচারী ছাড়াই মহাকাশে গিয়েছিলেন তাঁরা। মিশন কমান্ডার জ্যারেড আইজাকম্যান অবতরণের পর বলেন, “অনেক ধন্যবাদ স্পেসএক্স। এটি আমাদের জন্য একটি অসাধারণ যাত্রা ছিল।” উল্লেখ্য যে, বিলিয়নিয়ার জ্যারেড আইসেকম্যান এই ভ্রমণের জন্য ইনভেসমেন্ট করেছিলেন।

আরও পড়ুন: অমরত্বের অন্বেষণ

ক্রু সদস্যরা কারা ছিলেন?

জারেড আইজাকম্যান: মিশনের পুরো কমান্ড ছিল আইজাকম্যানের হাতে। ৩৮ বছর বয়সি আইজাকম্যান Shift4Payments নামে একটি পেমেন্ট কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি মাত্র ১৬ বছর বয়সে এই কোম্পানি শুরু করেছিলেন। আজ তিনি একজন ধনকুবের। আইজাকম্যান একজন পেশাদার পাইলট। তাঁর পাইলট ট্রেনিং কোম্পানি মাধ্যমে মার্কিন বিমান বাহিনীর পাইলটদেরও প্রশিক্ষণ দেয়।

হেইলি আরকানো: হেইলি মারণঘাতী কর্কট রোগকে হারিয়ে দিয়েছেন। ২৯ বছরের হেইলি মহাকাশে যাওয়া সর্বকনিষ্ঠ আমেরিকান নাগরিক। তাঁর হাড়ের ক্যানসার ছিল। টেনেসির সেন্ট জুডস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। মিশনে হেইলি মেডিক্যাল অফিসারের দায়িত্ব পেয়েছিলেন।

শন প্রক্টর: ৫১ বছর বয়সি প্রক্টর অ্যারিজোনার একটি কলেজে ভূতত্ত্বের অধ্যাপক। প্রক্টরের বাবা অ্যাপোলো মিশনের সময় নাসার সঙ্গে কাজ করেছিলেন। তিনি নিজেও নাসার মহাকাশ কর্মসূচিতে কয়েকবার অংশ নিয়েছেন।

ক্রিস সামব্রোস্কি: ৪২ বছর বয়সি ক্রিস মার্কিন বিমান বাহিনীর পাইলট ছিলেন এবং ইরাক যুদ্ধেও অংশ নিয়েছিলেন। ক্রিস বর্তমানে মহাকাশ এবং প্রতিরক্ষা প্রস্তুতকারক লকহিড মার্টিনের সঙ্গে কাজ করছেন।

আরও পড়ুন: সূর্যে নাকি লকডাউন

বুধবার রাতে স্পেসএক্সের সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ড্রাগন রকেট ক্যাপসুলটি ছাড়ে। এর পর এটি ৫৮৫ কিমি উচ্চতায় পৌঁছে যায়। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে ক্রু ১৬০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পৃথিবীর দৃশ্য দেখেছিল। মার্কিন সময় অনুযায়ী চার ক্রু সদস্য শনিবার সন্ধ্যায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ শুরু করেন। ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো ৯-এর পর এটিই প্রথম স্পেশ ট্রাভেলার, যা আটলান্টিকে অবতরণ করে তার মহাকাশ যাত্রা সম্পন্ন করে। এর আগে, নাসার দুই স্পেস স্প্ল্যাশডাউন মেক্সিকো উপসাগরে হয়েছিল।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *