পারিবারিক অশান্তির জেরে সন্তানসম্ভবা নিজের বউকে গলায় ফাঁস দিয়ে মেরে আত্মঘাতী!

Nadia fff

নদিয়া, ১২ নভেম্বর: নদিয়ার শান্তিপুর শহরের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের সুত্রাগড় কারিগর পাড়ার কুদ্দুস নবী কারিগরের ২৭ বছর বয়সী মেয়ের সম্বন্ধ করেই বিয়ে দিয়েছিলেন পাশেরই মালঞ্চ স্ট্রিটের বাসিন্দা সাবির সেখের সঙ্গে। ৩৫ বছর বয়সী সাবির কাপড়ের সুতোর ব্যবসা করেন। চলতি বছরেই ফেব্রুয়ারি মাসে বিবাহের পর জুন মাস নাগাদ অন্তঃসত্ত্বা হয় দিলরুবা। কুদ্দুস নবী কারিগরের জানান, বিয়ের পর থেকেই তার কন্যা শ্বশুর বাড়িতে পাওয়ার লুমে তাঁতের কাপড় বোনার কাজের মাধ্যমে যথেষ্ট উপার্জনে সক্ষম ছিল। তবে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কারণে সেই উপার্জন কমে যাওয়ায় প্রায়ই বচসা লেগে থাকতো জামাই সাবির সেখ এবং তার মায়ের সাথে।

আরও পড়ুন: তপসিয়ার পর এবারে কালীঘাটের বস্তিতে আগুন, দগ্ধ হয়ে মৃত্যু বৃদ্ধার

দিলরুবার বাবা আরও জানান, লকডাউনের ফলে জামাই সাবির সেখর রোজগার কমে যাওয়ায় সপ্তাহে তিন চারদিন তাঁর বাড়িতেই থাকতেন। গতকালকেও রাত ন’টা নাগাদ একইসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করে যে যার ঘরে ঘুমাতে যায়। এদিন সকালে কুদ্দুস বাবুর বড় ছেলে মোটরসাইকেল বের করার জন্য ডাকাডাকি করেও সাবির সেখর কোন সাড়াশব্দ পাননি। অবশেষে টিনের দরজা ভেঙে দেখেন দিলরুবা মৃত অবস্থায় বিছানায় পড়ে রয়েছে এবং জামাই গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছে।

আরও পড়ুন: কোনও টেস্ট পরীক্ষা ছাড়াই ২০২১ সালের মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকে বসতে পারবেন ছাত্র-ছাত্রীরা: মুখ্যমন্ত্রী

স্থানীয় প্রশাসনকে ফোন করলে, দুটি মৃতদেহই ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যান। পরিবার সূত্রে জানা যায় জামাই বাজার একটি দোকান থেকে গতকাল সন্ধ্যায় লাইলন দড়ি কিনেছিল। মৃত দিলরুবার গলাতেও দড়ির চিহ্ন দেখে গেছে। তারা অনুমান করেছেন দিলরুবাকে গলায় ফাঁস দিয়ে মেরে তারপরে আত্মঘাতী হয়েছে জামাই। এই বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পত্র জমা না দিলেও, কর্মরত দুই ছেলে কলকাতা থেকে আসার পরই এই বিষয়ে সিদ্ধান্তে নেওয়া হবে বলে জানান।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *