‘উন্নয়নবিরোধী’ এক প্রকৃতিপ্রেমিক মানবদরদি সুন্দরলাল বহুগুনা

সুদীপ মণ্ডল

কোভিড অতিমারির মৃত্যুমিছিলে হারিয়ে গেলেন হিমালয়ের অতন্দ্র প্রহরী সুন্দরলাল বহুগুনা। সারা পৃথিবী তাঁকে চেনে চিপকো আন্দোলনের নায়ক হিসেবে। গত ৮ মে থেকে কোভিড আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, ২১ মে শুক্রবার তাঁর মৃত্যু হয়। ভারতবর্ষ তথা এশিয়া মহাদেশের পরিবেশ আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন তিনি। সারা জীবন ধরে পরিবেশ ও প্রকৃতির সংরক্ষণ, মানুষের অধিকারের জন্য কথা বলে গেছেন তিনি। স্রোতের উল্টো দিকে সাঁতার কাটার জন্য সারা জীবন পেয়ে গেছেন উপেক্ষা-অবহেলা, ক্ষমতার চক্ষুশূল হয়েছেন বারেবারে। নানা রকম প্রতিবন্ধকতা ও বিরোধিতা সত্ত্বেও কখনও দমে যাননি, আদর্শের থেকে এক মুহূর্তের জন্যও বিচ্যুত হননি। জাগ্রত বিবেকের মতো বারবার আয়না দেখিয়েছেন ক্ষমতা-দম্ভী শাসককে।

আরও পড়ুন: আম চাষ: ইতিহাস-বৃক্ষ ঘেঁটে

Sunderlal Bahuguna: The man who taught India to hug trees - BBC News

সুন্দরলাল বহুগুনার জন্ম অধুনা উত্তরাখণ্ড রাজ্যের তেহরি গাড়ওয়াল জেলার মারোদা গ্রামে ১৯২৭ সালে। দেশ তখন সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটেনের পদানত। দেশে তখন সবথেকে বড় নেতা মহাত্মা গান্ধি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে গান্ধি কোনো রাজনৈতিক নেতা নন, দৈব শক্তির অধিকারী ‘গান্ধিবাবা’। ‘অলৌকিক শক্তির অধিকারী’ গান্ধিবাবা হিংসায় বিশ্বাসী নন, তিনি অহিংসার কথা বলেন, সত্যাগ্রহের কথা বলেন, আত্মপীড়নের মাধ্যমে পরোক্ষ প্রতিরোধের কথা বলেন। টুকরো টুকরো কথা কানে যায় ছোট্ট সুন্দরলালের। অহিংসার পথে কি স্বাধীনতা পাওয়া সম্ভব? ‘সূর্য অস্ত না যাওয়া সাম্রাজ্য’র অধিকারী ব্রিটেন কি কখনও অহিংসার পথে ভারতবর্ষকে স্বাধীনতা দেবে? কৈশোরেই নানারকম সংশয় মনকে বিচলিত করত। আরেক দিকে একদল আগুন-খেকো যুবক বন্দুক-বোমা হাতে সম্রাজ্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মত্ত। বাংলা-পঞ্জাব-মহারাষ্ট্রে তারা লড়ছে। কিন্তু গান্ধির পথই বরাবর আকর্ষণ করত সুন্দরলালকে।

সেই সময় তেহরি গাড়ওয়াল জেলা ছিল গাড়ওয়াল রাজবংশ-শাসিত দেশীয় রাজ্যের অধীন। জেলার যুবকদের একমাত্র লক্ষ্য পড়াশোনা করে রাজদরবারে চাকরি পাওয়া। কৈশোরের শুরুতেই সুন্দরলালের উপর প্রভাব বিস্তার করলেন শ্রীদেব সুমন (১৯১৬-১৯৪৪); সুমনজির লড়াই ছিল সামাজিক অসাম্যের বিরুদ্ধে, রাজার অপশাসনের বিরুদ্ধে। শ্রীদেব সুমন কিশোর সুন্দরলালকে বুঝিয়েছিলেন প্রথাগত পড়াশোনার অসারতা সম্পর্কে। রাজদরবারের চাকরির প্রলোভনকে গুরুত্ব না দিয়ে মাত্র ১৩ বছর বয়স থেকেই সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত হন সুন্দরলাল বহুগুনা।  অস্পৃশ্যতা নামক দুরারোগ্য ব্যাধিটি ভারতীয় সমাজ জীবনকে পীড়িত করে আসছিল বহু শতাব্দী ধরে, প্রথম জীবনে তিনি অস্পৃশ্যতা-বিরোধী আন্দোলনে শামিল হন। তাঁর রাজনৈতিক গুরু শ্রীদেব সুমনের নেতৃত্বে অংশ নেন মধ্যযুগীয় সামন্ততান্ত্রিক রাজার অপশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে। ১৯৪৪-এ রাজার কারাগারে অত্যাচারের বিরোধিতায় আমরণ অনশনে মৃত্যু হয় শ্রীদেব সুমনের। এই ঘটনা প্রবলভাবে নাড়া দিয়েছিল সুন্দরলালকে।

আরও পড়ুন: ইসরাইল-প্যালেস্তাইন সংঘাত, একপেশে মিডিয়া

গান্ধিজির আদর্শকে পাথেয় করে সুন্দরলাল ঘুরতে লাগলেন গ্রামে গ্রামে, মানুষের সমস্যার সঙ্গে পরিচিত হতে থাকলেন। পাহাড়ি মহিলাদের দুঃখ-দুর্দশাপূর্ণ জীবনকে দেখলেন খুব কাছ থেকে। মদ্যপ স্বামীদের অকর্মণ্যতা, অত্যাচারে গ্রামের মহিলাদের জীবন দুর্বিষহ। পাহাড়ের গ্রামীণ মহিলাদের সংগঠিত করে মদ্যপান-বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুললেন তিনি। যথেষ্ট সাড়া পাওয়া গেল এই আন্দোলনে। ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতবর্ষে সাম্রাজ্যের প্রয়োজনে নানা রকম উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। ১৮৫৩ সালে ভারতে রেলপথের প্রচলন হয়। দুর্বার গতিতে এই রেলপথ জালের মতো সমগ্র ভারতবর্ষকে বেষ্টন করে ফেলতে থাকে। রেলের স্লিপার আর জ্বালানির কাঠ সংগ্রহের জন্য ধ্বংস করা হতে থাকে হিমালয়ের বনভূমিকে, এছাড়া সাহেবদের জন্য বিলাসবহুল বাংলো, আসবাব ইত্যাদি তো ছিলই। মুহূর্তে অদৃশ্য হয়ে যেতে থাকল নিবিড় হিমালয়ের বনভূমি। সুন্দরলাল বুঝলেন শিল্প বিপ্লব পরবর্তী পৃথিবী যাকে উন্নয়ন বলে ভাবছে, তা প্রকৃতি ও পরিবেশের স্বার্থের পরিপন্থী। পদব্রজে ৪৭০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সুন্দরলাল দেখলেন মানুষের ভোগবাদী জীবন ও সংস্কৃতি পরিবেশের কতটা ক্ষতিসাধন করছে। গান্ধির সরল জীবনাদর্শে বিশ্বাসী সুন্দরলাল অনুভব করলেন সভ্যতার সংকট অনিবার্য। আর এই সংকট থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায়, ভোগবাদের বিপরীতে সরল জীবনাদর্শকে গ্রহণ। এই সময়পর্বে তিনি পরিচিত হয়েছেন গান্ধিজির অনুগামী মীরা বেন ও সরলা বেনের সঙ্গে। ইংল্যান্ডের অভিজাত পরিবারের সন্তান এই দুই নারী সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের জীবন ত্যাগ করে ভারতবর্ষে এসেছেন, গান্ধিজির কর্মযজ্ঞে শামিল হবেন বলে। এঁরা বৃহৎ উন্নয়ন-বিরোধী, বড় নদীবাঁধের বিরুদ্ধে ছোট ছোট সেচ বাঁধের কথা বলেন, বৃহৎ কারখানার পরিবর্তে গ্রামীণ কুটিরশিল্প-ভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থার কথা বলেন। এঁরা মনে করেন, ইউরোপের ধাঁচের উন্নয়ন ভারতবর্ষের নিম্নবর্গের মানুষদের কোনো উপকার করতে পারবে না। এদের কথাগুলো ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছিল সুন্দরলালকে। তিনি পণ করলেন সারা জীবন ভোগবাদের বিরুদ্ধে লড়ে যাবেন। এই কাজে সঙ্গে পেয়েছিলেন তাঁর যোগ্য সহধর্মিণী বিমলাকে। বিমলা ছিলেন মানুষের সেবায় নিবেদিতপ্রাণ। তাঁদের বিয়ের শর্তই ছিল, সারা জীবন মানুষের সেবায় কাজ করা।

আরও পড়ুন: তিরিশ বছর পরে: সেদিনের সেই অভিশপ্ত রাত

১৯৬২-র ভারত-চিন যুদ্ধের পর থেকেই ভারত সরকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকে নজর দেয়। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করার জন্য কাশ্মীর থেকে অরুণাচলপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় সড়ক নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই প্রক্রিয়ার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হিসেবে হিমালয় অঞ্চলের বৃক্ষচ্ছেদন প্রক্রিয়া অনেক গুণ বৃদ্ধি পায়। সুন্দরলাল বহুগুনা চণ্ডিকাপ্রসাদ ভাটের মতো পরিবেশপ্রেমী মানুষেরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে বৃক্ষচ্ছেদনের কুফল সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে থাকেন।

১৯৭৪-এ শুরু হয় বিখ্যাত চিপকো আন্দোলন। হিন্দি ‘চিপকো’ শব্দের অর্থ জড়িয়ে ধরো, স্থানীয় মানুষরা ঠিকাদারদের হাত থেকে গাছ বাঁচাতে গাছগুলোকে জড়িয়ে ধরেন। কুঠারাঘাত যেন গাছে লাগার আগে গ্রামবাসীদের আহত করে। স্বতঃস্ফূর্ত এই আন্দোলনে মহিলাদের অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সুদেষ্ণা দেবী, গৌরী দেবীর মতো মহিলারা আন্দোলনের একেবারে সামনের সারিতে ছিলেন। সভ্যতার ঊষালগ্নে মহিলারা যেমন প্রথম কৃষিকাজের পদ্ধতি শিখেছিল, প্রকৃতিকে শোষণ না করে প্রকৃতি থেকে সম্পদ আহরণের পদ্ধতি শিখেছিল, ঠিক তেমনি বিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ভারতবর্ষের গ্রামের মহিলারা প্রকৃতির রক্ষাকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। অহিংস পদ্ধতিতে এই সত্যাগ্রহ আন্দোলন সারাবিশ্বের নজর কেড়েছিল। সুন্দরলাল বহুগুনার নেতৃত্বে সংঘটিত হয়েছিল সুদীর্ঘ ৫০০০ কিলোমিটারব্যাপী পরিবেশ সচেতনতার পদযাত্রা, গ্রামে গ্রামে ঘুরে তাঁরা সাধারণ গ্রামবাসীকে সচেতন করতে থাকেন। চতুর্দিকে স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন গড়ে উঠতে থাকে। আন্দোলনের তীব্রতায় বিচলিত উত্তরপ্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হেমবতীনন্দন বহুগুনা একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেন, কমিটির রিপোর্ট গ্রামবাসীদের পক্ষে যায়। ১৯৭৭ সালে ওই অঞ্চলের মহিলারা গাছেদের রাখি বাঁধার অনুষ্ঠান করে। এই আন্দোলন ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ১৯৮০ সালে সুন্দরলাল বহুগুনা ভারতবর্ষের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধির সঙ্গে দেখা করেন। এই সাক্ষাতের ফল হিসেবে শ্রীমতী গান্ধি গাড়োয়াল অঞ্চলে পরবর্তী ১৫ বছরের জন্য বৃক্ষচ্ছেদন নিষিদ্ধ করেন।

আরও পড়ুন: বন্যালাগা গাঁয়ে…

স্বাধীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নেহরু রাশিয়ায় সংগঠিত শিল্পায়নের ধারায় ভারতের শিল্পায়ন সংগঠিত করতে চেয়েছিলেন। বড় বাঁধ, বড় শিল্প কারখানার মাধ্যমে উন্নয়নের জোয়ার আনতে চেয়েছিলেন। দারিদ্র্য দুর্ভিক্ষপীড়িত দেশে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সবুজ বিপ্লব সংগঠিত করা হয়েছিল। সুন্দরলাল বহুগুনার মতো গান্ধিবাদীরা এর বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁদের মতে, বড় প্রযুক্তির জায়গায় ছোট প্রযুক্তি বেশি মানুষের মঙ্গল করতে পারে। কিন্তু এই বিরোধী কণ্ঠস্বরগুলিকে সেইসময় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

সুন্দরলাল বহুগুনা তেহরি বাঁধ বিরোধী আন্দোলনেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত ছিলেন। তিনি সত্যাগ্রহ ও অনশনের মাধ্যমে তাঁর প্রতিবাদকে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন শাসকের কাছে। ১৯৯৫ সালে তিনি দীর্ঘ ৪৫ দিন ব্যাপী অনশন করেছিলেন। ভারতবর্ষের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসিমা রাও প্রতিশ্রুতি দেন যে, তিনি এই বাঁধ নির্মাণের বাস্তুতান্ত্রিক প্রভাব অনুসন্ধান করে দেখবেন। এই প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরেও বিশেষ কোনো কাজ হয়নি, পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়া এই বিষয়ে অনুসন্ধান চালানোর প্রতিশ্রুতি দেন। সুপ্রিম কোর্টে এক দশক ধরে এই মামলা চলা সত্ত্বেও এই প্রকল্পে কাজ চলতে থাকে। আন্দোলনে অংশ নিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার হতে হয় (২০ এপ্রিল ২০০১)।

বলা বাহুল্য, চিপকো আন্দোলনকে যদি ভারতের আধুনিক পরিবেশ আন্দোলনের সূত্রপাত বলে ধরা হয়, তাহলে সুন্দরলাল বহুগুনাকে নিঃসন্দেহে এই আন্দোলনের এক বড় কর্মী বলা যেতে পারে। তিনি জনসংযোগের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা যেভাবে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ছড়িয়ে দেন, তাতেই এই আন্দোলন সাফল্য পায়। সমালোচকেরা তাঁকে উন্নয়নবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করতে চান। কিন্তু তিনি উন্নয়নবিরোধী নন, তিনি চিরকাল অপরিকল্পিত উন্নয়নের বিরোধিতা করেছেন। যে উন্নয়ন মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের উপকারে আসে, আর দরিদ্র প্রান্তিক মানুষদের জীবন-জীবিকার অধিকার কেড়ে নেয় সেই উন্নয়নকে তিনি প্রকৃত উন্নয়ন বলে স্বীকার করতেন না।

আরও পড়ুন: দেবেশ রায়ের ‘মফস্বলি বৃত্তান্ত’

‘বড় বাঁধ’ স্বাধীনতার পর লক্ষ লক্ষ প্রান্তিক আদিবাসী মানুষকে গৃহচ্যুত, কর্মচ্যুত করেছে। ‘সবুজ বিপ্লব’ জন্ম দিয়েছে অন্য এক ধরনের সাম্রাজ্যবাদের। লক্ষ লক্ষ দেশীয় প্রজাতির বীজ হারিয়ে গেছে, তার জায়গায় এসেছে উচ্চ ফলনশীল বীজ। উচ্চ ফলনশীল বীজের তৃষ্ণা মেটাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হতে হয়েছে দরিদ্র কৃষকদের। কীটনাশক, রাসায়নিক সার পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। উত্তর ভারতের ‘বীজ বাঁচাও’ আন্দোলনের সামনের সারিতে দেখা গেছে সুন্দরলাল বহুগুণাকে। রাষ্ট্র তাঁর কাজকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছে, ১৯৮১তে পদ্মশ্রী, ২০০৯-এ পদ্মবিভূষণ সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন তিনি। কিন্তু কতটুকু শোনা হয়েছে তাঁর কথা? আজও কি পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টিকে রাষ্ট্র যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়? নাকি শুধু আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদানের মধ্য দিয়েই রাষ্ট্র তার কর্তব্য শেষ করেছে?

সম্প্রতি গঙ্গা নদী বাঁচানোর দাবিতে অনশনে প্রাণ দিয়েছেন অধ্যাপক জি ডি আগরওয়াল। আজ গঙ্গাবক্ষে ভেসে চলেছে পচা গলা কোভিড রোগীদের দেহ। আমাদের নিশ্চিন্ত জীবনে কতটুকু আলোড়ন তুলতে পেরেছেন অধ্যাপক আগরওয়াল? আমরা কি তাঁকে মনে রেখেছি? হয়তো মনে না রাখা, উপেক্ষাই তাঁদের পুরস্কার। সুন্দরলাল বহুগুনা, জি ডি আগরওয়ালরা আজীবন কাজ করে যাবেন আর আমরা নির্লিপ্ত উদাসীনতায় সমস্ত কিছু শেষ হয়ে যেতে দেখব!

লেখক পরিবেশ ইতিহাসের গবেষক

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *