‘অন্য টাটা’র অনন্য পদক্ষেপ, অন্যান্য সুবিধা সহ করোনায় মৃত কর্মচারীর পরিবারকে ৬০ বছর অবধি পূর্ণ বেতনের ঘোষণা

Mysepik Webdesk: টাটা স্টিল এই করোনাকালে তার কর্মীদের স্বার্থে একটা মহাগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, করোনায় মৃত টাটা স্টিলের কর্মচারীদের পরিবারকে ৬০ বছর পর্যন্ত মাসিক বেতন দিয়ে যাবে তারা। কেবল তা-ই নয়, মৃত কর্মচারীর পরিবারকে সমস্ত চিকিৎসা-সুবিধা সহ দেওয়া হবে আবাসনও। তাছাড়াও কোভিড-১৯’এর কবলে প্রয়াত ফ্রন্টলাইন কর্মীদের সন্তানদের পড়াশোনার বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে রতন টাটার কোম্পানি। টাটা স্টিল বলেছে, এই জাতীয় কর্মচারীদের সন্তানদের স্নাতক শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত পড়াশোনার ব্যয়ভার গ্রহণ করবে।

আরও পড়ুন: বিশাখাপত্তনমের পেট্রোলিয়াম প্ল্যান্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

টাটা স্টিলের এই উদ্যোগটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুবই প্রশংসিত হচ্ছে। গৌতম চৌহান লিখেছেন যে, সংস্থার এই সিদ্ধান্ত প্রশংসনীয়। দেশের প্রতিটি কোম্পানিতে টাটার কাছ থেকে শিখতে হবে। সমীর পাদারিয়া লিখেছেন, এই সিদ্ধান্তের জন্য রতন টাটাকে সালাম। উনি দেখিয়েছেন যে, সত্যিই বড় হৃদয়বান তিনি। অমিত শান্ডিল্য লিখেছেন, এটিই টাটার কাজ করার পদ্ধতি। আমি আনন্দিত যে, আমি এই কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। টাটা গ্রুপ কোনও ব্যবসা নয়, এটি একটি সংস্কৃতি।

আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্ট থেকে ফিরল নারদ মামলা, ‘খেলা হবে’ হাইকোর্টেই

টাটা গ্রুপের সংস্থাগুলি সবসময়ই তাদের কর্মীদের সহায়তা করে আসছে। টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস)-এর মতো সংস্থাগুলি কর্মীদের সুবিধার্থে বিভিন্ন মান নির্ধারণ করেছে। টাটা স্টিল দেশের প্রথম কোম্পানি, যারা তাদের কর্মীদের জন্য ৮ ঘণ্টা কাজ, বোনাস, সামাজিক সুরক্ষা, মাতৃত্বকালীন ছুটি, কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড প্রদান করা শুরু করেছিল। টাটার উদ্যোগের পরেই দেশের অন্যান্য কোম্পানি এই জাতীয় নিয়ম চালু করেছিল।

টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান রতন টাটা কেবল একজন সফল শিল্পপতি হিসাবে নন, একজন মহান মানুষ এবং সমাজসেবী হিসেবেও সম্মান অর্জন করেছেন। কেন্দ্রকে ১৪৮৫ মেট্রিক টন অক্সিজেন দিয়েছিল স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড। টাটা স্টিল দিয়েছিল ১১৫৪ মেট্রিক টন অক্সিজেন। তাছাড়াও রাষ্ট্রীয় ইস্পাত নিগম লিমিটেড দিয়েছিল ১৫৮ টন অক্সিজেন। গতবছর করোনার কারণে অনেক সংস্থাই ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে বহু কর্মচারী ছাঁটাই করা শুরু করেছিল। সেই সময়ে রতন টাটা বলেছিলেন যে, সংস্থাগুলির শীর্ষনেতৃত্বে সহানুভূতির অভাব রয়েছে। কর্মচারীরা তাঁদের পুরো জীবন সংস্থার জন্য ব্যয় করেছেন এবং করোনা মহামারির মতো সংকটের সময় পাশে থাকার পরিবর্তে, তাঁদের কর্মহীন করে তুলেছে। তিনি আরও বলেছিলেন যে, যাঁরা আপনার জন্য কাজ করলেন আপনি তাদেরকেই কাজ থেকে ছড়িয়ে দিলেন।

আরও পড়ুন: যশের মোকাবিলায় শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হল ট্রেন-বিমান-জাহাজ

রতন টাটার কথায়, মুনাফা আদায় করা ভুল নয় এবং তা অর্জন নৈতিক ভাবে করা উচিত। আপনি মুনাফা অর্জনের জন্য, যা করছেন তা অপরিহার্য। শুধু তাই না সংস্থাগুলির গ্রাহক এবং শেয়ার হোল্ডারদেরও যত্ন নেওয়া উচিত। এই সমস্ত দিক গুরুত্বপূর্ণ। কর্তৃপক্ষকে তাদের জিজ্ঞাসা করা উচিত, তারা যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সেগুলি সঠিক কিনা। উল্লেখ্য, টাটা স্টিল এই করোনাকালে যে বিশেষ সোশ্যাল সিকিউরিটি সিস্টেমের কথা জানিয়েছে, তার জন্য রতন টাটাকে একপ্রকার মসীহা হিসাবে দেখছেন নেটনাগরিকরা।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *