২০২০-র দশটি অত্যাশ্চর্য আবিষ্কার

অনিন্দ্য বর্মন

২০২০ মানব সমাজের কাছে বিভীষিকা। বছর শুরু হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার দাবানল দিয়ে। প্রায় শতাধিক মানুষ এবং সহস্রাধিক পশু এই দাবানলে প্রাণ হারায়। মার্চ মাস থেকে শুরু হয় করোনা বা কোভিড-১৯ ভাইরাসের কারণে দুনিয়াজোড়া লকডাউন। মে মাসে আমফান ঝড়ের মুখোমুখি হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। এছাড়াও দেখা যাচ্ছে, নভেম্বরের শেষে লন্ডনে পুনরায় যে করোনাভাইরাস হানা দিয়েছে, তা আগের থেকেও বেশি মারাত্মক এবং সংক্রামক। এক কথায় এই বছরটি কারও ভালো যায়নি। ঈদ, দুর্গাপুজো, ক্রিসমাস অধিকাংশই মানুষ বাড়িতেই কাটাতে বাধ্য হয়েছেন। লকডাউনের ফলে বেড়াতে যাওয়ার মতো অনুকূল পরিস্থিতি নেই। সমস্ত শিক্ষাপ্রাঙ্গণ ১০ মাস যাবৎ বন্ধ হয়ে আছে।

আরও পড়ুন: সুধীন-শ্যামল জুটি এবং বাঙালিয়ানায় মোড়া জিঙ্গল বেল

কিন্তু সময় থেমে থাকে না। তার সঙ্গেই চলে চর্চা, গবেষণা, নতুন খোঁজ, নতুন দিশার নির্দেশ। এই তথাকথিত খারাপ বছরেও বৈজ্ঞানিকদের প্রধান লক্ষ্য ছিল করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কার। ইংল্যান্ড, রাশিয়া, আমেরিকার মতো দেশ টিকা আবিষ্কার করলেও এখনও তা ১০০% সাফল্য পায়নি। তবুও, সময়ের নিয়মেই বিজ্ঞানের অগ্রগতি ঘটেছে। দেখা গিয়েছে যে, এই আবিষ্কারের ফলে মনুষ্য সমাজের অগ্রগতি এবং পরিবর্তন সম্ভব। এভাবেই দেখে নেওয়া যাক এই বছরের কিছু চমকপ্রদ বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার।

১. ম্যাটার-অ্যান্টিম্যাটারের ভারসাম্য বদল – সিলভিয়া পাসকোলি এবং জেসিকা টার্নার

টি২কে রিপোর্ট অনুযায়ী, লেপটন গ্রুপের কণা-বিপরীত কণার (সিপি সিমেট্রি) মধ্যে ভারসাম্যে বদলের খোঁজ পাওয়া গেছে। নিউট্রিনোস ব্যবহার করে এই লেপটনিক সিপি-র বদলের খোঁজ চালানো হয়েছিল। ৩ রকমের নিউট্রিনোস দিয়ে এটা নির্ধারণ করা হয়— ইলেকট্রন, মিউওন এবং টাউ পার্টিকেল। এক্ষেত্রে এক থেকে অন্যতে বদলের সম্ভাবনা থাকে। সিপি সিমেট্রি-কে সংরক্ষণ করলে তার দোদুল্যমানতার মান বৃদ্ধি পায় এবং মিউওন থেকে ইলেকট্রনের নিউট্রিনো বদলের সম্ভাবনা থেকে যায়। এক্ষেত্রে অ্যান্টিনিউট্রিনো-তে বদলের সম্ভাবনা দেখা গেছে। টি২কে-র গবেষণা অনুযায়ী নিউট্রিনোস পৃথিবীর মধ্য দিয়ে প্রায় ২৯৫ কিলোমিটার যাত্রা করতে সক্ষম হয়েছে। এমনটাই জাপানের কামিওকা ওবসার্ভেটরি থেকে মাটির নিচে পর্যবেক্ষণ করে জানা গিয়েছে। এই পরীক্ষায় মিউওন থেকে ইলেকট্রনের নিউট্রিনো বদলের দোদুল্যমানতার মানের পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। এই গবেষণা প্রায় ৯৫% সফল হয়েছে এবং আশা করা যায় যে, এর ফলে ব্রহ্মাণ্ডে ম্যাটার-অ্যান্টিম্যাটারের উৎপত্তির রহস্য আরও পরিষ্কার হবে।

আরও পড়ুন: গণিত দিবসে রামানুজন ও তাঁর বন্ধুত্বের কথা

২. জেট স্ট্রিম থেমে যাওয়ার ফলে ওজোন লেয়ারে উন্নতি – আলেক্সি ইউ কারপেচকো

’৮০-র দশকে অ্যান্টার্কটিক পরিমণ্ডলের ওজোন লেয়ারে প্রথম ছিদ্র আবিষ্কার করা হয়। মানুষের তৈরি ওজোন লেয়ারের (ওডিএস) এই ক্ষত মারাত্মক ক্ষতিকারক। অ্যান্টার্কটিক ওজোন লেয়ারের এই ছিদ্রটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১০-২০ কিমি উঁচুতে অবস্থান করছে। এই ছিদ্রের প্রভাব দক্ষিণ গোলার্ধে অনেকাংশেই পরেছে। এর ফলেই বিগত বছরে জেট স্ট্রিম মেরুমুখি প্রবাহিত হয়ে এসেছে। ১৯৮৭-র মনট্রিয়াল প্রোটোকলের মাধ্যমে পৃথিবীতে ওডিএস-এর প্রভাব কমানোর অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। এই প্রথম দেখা গেল যে ওডিএস-এর মাত্রা কমেছে, যার ফলে ওজোন লেয়ারে অনেক উন্নতি দেখা গেছে এবং ছিদ্রগুলির বহরও কমেছে। বৈজ্ঞানিক ব্যানার্জি এবং তার দলের রিপোর্ট অনুযায়ী ওজোন লেয়ারের এই উন্নতির ফলে তার পারিপার্শ্বিক খারাপ প্রভাবও অনেক কমে এসেছে। এই উন্নতি কিছু ক্ষেত্রে আগেও দেখা গেছিল, কিন্তু ব্যানার্জি-র রিপোর্ট এই প্রথমবার মনট্রিয়াল প্রোটোকলের কারণে এই উন্নতিকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

আরও পড়ুন: ৯,০০০ বছর মহিলার দেহাবশেষ আবিষ্কার এবং প্রচলিত ধারণার উল্টো পুরাণ

৩. অভিজাত আইরিশ প্রাগৈতিহাসিক সমাধিক্ষেত্রের যৌন অজাচার – অ্যালিসন শেরিডন

বৈজ্ঞানিক ক্যাসিডি এবং তাঁর দল কৃষি সমাজের সামাজিক রূপরেখা পরীক্ষা করেছেন। গবেষণার বিষয়বস্তু ছিল মানুষের সমাধি। আইরিশদের বিখ্যাত সমাধিক্ষেত্র হল নিউগ্র্যাঞ্জ। সুচারু কৌশলে এই সমাধিক্ষেত্র তৈরি হয়েছিল। এমনভাবেই এটি তৈরি যে দক্ষিণায়নের দিনও (২১ ডিসেম্বর, উত্তর গোলার্ধের সবথেকে ছোট দিন) সূর্যের রশ্মি এই সমাধির অন্তর্বর্তী কক্ষে পৌঁছতে সক্ষম। কক্ষে যে মানুষের সমাধি রয়েছে, তার ডিএনএ পরীক্ষা করে তাদের সমকালীন জীবনে যৌন অজাচারের হদিশ পাওয়া গেছে। নিউগ্র্যাঞ্জে একটি মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে, যা প্রায় ৫০০০ বছরের পুরনো। এই মানুষটির মা-বাবা সম্ভবত ভাই-বোন ছিল অথবা বাবা এবং মেয়ে ছিল। এই দেখে গবেষণারত বৈজ্ঞানিকরা ধারণা করেছেন যে সেই সময় একই পরিবারে এইরকমের যৌন অজাচারের রীতি প্রচলিত ছিল।

আরও পড়ুন: প্লাজমা-পোয়েম-প্রেয়ার একসূত্রে গেঁথেছে জগদীশ-রবি ঠাকুর-স্বামীজিকে

৪. উপগ্রহের মাধ্যমে পৃথিবীর প্রতিটা গাছ দেখা যাবে – নিয়েল পি হানান এবং জুলিয়াস ওয়াই আনচাং

বৈজ্ঞানিক ব্র্যান্ডট এবং তাঁর দলের রিপোর্ট অনুযায়ী তাঁরা একটি পরীক্ষা চালান পশ্চিম আফ্রিকার সাহারা এবং সাহেল অঞ্চলে। আধুনিক উপগ্রহ ব্যবহার করে ১.৩ মিলিয়ন বর্গ কিমি অঞ্চলে এই পরীক্ষাটি করা হয়। এক্ষেত্রে গবেষকরা এই অঞ্চলের প্রায় ১.৮ বিলিয়ন গাছ এবং তাদের শাখা-প্রশাখাকে বিস্তারিতভাবে চিহ্নিত করেছেন। উপগ্রহের মাধ্যমে তাঁরা অল্প অল্প করে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। এই পরীক্ষার ফলে উদ্ভিদ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে নতুন দিশার হদিশ পাওয়া গেল। এবার থেকে দূরে বসেও উপগ্রহের মাধ্যমে প্রয়োজনে বিশেষ কোনও গাছের ওপর পরীক্ষা চালানো সম্ভব, ম্যাপে তাকে খুঁজে বের করা সম্ভব এবং সেই গাছটির তথ্য সংগ্রহ করাও সহজ হয়ে গেল। এই গবেষণা উদ্ভিদ নিয়ে পরীক্ষা এবং গবেষণা অনেক সহজ করে দেবে।

৫. নিষ্ক্রিয় এইচআইভি-র খোঁজ – মাথায়াস লিচটারফোল্ড

মানুষের শরীরে এইচআইভি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করতে পারে। এইগুলি থাকে ভাইরাল-রিসারভয়ার কোষে, যার ফলে আমাদের শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি বোঝা বা খুঁজে পাওয়া যায় না। এইক্ষেত্রে ‘শক অ্যান্ড কিল’ চিকিৎসার প্রয়োগ করা হয়েছে। এর ফলে ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয়তা থেকে বের করে এনে সজীব করে তোলা যায়, তাকে খুঁজে পাওয়া যায়। এবং সেইভাবেই তাকে বিনষ্ট করে প্রতিষেধকের ব্যবস্থা করা যায়। দুই ভাগে বিভক্ত করে কিছু প্রাণীর ওপর এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে। বৈজ্ঞানিক নিক্সন এবং তাঁর সহকর্মীরা এজেডডি৫৫৮২ ড্রাগ ব্যবহার করেছেন যেটি NF-κB ফ্যাক্টরকে সক্রিয় করে তোলে। এর ফলে এইচআইভি-১ জিন সক্রিয়তা পায়। বৈজ্ঞানিক ম্যাকব্রায়ান এবং তাঁর দল দু’টি ইম্যুনোলজিকাল ইন্টারভেনশন মাধ্যম প্রয়োগ করেছেন। এটি CD8+T কোষের মাত্রা কমায় এবং এন-৮০৩ ড্রাগ এই ক্ষেত্রে এইচআইভি-১ জিনকে সক্রিয় করে তোলে। এর মাধ্যমেই ভাইরাসের নিষ্ক্রিয়তাকে সক্রিয়তায় পরিবর্তন করা সম্ভব।

Getting the “kill” into “shock and kill”: strategies to eliminate latent HIV  | Doherty Website

৬. খাদকের বাছবিচার – জেসিকা এল জুং এবং ক্যারোলিন এস ম্যাকব্রাইড ড্রসোফিলা

সেচেলিয়া মাছি প্রচুর পরিমাণে বিষাক্ত ননি ফল (মরিন্ডা সিট্রিফোলিয়া) খেয়ে থাকে। প্রশ্ন হল, এত কিছু থাকতে তারা এই বিষাক্ত ফল কেন খায়! বৈজ্ঞানিক অউর এবং তাঁর দল জিনোম এডিটিং যন্ত্র সিআরআইএসপিআর-ক্যাস৯ দিয়ে এর রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছেন। দেখা গিয়েছে, একপ্রকার সেন্সরি নিউরন এবং তার মধ্যে থাকা ২২এ প্রোটিন এই ধরনের মাছির মধ্যে আছে। এর ফলে তাদের শরীরের অ্যামিনো অ্যাসিড তাদের স্বাভাবিকভাবেই ননি ফলের দিকে আকৃষ্ট করে। এদের মধ্যে অনেক প্রকার বিবর্তন সাধারণ ব্যবহারিক পরিবর্তনের মাধ্যমে লক্ষ্য করা গেছে। যেভাবে ছোট আকৃতির মাছি গন্ধযুক্ত ফলের প্রতি আকৃষ্ট হয়, তাতে তাদের মস্তিস্কের বিবর্তনের পদ্ধতি গবেষণা করা সম্ভব।

৭. ছায়াপথের বেতার তরঙ্গ – আমান্ডা ওয়েল্টমান এবং অ্যান্থনি ওয়াল্টার্স

‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাশিত ৩টি রিপোর্ট থেকে জানা যায় যে, আমাদেরই ছায়াপথে দ্রুত বেতার তরঙ্গের (ফাস্ট রেডিয়ো বারস্ট) একটি উৎসের খোঁজ পাওয়া গেছে। এর সঙ্গেই এক্স-রে’র একটি তরঙ্গও পাওয়া গেছে। বিভিন্ন গবেষণা এবং পর্যবেক্ষণের নমুনাকে একত্রিত করে এটি জানা যায়। মাটিতে এবং অন্তরীক্ষে থাকা বিভিন্ন দূরবীক্ষণ যন্ত্র এই কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। এই তরঙ্গের সময়সীমা আনুমানিক এক মিলিসেকেন্ড। প্রথম এই ধরনের তরঙ্গ ২০০৭ সালে পাওয়া গেছিল, কিন্তু স্বল্প দৈর্ঘ্যের ফলে তা অনুধাবন করা ছিল ভীষণ কষ্টসাধ্য। এই প্রথম এই ধরনের তরঙ্গ আকাশগঙ্গা ছায়াপথে পাওয়া গেল। এই গবেষণা প্রমাণ করেছে যে, স্টেলার রেমনেন্ট ম্যাগ্নেটার এই ধরনের তরঙ্গ উৎপন্ন করতে সক্ষম।

৮. ক্রায়ো-ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপি-র বিবর্তন – মার্ক এ হের্জিক জুনিয়র

গঠনমূলক জীববিজ্ঞানে গবেষকরা সরাসরি ম্যাক্রোমলিকিউলস পর্যবেক্ষণ এবং তাদের থ্রিডি গঠনশৈলী নির্মাণ করতে পারেন। ‘নেচার’ পত্রিকায় বৈজ্ঞানিক ইপ, নাকানে এবং তাদের দলের রিপোর্ট জানাচ্ছে যে সম্প্রতি এই ক্রায়ো-ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপি ব্যবহার করে সবথেকে ভালো ছবি পাওয়া গিয়েছে। এর ফলে প্রোটিনের প্রত্যেকটি অণুর অবস্থান এখন জানা সম্ভব। প্রত্যেকটি গবেষণাকারী দল বিভিন্ন যন্ত্র ব্যবহার করে এই আবিষ্কার করেছেন। এই প্রযুক্তির সাহায্যে, ক্রায়ো-ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপি দিয়ে পাওয়া ছবি গবেষণার কাজকে অনেক দূর এগিয়ে দেবে। এর ফলে এক অ্যাংস্ট্রম-এরও বেশি বিভাজন করা সম্ভব।

৯. ইন্টারফেরন কমে গেলে মারাত্মক কোভিডের সম্ভাবনা – এরিক মেফ্রে এবং আকিকো আইওয়াসাকি বৈজ্ঞানিক জ্যাং, বাস্টার্ড এবং তাঁদের দল কোভিড-১৯’এর ক্ষেত্রে একটি ভয়াবহ তথ্য আবিষ্কার করেছেন। তাঁরা ইন্টারফেরন প্রোটিন, মূলত টাইপ ১ ইন্টারফেরন প্রোটিন নিয়ে গবেষণা করেছেন। এটি শরীরে কমে গেলে শারীরিক পরিবর্তন খুবই স্বাভাবিক। মানুষের জিনে মিউটেশন অথবা বিকৃতি ঘটে যাওয়াও আশ্চর্যের নয়। এই আইএফএন-১ কমে গেলে ভয়াবহ কোভিডে মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন। এর ফলে মানুষের শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর প্রভাব পড়ে। এরকম হলে মানুষের শরীরে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ইন্টারফেরন প্রবেশ করিয়ে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। আবার কেউ যদি এইরকম IFN-α এবং IFN-ω প্রতি প্রতিরোধের লক্ষণ দেখায়, তাদের কোভিড আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে।

১০. চুলের রং পরিবর্তন – শেয়লা এ ক্লার্ক এবং ক্রিস্টোফার ডি ডেপম্যান মানসিক চাপের কারণে কেন মানুষের চুলের রং সাদা হয়ে যায়, তা এতদিন অজানা ছিল। চুলের গোড়ায় থাকে মেলানোসাইটিস কোষ যা চুলের রং নির্ধারণ করে। বৈজ্ঞানিক জ্যাং এবং তাঁর দলের রিপোর্ট বলছে যে, মানুষ হয় মানসিক চাপ থেকে পালাতে চেষ্টা করে অথবা তার সঙ্গে লড়াই করে। এর ফলে ননঅ্যাড্রেনালিন নামক এক নিউরোট্রান্সমিটার তাদের চুলের গোড়া থেকে নিঃসৃত হয়। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে যে, মানুষ যখন অত্যাধিক মানসিক চাপে থাকে, তখন তাদের চুলে নিঃসৃত হওয়া ননঅ্যাড্রেনালিনের মাত্রা অনেক বেড়ে যায়। এর ফলে মেলানোসাইটিস কোষের মাত্রা কমতে শুরু করে এবং ধীরে মানুষের চুলে রঙের পরিবর্তন দেখা যায়। জ্যাং এবং তাঁর দলের গবেষণায় মানসিক চাপ কিভাবে মানুষের দেহের কোষকে প্রভাবিত করে, তার সন্ধান পাওয়া গেছে।

ঋণ স্বীকার www.nature.com

Facebook Twitter Email Whatsapp

One comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *