সুপার কম্পিউটারে ধরা পড়ল চাঁদের জন্মরহস্য

Mysepik Webdesk: আজ থেকে কোটি কোটি বছর আগে জন্ম হয়েছিল পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদের। কিন্তু সেই চাঁদের জন্ম কীভাবে হয়েছিল, তাঁর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণে এবার এগিয়ে এসেছেন আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। তাঁরা একটি সিমুলেশন প্রস্তুত করে চাঁদের জন্ম বৃত্তান্তের বেশ কয়েকটি সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁরা যে সিমুলেটর প্রস্তুত করেছেন, সেটি তৈরি করতে তাঁরা সাহায্য নিয়েছে একটি সুপার কম্পিউটারের। মূলত প্রচলিত ‘বিগ স্প্ল্যাশ’ বা ‘জায়ান্ট-ইমপ্যাক্ট হাইপোথিসিস’ তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই সিমুলেশনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সাবধান! ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বিতর্কিত ভিডিওতে ক্লিক করবেন না, ভাইরাসে ভরে যাবে আপনার কম্পিউটার

Supercomputer simulations at Durham University could show how the moon was  formed - Chronicle Live

‘জায়ান্ট-ইমপ্যাক্ট হাইপোথিসিস’ তথ্য অনুযায়ী, আজ থেকে প্রায় সাড়ে চারশো কোটি বছর আগে ‘থিয়া’ নামের একটি গ্রহের সঙ্গে পৃথিবীর সংঘর্ষ হয়। ‘থিয়া’র আয়তন মঙ্গল গ্রহের চেয়ে কিছুটা ছোট। থিয়ার প্রচন্ড গতিবেগ এবং ঘূর্ণনের ফলেই পৃথিবী থেকে একটি অংশ ছিটকে বেরিয়ে আসে। সেই অংশটি পড়ে প্রথিবীর আকর্ষণ বলের প্রভাবে পৃথিবীর চারিদিকে ঘুরতে থাকে। তবে তার আগেই সৃষ্টি হয়েছিল সৌরজগতের। আর সৌরজগতের সৃষ্টি হওয়ার ১৫০ মিলিয়ন বছর পড়ে এভাবেই সৃষ্টি হয় চাঁদের।

আরও পড়ুন: পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে বিশালাকার গ্রহাণু, নস্ট্রাডামুসের পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার ভবিষ্যৎবাণী কী তবে সত্যি হতে চলেছে?

Durham University supercomputer reveals planetary collisions | The Northern  Echo

ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা প্রচলিত এই তত্ত্ব নিয়ে কাজ করলেও, পড়ে তার বেশ কিছু অংশে পরিবর্তন আনেন। শূন্য ঘূর্ণন হার থেকে অত্যন্ত দ্রুত ঘূর্ণাবর্তের সম্ভাব্য শর্তকে সিমুলেশনে উপস্থাপিত করেন। আর তাতেই স্পষ্ট হয় আসল দৃশ্য। সুপার কম্পিউটারের ফল বলছে, থিয়া যদি সামান্যতম ঘূর্ণায়মান হত, তাহলে বর্তমানে একটি নয় পৃথিবীর আকাশে দেখা যেত দু’টি চাঁদ।
জন্মলগ্নে চাঁদের ভর ছিল বর্তমান ভরের ৮০ শতাংশ। ক্রমে বিভিন্ন উল্কা এবং ধূমকেতুর সঙ্গে সংঘর্ষ হওয়ার ফলে ভর বাড়ে চাঁদের। পাশাপাশি পৃথিবী আর চাঁদের দূরত্ব আরও কম ছিল বলেই জানিয়েছেন গবেষকরা। ধীরে ধীরে ভর বাড়ার কারণে মহাকর্ষ বলের প্রভাবে দূরে সরে যায় পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ।

আরও পড়ুন: ৫ লাখ ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক বোতল দিয়ে বিলাসবহুল রিসর্ট বানালেন ৪ যুবক

শুধুই চাঁদের সৃষ্টি রহস্যই নয়, সুপার কম্পিউটার থেকে আরও জানা গিয়েছে চাঁদের রাসায়নিক গঠনেরও অনেক তথ্য। জানা গিয়েছে, পৃথিবীর সঙ্গে যখন ‘থিয়া’র সংঘর্ষ হয়, তখন লোহার মতো ভারী মৌলগুলোর অধিকাংশই থেকে যায় পৃথিবীতে। সেই সময়ে খুব কম পরিমানেই লৌহ পদার্থ চাঁদে স্থানান্তরিত হয়েছে। অন্যদিকে হাইড্রোজেন, অক্সিজেনের মতো হালকা মৌলগুলো বেশি পরিমানে চাঁদের ছিটকে যাওয়ার সময় প্রচণ্ড তাপমাত্রায় ছড়িয়ে পড়ে মহাকাশে। ফলে পৃথিবীর উপগ্রহটিতে কোনও বায়ুমণ্ডলের অস্তিত্ব নেই।

Similar Posts:

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *