সংবিধানের জন্মকথা: প্রজাতন্ত্র দিবসের গল্প

ড. মাল্যবান চট্টোপাধ্যায়

২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস। ভারতের সংবিধান রচনার জন্য ১৯৪৬ সালের ৯ ডিসেম্বর তারিখে তৈরি হয়েছিল গণপরিষদ। তারপরে নানা আলাপ-আলোচনার পথ ধরে ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর গণপরিষদ কর্তৃক রচিত সংবিধান গৃহীত হয়। এরপরে ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি তারিখ থেকে এই সংবিধান কার্যকরী হয়। সেই সূত্রেই ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস। শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়। এই সংবিধান মেনেই ভোট হয়, হার জিত হয়, রাজপথ রঙিন হয় আবির আর পতাকায়। এই উৎসবের ধারা যাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, সেটির কার্যকর হবার দিন ছিল আজ। ব্রিটিশরা ভারতে নীতি নির্ধারণে প্রথম দিকে ভারতীয়দের মত প্রকাশের সুযোগ না দিলেও কিন্তু উনিশ শতকের শেষলগ্নে কিছুটা সুযোগ দিতে বাধ্য হয়েছিলেন ১৮৯২ সালের ইন্ডিয়ান কাউন্সিলস আইন অনুসারে। এরপরে এসেছিল ১৮৯৫ সালে কনস্টিটিউশন অফ ইন্ডিয়া বিল। এগুলির সূত্রে ব্রিটিশ শাসিত ভারতের আইন বিভাগের অন্দরে কিছুটা ভারতীয় মনের ‘অনুপ্রবেশ’ হয়তো হয়েছিল কিন্তু তা একেবারেই যৎকিঞ্চিত।

আরও পড়ুন: ‘সুভাষকে বোঝা শক্ত’, দেশগৌরব সুভাষচন্দ্র ও তাঁর ভাবনা

এসবের মধ্যে দিয়ে বিশ শতকের দোরগোড়ায় ভারত যখন উপনীত হল, তখন ব্রিটিশ সরকার প্রত্যক্ষ করতে থাকল একের পর এক প্রতিবাদের প্রকাশ। বিপ্লবী কার্যক্রমের হাত যখন একদিকে শক্তিশালী হচ্ছিল, তার কিছুদিন পরেই অধিকারের প্রশ্নে বেশ সরব হতে থাকে কংগ্রেস। ভারতের রাজনীতিতে প্রায় কেন্দ্রে এসে পৌঁছন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধি। ভারতীয়রা কি নাগরিক নন? নাকি তাঁরা ব্রিটিশের প্রজা মাত্র। এই প্রশ্নের আলোয় আলোড়িত হতে থাকে ভারত। ততদিনে আরও কিছু আইন হয়েছে যার বলে কিছু ক্ষেত্রে ভারতীয়রা কিছু কিছু জায়গা করে নিচ্ছিলেন ক্ষমতার অলিন্দে। ‘ভারত সরকার আইন ১৯৩৫’ এই গোত্রেরই একটি। জনপ্রিয়তায় ভর করে কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র পদে একসময়ে আসেন সুভাষচন্দ্র বসু। তাঁর হাত ধরে আচারে বিচারে কিছুটা ভারতীয় হয়ে উঠেছিল কলকাতা কর্পোরেশন। কিন্তু তা আর কতটা? পুরোপুরি স্বাধীনতা যে আদায় করতে হবে তা বুঝেছিলেন গান্ধি থেকে সুভাষচন্দ্র বসু সকলেই। উদ্দেশ্য এক রেখেই তাঁরা হেঁটেছিলেন আলাদা পথে। আর এই উদ্দেশ্য সফলতার দিকে এগিয়েছিল সংবিধান রচনা ও তাঁর কার্যকর হবার হাত ধরেই।

আরও পড়ুন: সূর্যাস্তের সূর্য সেন

ভারতীয় সংবিধানে স্বাক্ষর করছেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু, ১৯৫০

১৯৪৫ সালে ব্রিটেনে সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টির বিজয়ের সূত্র ধরে কিছুটা আশাবাদী হয়েছিলেন তাঁরা, যাঁরা মনে করেছিলেন আলাপ-আলোচনার মধ্যে দিয়েই ভারতীয়রা তাঁদের অধিকার পাবেন। ততদিনে দ্বিজাতি তত্ত্ব শিকড় গেড়েছে ভারতে। তৈরি হয়েছে মুসলিম লিগ। জিন্নাহের হাত ধরে মুসলিমদের আলাদা জাতি হিসেবে ঘোষণা করার প্রক্রিয়া দানা বেঁধেছিল বাতাসে। এসবের মাঝেই ক্যাবিনেট মিশন ভারতে এলো ২৪ মার্চ, ১৯৪৬। ক্যাবিনেট মিশন সাংবিধানিক আধিকার সূত্রে দীর্ঘ বৈঠক করলেও শেষে কোনও ঐকমত্যে পৌঁছতে না পেরে তারা নিজেরাই ১৬ মে, ১৯৪৬-এ একটি পরিকল্পনার কথা জানান। মিশন এ-কথা মেনে নেয় যে, সংবিধান তৈরি করার প্রক্রিয়া চালু করার সবচেয়ে ভালো রাস্তা হল প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। কিন্তু এখন সে-কাজ করতে গেলে যদি নতুন সংবিধান রচনার কাজ অনেক পিছিয়ে যাবে, তাই এই নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছিল। অবশেষে এই সিদ্ধান্ত হয় যে নবনির্বাচিত প্রাদেশিক বিধানসভাগুলোই সংবিধান সভার সদস্যদের নির্বাচন করবে। সে-নির্বাচনের ভিত্তি হবে মোটের ওপর দশ লক্ষ জনসংখ্যা পিছু একজন করে প্রতিনিধি। এক্ষেত্রে এটাও ঠিক হয় শিখ আর মুসলিম বিধায়করা তাঁদের জনসংখ্যার ভিত্তিতে তাদের কোটা নির্বাচন করবেন। কেন্দ্র আর প্রদেশ, কার ক্ষমতা কী ধরনের হবে, তার বহুবিধ খুঁটিনাটি নিয়ে নানান প্রক্রিয়াপদ্ধতি আর প্রস্তাবও দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে প্রদেশগুলিকে এ, বি এবং সি বিভাগে ভাগ করা। এ বিভাগে রাখা হয়েছিল মাদ্রাজ, বোম্বাই, যুক্তপ্রদেশ, বিহার, সেন্ট্রাল প্রভিন্সেস আর উড়িষ্যা যেখানে হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। অনুরূপভাবে বি এবং সি বিভাগে ছিল সেইসব প্রদেশ যেখানে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, যথা পশ্চিমে পঞ্জাব, নর্থ ওয়েস্ট ফ্রন্টিয়ার প্রভিন্স ও সিন্ধ, আর পূর্বে অসম আর বাংলা। ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনায় এটিও প্রস্তাব করা হয়েছিল যে সভাপতি নির্বাচন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কাজকর্ম সম্পন্ন করার পর সংবিধান সভা পূর্বোক্ত বিভাগ অনুযায়ী বিভক্ত হয়ে যাবে। প্রতিটি বিভাগের প্রাদেশিক প্রতিনিধিরা আগে স্থির করবেন প্রতিটি প্রদেশের সংবিধান কেমন হবে। এক্ষেত্রে তারা যৌথ সংবিধান চান কিনা, তাও তারাই স্থির করবেন। এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হলে পর, তবে সবকটি প্রদেশের প্রতিনিধিরা, সেইসঙ্গে রাজন্য-শাসিত রাজ্যগুলির প্রতিনিধিরা, আবার মিটিংয়ে বসবেন। সেই মিটিংয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সংবিধানের বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে।

আরও পড়ুন: সারফারোশি কি তামান্না: বিসমিল ও তাঁর সহযোগীদের আত্মত্যাগের কথা

সার্বিকভাবে এই ছিল ক্যাবিনেট মিশনের ভাবনা। এই পরিকল্পনার প্রতিক্রিয়ায় সেকালে কংগ্রেস জানিয়েছিল যে, ক্যাবিনেট মিশনের প্রস্তাবগুলির কোনটিকে গ্রহণ করা হবে, কোনটিকে বর্জন করা হবে, সে-ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার তাদেরই যেন থাকে। এক্ষেত্রে ব্রিটিশরা সেরকম কোনও প্রতিশ্রুতি না-দেওয়া সত্ত্বেও কংগ্রেস অনেক তর্কবিতর্কের পর এই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল এবং তা নিয়ে কাজ করতে রাজি হয়েছিল। অনেকেই মনে করেন যে, এর হেতু ছিল তখনকার একটি ধারণা। এরকম একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল যে, ওই প্রস্তাবকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করলে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটাও পিছিয়ে যাবে। মুসলিম লিগ এক্ষেত্রে আগ্রহী ছিল না। লিগ প্রতিটি পর্যায়েই সংবিধান সভার বিরোধিতা করে গিয়েছিল, কিন্তু তাও সংবিধান সভা গড়ে উঠেছিল।

এই সভার প্রথম কাজ হবে, ভারতকে এক নতুন সংবিধানের মাধ্যমে স্বাধীন করা, এমনটাই সংবিধান সভার সামনে আশা প্রকাশ করেছিলেন জওহরলাল নেহরু। এত আশার সূচনাকারী সংবিধান সভার সদস্য সংখ্যা ছিল ৩৮৯। তার মধ্যে ২৯৬ জন ব্রিটিশ ভারতের, আর ৯৩ জন রাজন্যশাসিত রাজ্যের। প্রথমদিকে অবশ্য সংবিধান সভাতে কেবল ব্রিটিশ শাসিত ভারতের সদস্যরাই ছিলেন। জুলাই-আগস্ট ১৯৪৬-এ এরা নির্বাচিত হন। সাধারণ বিভাগের মোট ২১০টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস পায় ১৯৯টি। পঞ্জাবের ৪টি শিখ আসনের মধ্যেও ৩টি পায় কংগ্রেস। মুসলিমদের ৭৮টি আসনের মধ্যেও কংগ্রেস পায় ৩টি। কুর্গ, আজমের-মেরওয়ারা আর দিল্লির ৩টি আসনও কংগ্রেস পায়। কংগ্রেস ২০৮টি আসনে জেতে। মুসলিম লিগ ৭৮টি মুসলিম আসনের মধ্যে ৭৩টিতে জেতে। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচিত না-হওয়ায় এই সংবিধান সভা যথেষ্ট প্রতিনিধিত্বমূলক ছিল না, এমনটা অনেকেই ভেবেছিলেন। এর প্রেক্ষিতে জুলাই ১৯৪৬-এর গোড়াতেই কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি প্রাদেশিক কমিটিগুলিকে এই মর্মে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেয় যে তারা যেন তপশিলি জাতি, পার্সি, ভারতীয় খ্রিস্টান, অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান, উপজাতি এবং মহিলাদের প্রতিনিধিদের কংগ্রেসের ‘সাধারণ’ বর্গের তালিকার অন্তর্ভুক্ত করে।

আরও পড়ুন:­ রবীন্দ্রনাথ, সুভাষচন্দ্র এবং মহাজাতি সদনের ৮২-তে পা

এসবের ভিত্তিতে ৯ ডিসেম্বর ১৯৪৬ ভারতের সংবিধান সভার প্রথম অধিবেশন শুরু হয় যাতে ২০৭ জন সদস্য যোগ দিয়েছিলেন। স্বাধীনতা তখন আর মাত্র কিছু দিনের অপেক্ষা। সংবিধান সভা চালু হওয়ার মধ্যে দিয়ে ভারতের সরকার আর ভারতের মানুষ কোন সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে কাজ করবে, তা নির্ণয় করবার প্রকৃত দায়িত্ব অবশেষে ভারতের জনগণের হাতেই ন্যস্ত হয়েছিল এমনটাই অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন। এক্ষেত্রে সংবিধান সভার অধিবেশনকে যখন রোধ করা গেল না তখন মুসলিম লিগ আলাপ-আলোচনা থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর সূত্রে লিগের ছিয়াত্তর জন মুসলিম সদস্য অধিবেশনে যোগ না দিলেও কংগ্রেসের চার জন মুসলিম সদস্য যোগ দিয়েছিলেন। এখানেই ১১ ডিসেম্বর তারিখে ড. রাজেন্দ্রপ্রসাদ স্থায়ী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন, যা পরে সভার প্রেসিডেন্ট পদ নামে চিহ্নিত হয়। ১৩ ডিসেম্বর জওহরলাল আনলেন তার আলোচিত ‘লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য’ শীর্ষক প্রস্তাব, যা নিয়ে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত আলোচনা চলেছিল। এর পরেও কিছু দিন অপেক্ষা করা হয়েছিল, যাতে মুসলিম লিগের ও রাজন্যশাসিত রাজ্যগুলির প্রতিনিধিরা আলোচনায় যোগ দিতে পারেন। এর পরের অধিবেশন চলে ২০-২২ জানুয়ারি ১৯৪৭ পর্যন্ত। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, লিগের জন্য আর অপেক্ষা না করে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য প্রস্তাবটি গ্রহণ করার। এরপরে তৃতীয় অধিবেশন বসল ২৮ এপ্রিল থেকে ২ মে, ১৯৪৭ পর্যন্ত এবং তাতেও লিগ যোগ দেয়নি। বস্তুত ততদিনের মধ্যে লিগের ভাবনায় অখণ্ড ভারতের বিষয়টি অলীক হয়েই গিয়েছিল। আর এটা আরওই স্পষ্ট হয়, যখন ৩ জুন মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা ঘোষিত হয়। প্রতিভাত হল যে, ভারত দু-টুকরোই হতে চলেছে। তাই সংবিধান সভার পরিপ্রেক্ষিতটাও বদলে যেতে থাকল।

এসবের মধ্যে ১৫ অগাস্ট ১৯৪৭ ভারত স্বাধীন হয়। আর এর সূত্রেই সংবিধান সভা একটি সার্বভৌম সংস্থায় পরিণত হল। একইসঙ্গে তা নবজাত রাষ্ট্রের আইনসভার কাজও করতে লাগল। সংবিধান রচনা আর সাধারণ আইনকানুন তৈরি করা, এই দু’টো কাজেরই দায়িত্ব নিল ওই সংস্থা। আইনসভার কর্মভার এবং সংবিধান সভার বিশাল আকার, এ দু’য়ের কোনওটাই যে সংবিধান রচনার কাজ সুচারু রূপে সম্পাদনা করার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়নি, তার কারণ হল, এর প্রস্তুতিপর্বের সুবিপুল কাজ আগেই অনেকটা করে রাখা হয়েছিল। এই কাজটিকে মূলত পাঁচটি পর্যায়ে ভাগ করে নেওয়া হয়েছিল। প্রথমত কমিটিগুলিকে মূল বিষয়গুলির ওপর প্রতিবেদন পেশ করতে বলা হয়। এর পরে এইসব প্রতিবেদনের এবং অন্যান্য দেশের সংবিধান নিয়ে তার নিজস্ব গবেষণার ভিত্তিতে সাংবিধানিক উপদেষ্টা বি এন রাও একটি প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেছিলেন। এর পরে সেই প্রাথমিক খসড়ার ভিত্তিতে ডক্টর বি আর অম্বেদকরের সভাপতিত্বে খসড়া প্রস্তুতকারী কমিটি একটি বিস্তারিত খসড়া সংবিধান রচনা করে সেটিকে সর্বসমক্ষে আলোচনা ও মন্তব্যের জন্য পেশ করেছিলেন। এরপরে খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পরে এবং কিছু সংশোধনী প্রস্তাবিত হবার পরে অবশেষে সংবিধানটি গৃহীত হয়। এক্ষেত্রে কংগ্রেস পার্টি এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। স্বাধীনতার কিছুতা আগেই, ৪ জুলাই, ১৯৪৬ তাঁরা এক বিশেষজ্ঞ কমিটিকে সংবিধানের জন্য ভাবনা ও প্রস্তাব তৈরি করে রাখতে বলেছিলেন। বলা ভালো কমিটির সভাপতি ছিলেন জওহরলাল নেহরু আর সদস্য ছিলেন আসফ আলি, কে টি শা, ডি আর গ্যাডগিল, কে এম মুনশি, হুমায়ুন কবীর, আর সপ্তানম এবং এন গোপালস্বামী আয়েঙ্গারের মতো গুণিজন। নেহরু লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য শীর্ষক প্রস্তাবটির খসড়া করেন, যাতে সংবিধানের দর্শন ও মূল বৈশিষ্ট্যগুলি ব্যাখ্যাত হয়েছিল।

B. N. Rau - Wikipedia

শুধুমাত্র নেহরুই নয়, সর্দার বল্লভভাই পটেলের ভূমিকাও এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। প্রাক্তন রাজন্যশাসিত রাজ্যগুলির প্রতিনিধিদের সংবিধান সভার মধ্যে টেনে আনার ব্যাপারে, আলাদা আলাদা নির্বাচকমণ্ডলী যাতে না-থাকে তা সুনিশ্চিত করার কাজে এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য আসন সংরক্ষিত রাখার যে-কোনও প্রস্তাবকে নাকচ করার ব্যাপারে পটেলের ভূমিকাই প্রধান ছিল। সংবিধান সভার সভাপতি রূপে রাজেন্দ্রপ্রসাদ কিংবা মৌলানা আজাদ তাঁদের অগাধ পাণ্ডিত্য আর দার্শনিক মনের পরিচয় দিয়েছিলেন সংবিধানকে আকার দানের ক্ষেত্রে। আর গোটা পক্রিয়ার সঙ্গে জুড়ে ছিল এক নিটোল নিরপেক্ষতা। এইভাবেই তৈরি হয়েছিল সংবিধান রচনার পথ। যে পথে মৌলিক অধিকার রক্ষার বিষয়টি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। একে সংবিধান প্রণেতারা গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ইন্দিরা গান্ধির সময়কাল থেকে আজকের দিনেও মৌলিক অধিকার এর জন্যে পথে নামছেন মানুষ, আর এই পথে নামার ক্ষেত্রে তাঁদের হাতিয়ার এই সংবিধান, যা বহুবার সংশোধিত হয়েও আজও বিশ্বের বরেণ্য মানুষের মনযোগ আকর্ষণ করে চলেছে।

ড. বি আর আম্বেদকর

সহায়ক গ্রন্থ ও নিবন্ধ

১. বিপন চন্দ্র ও অন্যান্য, ভারতবর্ষ স্বাধীনতার পরে (বাংলা অনুবাদ), আনন্দ, ২০১৫।

২. শেখর বন্দ্যোপাধ্যায়, পলাশি থেকে পার্টিশন ও তারপর: আধুনিক ভারতের ইতিহাস (বাংলা অনুবাদ), ওরিয়েন্ট ব্লাক্সয়ান, ২০১৫।

লেখক আসানসোল গার্লস কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক

Facebook Twitter Email Whatsapp

One comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *