বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা নিয়ে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করলেন মুখ্যমন্ত্রী

durgotsob

Mysepik Webdesk: করোনা আবহের মধ্যে এবছর দুর্গাপূজা পালিত হতে চলেছে। তবে অতিমারীর কারণে এবছরের দুর্গাপূজা আর অন্যান্য বছরের মতো হবে না, সেটা আগেই থেকেই ধারণা করা গিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে দুর্গাপূজা করা সম্ভব, সেই সম্পর্কে ইতিমধ্যেই কলকাতার দুর্গাপূজা কমিটিগুলি নিয়ে গঠিত কলকাতার ফোরাম ফর দুর্গোৎসব ১৭টি পয়েন্টকে সামনে রেখে রাজ্য সরকারকে একটি প্রস্তাব দিয়েছিল।

আরও পড়ুন: পুজোর আগেই শুরু হচ্ছে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের লিখিত পরীক্ষা

এদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তারা নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ওই কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠক করলেন। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, “পুজো হবেই। তবে সমস্ত নিয়ম মেনেই হবে। শুধুমাত্র করোনার জন্যে কিছু নিয়মকানুন আমাদের মেনে চলতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “পুজোয় যাতে সংক্রমণ না ছড়ায় সেদিকে খেয়াল রাখুন। এমনভাবে প্যান্ডেল করুন যাতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয়। মণ্ডপের ছাদ খোলা রাখুন। কাছে মাস্ক-স্যানিটাইজার রাখুন। যারা পুজোর থাকবেন, তাঁদের ফেস শিল্ড দিন।”

আরও পড়ুন: দীর্ঘদিন পর রাজ্যে স্কুল খোলার প্রস্তুতি, থাকছে একগুচ্ছ শর্ত

অঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণ প্রসঙ্গে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সকলেই যেন একসঙ্গে অঞ্জলি না দেন। সিঁদুর খেলার ক্ষেত্রেও তাই করুন। সিঁদুর খেলুন, কিন্তু সময় ভাগ করে খেলুন। একটা দল খেলে গেল, আরেকটা দল এল। একটু তো নিয়ম মেনে চলতেই হবে। প্রসাদ বিতরণও সাবধানে করুন। সাধারণ মানুষকে বলব, ফুল-বেলপাতা নিজেরাই পারলে নিয়ে যান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবার পারলে বন্ধ রাখুন। এতে করোনা সংক্রমণ বাড়তে পারে।” এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “মোট ৩৪৮৩৭ টি পুজো রয়েছে রাজ্য পুলিশের অধীনে, ২৫০৯ টি পুজো রয়েছে কলকাতা পুলিশের অধীনে এবং ১৭০৬ মহিলা পরিচালিত পুজো রয়েছে। আমি সকলকেই বলব, পুজো করুন, শুধু একটু সাবধানে থাকুন।”

আরও পড়ুন: কৃষ্ণনগরের দুর্গামূর্তি এবার পাড়ি দেবে আমেরিকার মেস্কিকো সিটিতে

প্যান্ডেল এবং প্রতিমা বিসর্জনের ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “খোলামেলা প্যান্ডেল করুন। প্যান্ডেলের ওপরের দিক খোলা রাখুন। একদিনে সব বিসর্জন নয়। সকলকে সচেতন থাকতে হবে। পুলিশ, দমকল, স্বাস্থ্য সব বিভাগ একটা কোঅর্ডিনেশন কমিটি তৈরি করুন। ঘাটগুলিতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করুন। স্বাস্থ্য দফতরও ভলেন্টিয়ার বাড়ান। সাধারণ মানুষকে নিয়ে বাকিরা সকলে মিলেই ভালো করে পুজো করব।”

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *