প্রসঙ্গ খড়গপুরের ছটপুজো

সুগত পাইন

খড়গপুর। দক্ষিণ-পূর্ব ভারতের বৃহত্তম রেল জংশন। এককালে পৃথিবীর দীর্ঘতম রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মের শিরোপা ছিল খড়গপুরের। এখন অবশ্য কিছুটা অবনতি হয়ে তৃতীয় স্থানের অধিকারী সে। খড়গপুরের প্রাচীন ইতিহাস খুবই সমৃদ্ধ হলেও তার ভারত ব্যাপী জনপ্রিয়তা ভারতীয় রেলের সূত্রে। ১৮৮৭ সালে খড়গপুরের দমদমায় বেঙ্গল-নাগপুর রেলের সংযোগস্থল গড়ে তোলেন ব্রিটিশ কোম্পানি। তখন থেকেই আধুনিক খড়গপুরের ভিত্তি স্থাপিত হয়। ‌শুরু হয় নগরায়ণের। কর্মসূত্রে ভারতবর্ষের নানা প্রদেশের মানুষ বসতি স্থাপন করেন। নানা জাতি, নানা ভাষা, নানা পরিধান ও সংস্কৃতির মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয় খড়গপুর। অচিরেই হয়ে ওঠে ভারতের ক্ষুদ্র সংস্করণ। শুধু ‘মিনি ইন্ডিয়া’ বললে খড়গপুরের আরও অনেক গৌরব গাথা অনুক্ত থেকে যায়।

আরও পড়ুন: আলু নিয়ে আলুথালু

মন্দিরতলা ঘাটে ছটের আয়োজন

স্বাধীনতা আন্দোলনে এর স্থানমাহাত্ম্য যথেষ্ট গৌরবমণ্ডিত। এখানকার কুখ্যাত হিজলী বন্দি নিবাসে ১৯৩১-এর ১৬ সেপ্টেম্বর পাগলা ঘণ্টা বাজিয়ে যে হত্যালীলা হয়েছিল, তাকে জালিয়ানওয়ালাবাগের সঙ্গে তুলনা করা হয়। এরই প্রতিবাদে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন তাঁর বিখ্যাত ‘প্রশ্ন’ (১৯৩২) কবিতাটি। স্বাধীনতার পর এই কুখ্যাত জেলকে রূপান্তরিত করা হয়েছিল আধুনিক ভারতের কারিগরি শিক্ষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান খড়গপুর আইআইটি (১৯৫১)-তে। ইতিহাস, অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষা প্রভৃতির পাশাপাশি খড়গপুরের সংস্কৃতি যেমন বৈচিত্র্যময়, তেমনি বর্ণময়। বিভিন্ন প্রদেশের, বিভিন্ন জাতি ও ধর্মের মানুষের সমাবেশ ও সহাবস্থানে তৈরি হয়েছে এক মিশ্রসংস্কৃতি; যা খড়গপুরের একান্ত নিজস্ব। আজকে আমরা এখানকার ছটপুজো সম্পর্কে কিছু কথা বলব।

আরও পড়ুন: গোলপাতা চাষ ও গোল গুড় উৎপাদন হতে পারে সুন্দরবন উপকূলের বিকল্প কর্মসংস্থান

সূর্যপুজোর মণ্ডপ

‘ছট’ মূলত বিহারের প্রধান অনুষ্ঠান। স্বভাবত বিহারিরাই এই ব্রত পালন করে থাকেন। এখন অবশ্য অন্যান্য প্রদেশবাসীও ছটব্রতে শামিল হয়ে থাকেন। বিহারবাসীর এই ছট প্রাধান্যের একটি সূত্র ‘মহাভারতে’র আখ্যানের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ‘বনপর্বে’ রয়েছে, সূর্যপুত্র অঙ্গরাজ কর্ণ ছিলেন অঙ্গপ্রদেশের অধিপতি। তিনি তাঁর রাজ্যের কল্যাণ কামনায় কার্তিকের সপ্তমী তিথিতে সূর্য আরাধনা করতেন, সেই থেকেই নাকি অঙ্গদেশে সূর্য উপাসনার ধারা প্রচলিত হয়। ‘ছট’ শব্দের অর্থ হল ‘ছটা বা রশ্মি’। প্রকৃত পক্ষে এই রশ্মি সূর্যরশ্মি। ‘ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ’-এ এ-সম্বন্ধে একটি সুন্দর আখ্যান পাওয়া যায়। একদা সূর্যের প্রখর রশ্মিতে দেবী অন্নপূর্ণা ক্রমশ ক্ষীণ হতে শুরু করেন, পৃথিবীতে অন্নাভাব দেখা দেয়। তখন দেবমণ্ডলী সূর্যের শরণাপন্ন হলে তিনি জানান যে, কার্তিক মাসের শুক্ল যষ্ঠী ও সপ্তমী তিথিতে অস্তগমন কালে যদি দেবী অন্নপূর্ণা দেবী গঙ্গার আশ্রয়ে থেকে ‘দ্বাদশ আদিত্যে’র স্তব করেন, তাহলেই সমস্যার সমাধান সম্ভব।

আরও পড়ুন: ‘সঙ্গোপনে অলোকরঞ্জনা’

মন্দিরতলা ঘাট

এই আখ্যানভাগ থেকে বোঝা যায়— ছট ব্রত আসলে সূর্য, গঙ্গা, অন্নপূর্ণা (লক্ষ্মী) অর্চনার এক সম্মিলিত ত্রিবেণী সঙ্গম। বৈদিকসূক্তে সূর্যকে পীতবর্ণ, পীতকেশ, পীত বর্ণের ছটা বিশিষ্ট বলে স্তুতি আছে। দেবী অন্নপূর্ণা বা লক্ষ্মীও হরিদ্রাভ। ফলন্ত সুপক্ক ধান্যের বর্ণও পীতাভ। ছটব্রত জলাশয়ে পালন করাই প্রথা। ব্রতী জলাশয়ে সবস্ত্র স্নানের পর উদীয়মান ও অস্তগামী সূর্যের উদ্দেশ্য অর্ঘ্যপ্রদান করেন। জলের অধিপতি বৈদিক বরুণ হলেও পরবর্তীতে সেই মাহাত্ম্য দেবী গঙ্গা আত্মসাৎ করেছেন। সে যাই হোক, উক্ত পৌরাণিক আখ্যানের কি অদ্ভুত সমাপতন ঘটেছে ছটের আচারকৃত্যে, তা ভাবলে চমকিত হতে হয়। প্রথমদিকে ছটব্রতের ভারকেন্দ্রে ছিল শস্য কামনা। পরবর্তীতে তা সন্তান কামনার আচারে পর্যবসিত হয়েছে। ছটব্রতের লৌকিক কাহিনিটি এ-প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যেতে পারে। এক বন্ধ্যানারী কার্তিক শুক্লা সপ্তমীতে ‘ছটিমাতার’ ব্রত করে পুত্র সন্তান লাভ করল, কিন্তু সংকল্পের কথা বেমালুম ভুলে গেল। তখন ছটি মাতা কুপিত হলেন এবং তাঁর প্রসাদে লব্ধ পুত্রের মৃত্যু হল। তখন ঐপুত্রের বধূ ছটিমাতার উপাসনা করে স্বামীর প্রাণ ফিরে পেলেন ও শ্বশ্রুমাতাকে দিয়ে তার পূর্ব প্রতিশ্রুতি মতো ছটিমাতার আরাধনা করালেন।

পুজোর উপাচার

প্রচলিত বিশ্বাস, দেবী ভগবতী এই ব্রত পালন করে কুমার কার্তিককে লাভ করেছিলেন এবং স্বয়ং সূর্যদেব ছিলেন দেবীর ব্রত উদ্‌যাপনের সাক্ষী। সেই থেকে সন্তানকামী নারী এইদিনে সূর্যপুজো করে থাকেন। সুর্যদেব কেবল সন্তানবতীর অর্ঘ্য গ্রহণ করে থাকেন। আর বন্ধ্যা নারীর অর্ঘ ঘাটে পড়ে থাকে। বন্ধ্যানারীর ক্রন্দনে ছটিমাতা কৃপা পরবশ হয়ে তাদের মনস্কামনা পূরণ করে থাকেন। উক্ত কাহিনিতে আমরা এক দেবীকেও পেলাম। কে তিনি? ব্রতিনীরা বলেন, তিনি সূর্যের ভগিনী। কিন্তু এর কোনও শাস্ত্রীয় ভিত্তি নেই। বৈদিক ঊষা হল ছটিমাতার বীজ। ঊষা বৈদিক সূর্যের পত্নী। আর কুমার কার্তিক সূর্য সংশ্লিষ্ট দেবতা। প্রসঙ্গত, ‘মহাভারত’-এ সূর্যের বিশেষণগুলি সবিশেষ সৌর প্রভাবিত— ‘বালার্কদীপ্তিং’, ‘অরুণম আদিত্যপ্রভম’, ‘সিন্দূরারুণতেজসে’। ‘স্কন্দপুরাণের’ কাশীখণ্ডে অগস্ত্যমুনি কর্তৃক কার্তিকেয় স্তবে স্পষ্ট করেই কার্তিককে সূর্যসম্ভবরূপে বর্ণনা করা হয়েছে— “হিরণ্যবর্ণায় হিরণ্যবাহবে নমো হিরণ্যায় হিরণ্য রেতসে।”

আরও পড়ুন: নবানে কার্তিক ও কার্তিকের কৃষি সম্পৃক্ততা

সুসজ্জিত সুপা

ষষ্ঠীতিথিটিও কার্তিকের সঙ্গে সংযুক্ত। স্কন্দষষ্ঠী বা গুহষষ্ঠী হল কার্তিকের জন্মতিথি। পরবর্তীতে প্রজাপতি কন্যা দেবসেনার সঙ্গে ষষ্ঠীতিথিতেই কার্তিকের বিবাহ হয়েছিল। পুরাণে দেবী ষষ্ঠী দেবসেনারই নামান্তর। আবার এর মূলে রয়েছে বৈদিক ‘ষড়হ যাগে’র স্মৃতি। অমাবস্যার পর প্রতিপদ থেকে শুক্লষষ্ঠী পর্যন্ত হত যজ্ঞ। ষষ্ঠী তিথিতে পূর্ণাহুতি প্রদত্ত হত। যজ্ঞ সমাপনে স্কন্দের দেবসেনা লাভ হয়েছিল এবং ছটি তিথিতে কুমার যজ্ঞীয় হবি পান করেছিলেন বলেই কার্তিককে ষড়াননরূপে কল্পনা করা হয়। প্রায় সমস্ত হিন্দু দেবদেবীর পুজো চান্দ্র তিথি নির্ভর হলেও কার্তিক পুজো হয় সৌরতিথি ধরে। ‘মহাভারত’-এর বনপর্বে কার্তিককে ‘ষষ্ঠীপ্রিয়’ বলে সম্বোধন দৃষ্ট হয়। আর “মাতৃকাষু পূজ্যতমা সা চ ষষ্ঠী প্রকীর্তিতা।” আসলে ছটিমাতা হলেন এই ষষ্ঠী। সূর্যের জন্মতিথি সপ্তমী। তা সপ্তরশ্মির দ্যোতক। সূর্য সপ্তাশ্ববাহিত রথে আরোহন করেন। তবে কার্তিক মাসে দক্ষিণায়ন, ফলে সূর্য নীচস্থ। ষড়কৃত্তিকা হলেন ষটচক্রের দেবী। ষটচক্রভেদ করে সূর্য আবার তুঙ্গী হবেন এই প্রার্থনাই ছটের মূল। উত্তরায়ণ শস্যের উৎপাদনকাল। শস্য এবং সন্তান উভয়েই উর্বরতাবাদের প্রতীক। এভাবেই ছটের কৃত্যে দেবী ষষ্ঠী বা ‘ছটিমাইয়া’র অনুপ্রবেশ।

আরও পড়ুন: বঙ্গদেশে চ কালিকা

ঠেকুয়া

ছট ব্রতের আনুষ্ঠানিকতার সূচনা হয় সৌর কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথি থেকে। সারাদিন উপবাসে থেকে সূর্যাস্তের পর চালের গুঁড়ো, ঘি, চিনির এক অভিনব সিন্নি গরম দুধের সঙ্গে মিশিয়ে ভোজন করতে হয়। পঞ্চমীর দিনে লবণ বিহীন আটার রুটি, অড়হর ডাল, লাউয়ের তরকারি, ছোলা-কাঁচকলা খাওয়ার রেওয়াজ। ষষ্ঠী তিথিতে সারাদিন অভুক্ত থেকে অস্তগামী সূর্যের উদ্দেশ্যে সান্ধ্যবন্দনা করতে হয়। এর জন্য প্রয়োজন একটি সুপা বা বাঁশের তৈরি কুলো। তাতেই সাজানো হয় সূর্য উপাসনার অর্ঘ্য। ওই ডালায় দেওয়া হয় একখণ্ড ইক্ষুদণ্ড, অখণ্ড কদলীর ছড়া, শশা, বাতাবিলেবু, নারকেল, মুলো ইত্যাদি সহ ছয় রকমের মরশুমী ফল, ঠেকুয়া মিষ্টি, ঘৃতে প্রজ্বলিত দীপ। এরপর ব্রতী জলাশয়ে নাভিসমান জলে দাঁড়িয়ে পশ্চিমমুখী হয়ে অস্তগামী সূর্যের উদ্দেশ্যে সূর্যার্ঘ্য নিবেদন করে ওই ডালা দিয়ে সন্ধ্যা সবিতার আরতি করেন। তারপর বাড়ি ফিরে জলপান করে সকলে দেবতার প্রসাদ গ্রহণ করেন। পরদিন ভোরবেলা একইভাবে ডালাছট নিয়ে জলাশয়ে উপস্থিত হন। এবার অবশ্য পূর্বমুখী হয়ে উদয় সূর্যের বন্দনা করতে হয়। সূর্যার্ঘ্য প্রদানের পর উপবাস ভঙ্গ ও ব্রতের সমাপন।

মন্দিরতলা ঘাট

ছটপুজো উপলক্ষে খড়গপুর শহরের সবচেয়ে বড় সমাবেশটি হয় সাবেক শ্রীকৃষ্ণপুর মৌজাস্থিত ৭নং ওয়ার্ডে। এখানকার রূপেশ্বর শিব মন্দিরের ঘাট বা মন্দিরতলা ঘাটে। এই ঘাটগুলির প্রতিষ্ঠাতা মূলত বিহারিরাই। মন্দিরতলার পুকুরটি আয়তকার। আর তার চারপাশে ঘাট। এখানকার সবেচেয়ে নবীনতম ঘাটটি ১৯৩২ খ্রিঃ বিকানের-বাসী জনৈক মতিলাল সিন্ধে তাঁর মৃত মাতৃদেবী যমুনাদেবীর স্মৃতিতে নির্মাণ করেছিলেন। এর প্রতিষ্ঠালিপি ইংরেজিতে খোদিত। পুরনো ঘাটগুলির লিপি অবশ্য নাগরীলিপি। ছটব্রতের ব্রতীরা মূলত এখানেই সমবেত হন। এখন এই উৎসব পালনের জন্য খড়গপুর ছটপুজো প্রবন্ধক কমিটি গঠিত হয়েছে। তাঁরাই এটির ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা করে থাকেন। তাঁরাই সম্প্রতি এখানে সূর্যদেবতার মূর্তি পুজোরও প্রচলন করেছেন। দেখতে দেখতে তা ও পঞ্চবিংশতী বছর হয়ে গেল। এখন মন্দিরতলা ঘাটে ছটের অনুষ্ঠানে আর শুধু বিহারীরাই নয় সমগ্র খড়গপুরবাসীই অংশগ্রহণ করে থাকেন। ডালাছট হাতে বাঙালিদেরকেও পাওয়া যায়। আবার বাঙালিদের বিজয়ার সিন্দুরখেলার আদলে বিহারিবধূদের মেটে সিন্দুর মাখতেও দেখা যায়। একেই বোধ হয় বলে ‘সংস্কৃতি-সংশ্লেষ’।

‘অগ্নি পুরাণ’-এর বচনে বলা হয়েছে যে ব্যক্তি মিষ্টান্ন দ্বারা দেবসেবা করে সে অমরত্ব লাভের অধিকারী হয়—

“মিষ্টান্নপানাদিতীর্থ সততং শ্রদ্ধয়ান্বিতঃ
দেবপুজো পরো নিত্যং ন প্রেতো জায়তে মৃতঃ”

অবাঙালি ব্রতিনী

স্বভাবতই হিন্দু দেবতাগণ বেজায় মিষ্টিপ্রেমী। এক এক দেবতার এক এক মিষ্টি প্রিয়। যেমন— ইন্দ্রের ‘পুরোডাশ’, গণেশের ‘মোদক’, মীনাক্ষীর ‘পোঙ্গল’, জগন্নাথদেবের ‘খাজা’, গোপীনাথের ‘অমৃতকেলী’ থেকে সত্যনারায়ণের ‘সিন্নি’, তেমনি ছটপুজোর ‘ঠেকুয়া’। অত্যন্ত শুদ্ধাচারে বাড়িতে তৈরি করা হয় এই বিশেষ মিষ্টি। খাঁটি গাওয়া ঘিয়ের ময়াম দিয়ে আটা, গুড়, দুধ দিয়ে মণ্ড তৈরি করা হয়। তাতে মেশানো হয় এলাচ গুঁড়ো, কিসমিস, কাজুবাদাম। তারপর ছাঁচে ফেলে সন্দেশের আকারে গড়ে হালকা আঁচে লাল করে ঘিয়ে ভেজে তৈরি হয় ঠেকুয়া। খাস্তা অথচ মুখে দিলেই মিলিয়ে যায় মিষ্টি স্বাদের এই মিষ্টি। ছটপুজোর সকলে খড়গপুরের খরিদা, সুভাষপল্লি, মালঞ্চ, ঝাপেটাপুর, ইন্দার বিহারি পাড়াগুলি ঠেকুয়া ভাজার সুগন্ধে ম-ম করে। জানান দেয় ছটপুজোর পার্বণী ছোঁয়া। এর স্বাদের উৎকর্ষ অবশ্য বিহারিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, প্রসাদী ঠেকুয়ার স্বাদে মজে সমগ্র খড়গপুর। পড়শীদের বাড়িতে প্রসাদী ঠেকুয়া পাঠানোই রেওয়াজ। এ-বছর অবশ্য পরিস্থিতি অন্যরকম। কোভিড মহামারির কারণে শারীরিক দূরত্ববিধি মেনে পালিত হবে ছটপুজো। শহরের আনাচে-কানাচে গোটা গোটা আখ গাছ, কলার কাঁদি,  নারকেল, বাঁশের বোনা ছটের কুলো সদৃশ ডালা ইত্যাদি নিয়ে বিক্রেতারা ভিড় জমিয়েছেন ঠিকই, বেচা কেনাও মন্দ হচ্ছে না, তবু কোথাও যেন ছন্দপতন হচ্ছে। অতিথি অভ্যাগতের সংখ্যা অনেকটাই কম। সব মিলে খড়গপুরের ছটে আয়োজন আগের মতো হলেও কোথাও যেন পূর্বের সেই আনন্দ সমাগমের, উন্মাদনার, অভাব বড় বেশি করে চোখে পড়ছে।

কভার ছবিটি ছট উপলক্ষে পটনার একটা ঘরের মোটিফ। বাকি সমস্ত ছবি ২০১৯-এ লেখকের ক্যামেরায় খড়গপুর থেকে তোলা।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *