ক্রেনের মাথায় ঝুলছে মৃতদেহ, আফগানিস্তানে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে শরিয়তি শাসন

Mysepik Webdesk: আফগানিস্তান দখল করেছে তালিবান। গত ১৫ অগাস্ট আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখল করে তারা। তবে, আর সেই পুরানো ফরম্যাটে নয়, নিজেদেরকে পাল্টে ফেলে একেবারে নতুন রূপে শাসন ব্যবস্থা চালু করতে চায় তালিবান সরকার, সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই জানিয়েছিল তালিবান মুখপাত্ররা। কিন্তু, মুখে যতই একথা বলুক না কেন, বাস্তবে ঠিক তার উল্টো ঘটনা ঘটছে আফগানিস্তানে। এ যেন সেই নতুন বোতলে পুরোনো মদ ভরে বিক্রি করার মতো।

আরও পড়ুন: জিন্নাহর মূর্তি ভেঙে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেছিলেন,বন্দুকের ভয় দেখিয়ে আফগানিস্তান দখল করলেও দেশ শাসন করতে গিয়ে হয়তো কিছুটা হলেও নিজেদের বদলে ফেলবে তালিবান। কিন্তু, বাস্তবে তার উল্টো চিত্রই দেখা গেল। যত সময় পেরোচ্ছে, তালিবানের সেই নৃশংস দিকটাই ধীরে ধীরে প্রকট হয়ে উঠছে। সম্প্রতি, তালিবান কারাপ্রধান মোল্লা নুরুদ্দিন তোরাবি জানিয়েছিলেন, শরিয়ত আইনই লাগু করা হবে আফগানিস্তানে। ফলে, আগামী দিনে ফিরিয়ে আনা হবে একাধিক নৃশংস শাস্তি। হাত-পা কেটে নেওয়া বা প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার মতো শাস্তি লাগু হতে চলেছে আফগানিস্তানে, ঠিক যেমনটা দেখা যেত নয়ের দশকে তালিবান শাসনকালে।

আরও পড়ুন: চুল-দাড়ি কাটা যাবে না, ফতোয়া জারি তালিবান সরকারের

মোল্লা নুরুদ্দিন তোরাবির এই ঘোষণার পরে দিনই হেরাটের রাস্তায় ক্রেনের মাথায় একটি রক্তাক্ত মৃতদেহ ঝুলতে দেখা যায়। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে আমেরিকা। পাশাপাশি রাশিয়াও জানিয়ে দিয়েছে, এখনই আফগানিস্তানের তালিবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা ভাবছে না তারা। যদিও তালিবান সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে পাকিস্তান। তবে, এই ধরণের ঘটনা ঘটতে থাকলে আগামী দিনে বিশ্বের কোনও প্রগতিশীল, শিক্ষিত দেশ তালিবান সরকারকে আদৌ সমর্থন করবে কিনা, সেটা যথেষ্ট সন্দেহের বিষয়।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *