শান্তিপুরের প্রথম বারোয়ারি পুজো সূত্রাগড় বঙ্গপাড়া বুড়ো বারোয়ারি

তিরুপতি চক্রবর্তী

শান্তিপুরের আদি বারোয়ারিগুলির মধ্যে প্রথম পুজো শুরু হয় এই বঙ্গপাড়ায়। সূত্রাগড় বঙ্গপাড়ার এই বারোয়ারি প্রাঙ্গণে শুরু হয় শান্তিপুরের প্রথম বারোয়ারি পুজো। এমনই দাবি উদ্যোক্তাদের। প্রাচীন এই দেবীমূর্তির প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন আজ থেকে আনুমানিক ৩০০ বছর আগে। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সূত্রাগড় অঞ্চলের এক ব্যবসায়ী পরিবার। তাঁরা এসেছিলেন গুপ্তিপাড়া থেকে। তখন বিন্দুবাসিনী দেবীর পুজো সবে গুপ্তিপাড়ায় শুরু হয়েছে। সেই ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি পাড়ার কয়েকজনকে নিয়ে শান্তিপুরের এই বঙ্গপাড়া বুড়ো মায়ের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন।

আরও পড়ুন: ১৭৮ বছর ধরে পুজো হয়ে আসছে শান্তিপুরের চৈতলপাড়ায়

এটি শান্তিপুরের আদি বা প্রথম বারোয়ারি পুজো বলেই মনে করেন এলাকাবাসী। আদি সনাতনী নয়নাভিরাম এই তিন পুতুলের একচালা মূর্তিটি তৎকালীন সময়ে প্রখ্যাত শিল্পী অজিতকুমার পালের সৃষ্টি। বর্তমানে তাঁর উত্তরপুরুষ প্রদীপ পাল এই মূর্তি নির্মাণ করেন। শান্তিপুর অঞ্চল ছাড়াও বহু দূরের অগণিত মানুষ এখানে আসেন মানত করতে।

আরও পড়ুন: ছাতাটাঁড়ের দুর্গাপুজোর পৌরোহিত্য করতে বাঁকুড়া থেকে এসেছিলেন ঝাড়খণ্ড, বাকিটা ইতিহাস

দেবীকে নিয়ে বহু অলৌকিক ঘটনার কথা শোনা যায়। এই পুজোর পাট পুজো হয় পয়লা বৈশাখ, তারপর পঞ্চমীতে বোধন হয়ে দশমীর রাত্রে শোভাযাত্রা সহ শান্তিপুর শহর পরিক্রমা করে প্রতিমা নিরঞ্জন হয়। এই পুজোতে কোনও রান্না করা ভোগ দেওয়া হয় না। এখানে প্রসাদ হিসাবে ব্যাহার করা হয় আস্ত ফল ও শুকনো চিঁড়ে, মুড়ি, মুড়কির নৈবদ্য। আয়তনে খুব ছোট এই পাড়া। তবুও এত বড় এই পুজোর এই আয়োজন সমগ্র শান্তিপুরবাসীর অংশগ্রহণ ও সমর্থনে খুব বড় উৎসবের আকার নেয়। এই পুজো এতটাই জাগ্রত যে, বহু দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে মানত করতে আসেন। লোকবিশ্বাস এই যে, মায়ের মুখের দিকে চেয়ে যদি কিছু চাওয়া যায় তাহলে নাকি সেই মনস্কামনা পূরণ হয়ই। তাই এই বিশ্বাসে ভর করেই আজ যুগ যুগ ধরে তিনি সবার কাছে, আশীর্বাদি বুড়ো মা বলেই পূজিত হয়ে আসছেন।

ছবি লেখক

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *