টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভারতে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা, নিশ্চিত করল কেন্দ্র

Mysepik Webdesk: করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় দেশজুড়ে চলছে টিকাকরণ। দ্রুত টিকা প্রদান ছাড়া করোনাভাইরাসকে রুখে দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে বিশেষজ্ঞরা। এরই মধ্যে টিকা নেওয়ার পর একাধিক মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। তবে এই প্রথম গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মার্চের সময়সীমার মধ্যে টিকাগ্রহণকারী তিনজনের শরীরে অ্যানাফিলেক্সিস দেখা গিয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ব্যাক্তির মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, সম্ভবত করোনার টিকা নেওয়ার পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। জানা গিয়েছে, যে ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে, তিনি গত ৮ মার্চ করোনার টিকা নিয়েছিলেন। এছাড়াও একজন ২১ বছরের তরুণী ও ২২ বছরের এক যুবকের শরীরে অ্যানাফিলেক্সিসের প্রভাব পাওয়া গিয়েছে। তাঁরাও গত ১৯ ও ১৬ জানুয়ারি করোনার টিকা নিয়েছিলেন। চিকিৎসার পর তাঁরা দু’জন্যেই সুস্থ হয়ে গিয়েছেন।

আরও পড়ুন: সাপের কামড় খাওয়ার পর সেই সাপ নিয়েই হাসপাতালে গেলেন যুবক

অ্যানাফিলেক্সিস আসলে একধরণের অ্যালার্জি, যা মারাত্মকভাবে মানুষের শরীরে প্রভাব বিস্তার করে। এর ফলে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। স্বাস্থ্য মন্ত্রক কার্যত স্বীকার করে নিয়েছে যে এটাই ভারতে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নেওয়ার পর প্রথম মৃত্যু। পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, এই ঘটনা বিরলের মধ্যে বিরলতম ঘটনা। এই পর্যায়ে প্রায় ৬০ মিলিয়ন করোনার টিকার ডোজ দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ের মধ্যে প্রায় ২৮ জনের মৃত্যু হলেও তাদের ক্ষেত্রে অ্যানাফিলেক্সিসের কোনও প্রভাব খুঁজে পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি ৯ জনের মৃত্যুর কারণও জানা যায়নি।

আরও পড়ুন: ভ্যাকসিনের ওপর উঠছে না GST, কাউন্সিলের বৈঠকে ঘোষণা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর

জাতীয় AEFI কমিটির চেয়ারপার্সন ডক্টর এনকে অরোরা এই বিষয়ে জানান, “এটাই দেশের প্রথম মৃত্যুর ঘটনা যেখানে করোনার টিকা নেওয়ার পর শরীরে অ্যানাফিলেক্সিসের প্রভাব লক্ষ করা গিয়েছে। কিন্তু আপনারা যদি বিষয়টিকে আরও বৃহত্তর পরিধিতে দেখেন, তাহলে এত টিকাকরণের মাঝে এটি একটি বিরলের মধ্যে বিরলতম ঘটনা। ইতিমধ্যেই আমরা এই ধরণের ৩১টি কেস নিয়ে তদন্ত করেছি। তাদের মধ্যে মাত্র একটি ক্ষেত্রেই অ্যানাফিলেক্সিসের প্রমান পাওয়া গিয়েছে। তবে বাকি দুজনের অ্যানাফিলেক্সিস থাকলেও, তার সঙ্গে টিকার কোনও যোগ নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অ্যানাফিলেক্সিস হলে তার চিকিৎসা করা সম্ভব।”

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *