নাচ করে আমেরিকার মঞ্চ মাতিয়ে কৃষক বাবার মুখে হাসি ফুটিয়েছিল যে বঙ্গ তনয়া

America Got

Mysepik Webdesk: বাংলার এক প্রান্তিক কৃষকের মেয়ে তার নাচের প্রতিভার জন্য এখন সারাবিশ্বে পরিচিত। তবে এর পিছনে রয়েছে প্রবল প্ররিশ্রম এবং নিজের প্যাশনের প্রতি নাছোড় মনোভাবের এক গল্প। স্বপ্ন তো সবাই দেখে, কিন্তু স্বপ্নকে সফল করতে পারে ক’জন? আজ এমন একজনের কথা বলব, যে স্বপ্নকে সফল করে নিজেই এখন অনেকেরই অনুপ্রেরণা। তিনি সোনালি মজুমদার। ‘আমেরিকান গট ট্যালেন্ট’ নামে একটি রিয়ালিটি শো-এর মঞ্চে বাংলার মেয়ে সোনালি মুগ্ধ করেছিল বিচারকদের। পাশাপাশি মাত্র ১৫ বছর বয়সেই সে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছিল বিশ্বের মঞ্চে। তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও সোনালি ২০১২ সালে ইন্ডিয়া গট ট্যালেন্টে অংশগ্রহণ করেছিল। সেই সময়েও সে মুগ্ধ করেছিল বিচারকদের। এরপর ২০১৩ সালে ‘ঝলক দিখলা জা’তে হাজির হয়েছিল এবং দ্বিতীয় রানার আপ হিসাবে শেষ করেছিল।

আরও পড়ুন: মাত্র ছ’মাসের শিশু ওয়াটার স্কিয়িং-এর বিশ্বরেকর্ড গড়লেন! ভাইরাল ভিডিও

নাচের এক পর্যায়ে সামান্থ মারোজুর মাথার উপরে দাঁড়িয়েছিল সোনালি। তার পা মারোজুর মাথার উপরে রেখে দুর্দান্ত স্পিন করছিল। সেই সময়ে বিচারকের আসনে থাকা হেইডি ক্লুম, সোফিয়া ভার্গারা এবং হাভি ম্যান্ডেল তার এই পারফরম্যান্সে অভিভূত হয়ে যান। ফাইনালে হেরে গেলেও মার্কিন বিচারকদের তথা মার্কিন মুলুকের মানুষের মনজয় করেছে সোনালি। তার নাচ দেখে উঠে দাঁড়িয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন উপস্থিত বিচারক এবং দর্শকেরা। তাঁদের চোখে ছিল বিস্ময়। এত নিখুঁত কীভাবে হয় সোনালি-মারাজুর যুগলবন্দি? হবে না-ই বা কেন? তারা যে নিয়মিত ৮-১০ ঘণ্টা ‘ব্যাড সালসা’ প্র্যাক্টিস করত। ইদানীং নতুন করে তাদের পারফরম্যান্স সামনে আসছে ইউটিউবে, যা সবসময় টাটকা।

আরও পড়ুন: আস্ত একটি পাখিকে গিলে খাচ্ছে একটি বিশালাকার মাকড়সা, ভাইরাল ভিডিও

তাছাড়াও সোনালি এর আগে ২০১৭-তে ব্রিটেনের গট ট্যালেন্ট: দ্য চ্যাম্পিয়ন্সে পারফরম্যান্স করেছিল। পশ্চিমবঙ্গের ষোলারদাড়ি গ্রামের বাসিন্দা সোনালি সম্প্রতি আইএনএএস-কে তার ডান্সিং জার্নির কথা জানাতে গিয়ে বলেছিল, “আমি বাংলাদেশ সীমান্তের নিকটবর্তী এমন একটি গ্রাম থেকে এসেছি যেখানে বিদ্যুৎ নেই। আমার বাবা একজন কৃষক, যিনি প্রতিদিন আনুমানিক ৭০ টাকা উপার্জন করে খুবই কষ্ট করতেন। ‘ইন্ডিয়া’স গট ট্যালেন্টে’-এর পরে আমাদের গ্রাম আলোচনায় আসে। শেষপর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এখন আমাদের কিছু জমি রয়েছে এবং আমাদের পরিবারের জন্য একটি ঘরও তৈরি করেছি।”

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *