মাঝমাঠে প্রাধান্য নিয়ে নর্থ ইস্টকে হারিয়ে জয়ের সরণিতে সবুজ মেরুন ব্রিগেড

সায়ন ঘোষ

অবশেষে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এলো এটিকে মোহনবাগান। গত ম্যাচে ড্র করে চাপে ছিল হাবাসের ছেলেরা। কিন্তু এদিন দুর্দান্ত খেলে ফের জয়ের সরণিতে ফিরল মোহনবাগান। এদিন হাবাস ৪-৪-২ ছকে দল সাজান। গোলে অধিনায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য। রক্ষণ সামলানোর দায়িত্ব ছিল প্রীতম, সন্দেশ, তিরি, শুভাশিসের। মাঝমাঠে এডু গার্সিয়া, ম্যাকহিউ, সাহিল, প্রবীর। আপফ্রন্টে রয় কৃষ্ণা ও ডেভিড উইলিয়ামস। অন্যদিকে, নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড দল নামায় ৪-৩-৩ ছকে। গোলে গুরমিত সিং। রক্ষণে আশুতোষ মেহতা, ল্যাম্বার্ট, ড্যানি ফক্স, প্রভাত লাকড়া। মাঝমাঠে ল্যাঙ্গামাউয়া, খাসা চামারা, ফ্রেডরিক। আপফ্রন্টে সুহের ভিপি, সাইলা, রাহাজেলা।

আরও পড়ুন: নতুন বছরে কাঙ্ক্ষিত জয় পেল ইস্টবেঙ্গল, ‘সেরা অভিষেক’ ব্রাইটের

শুরু থেকেই দুই দল মাঝমাঠে দখলের লক্ষ্যে খেলতে নামে। এদিন সাহিল ও এডুকে দিয়ে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নেয় মোহনবাগান। ডানদিক দিয়ে আক্রমণের ঝড় তোলেন প্রবীর। প্রভাত লাকড়াকে গতিতে পরাস্ত করে বেশ কয়েকটি ক্রস ও তোলেন। ম্যাচের ১৭ মিনিটে এডুর হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ২৪ মিনিটে ফক্স হেড মিস করেন। ২৭ মিনিটে প্রবীরের শট অল্পের জন্য মিস হয়। ২৮ মিনিটে ফের এডুও মিস করেন। ৪০ মিনিটে প্রবীর দাস আবার মিস করেন। ৫১ মিনিটে কর্নার থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রয় কৃষ্ণা। ফের ৫৮ মিনিটে কর্নার থেকে আত্মঘাতী গোল করে বসেন ল্যাম্বার্ট। ৭০ মিনিটে অরিন্দম ভট্টাচার্য দক্ষতার শীর্ষে উঠে একটি নিশ্চিত গোল বাঁচান। ৮১ ও ৮৬ মিনিটে ডেভিড উইলিয়ামস দূরপাল্লার শট নিয়ে গোলের একটা প্রচেষ্টা করেন।

আরও পড়ুন: ছাওয়াল পাওয়ালের মুখে খেল্

২-০’তে লিড নেবার পর হাবাস সাহিলকে তুলে প্রণয়কে নামিয়ে গোলের মুখ বন্ধ করে দেন। অন্যদিকে, পিছিয়ে পড়ার পর আক্রমণের চেষ্টা করে গেলেও নর্থ ইস্ট গোল পাইনি। সন্দেশ ঝিংগান এদিন দুর্দান্ত খেললেন। মূলত তাঁর নেতৃত্বে মোহনবাগান রক্ষণ কার্যত দুর্ভেদ্য দুর্গতে পরিণত হয়। যদিও প্রথমার্ধে রয় কৃষ্ণা আপফ্রন্টে বারংবার একা হয়ে যাচ্ছিল। তাই গোলের মুখ খুলতে পারেনি হাবাস বাহিনী। অন্যদিকে, নর্থ ইস্টের লক্ষ্য ছিল রক্ষণ সামলে আক্রমণে যাওয়ার। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান প্রেসিং ফুটবল খেলা শুরু করে এবং প্রবীর দাস ও এডু পালা করে আপফ্রন্টে এসে দ্বিতীয় স্ট্রাইকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। বাঁ-দিকে সাহিলের অভিজ্ঞতা কম থাকায় তাঁকে সাহায্যের জন্য ডেভিড উইলিয়ামস কিছুটা নেমে লেফট উইং দিয়ে খেলতে থাকেন। এরফলে নর্থ ইস্ট ডিফেন্স ভেঙে গোলের মুখ খুলে যায়। ২-০’তে পিছিয়ে পড়ার পর নর্থ ইস্ট রক্ষণ জমাট করতে গুরজিন্দরকে মাঠে আনে। মাঝমাঠে ম্যাক হিউ ও এডুর সঙ্গে লড়াইয়ে পেরে ওঠেননি খাসা চামারা। তাই তাকে তুলে ম্যাচাডোকে আনে নর্থ ইস্ট কোচ জেরার্ডো নার্স। তবে শেষের দিকে গ্লেন মার্টিনেজ ও ব্রাড ইমামকে মাঠে এনে ম্যাচের শেষ ওবধি মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণে রাখে মোহনবাগান।

আরও পড়ুন: মাত্র ১৪ বছর বয়সে গ্র্যান্ডমাস্টার হয়ে ইতিহাস গোয়ার লিওন মেন্ডনকার

নিজেদের নবম ম্যাচে ৫৫% বল পজেশন নিয়ে খেলেছে এটিকে মোহনবাগান। গোলমুখী শট নিয়েছে ১১টি। তার মধ্যে গোলে ছিল ৩টি শট। অন্যদিকে, ৪৫% বল পজেশন নিয়ে নর্থ ইস্টও ১১টি গোলমুখে শট নেয়। তারমধ্যে ১টি শট নিশানায় ছিল। এই জয়ের ফলে ৯ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে লিগ শীর্ষে উঠে এলো হাবাসের ছেলেরা। পরের ম্যাচ থেকে মোহনবাগান মাঝমাঠ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। কারণ চেন্নাই ম্যাচে চোট সারিয়ে দলে ফিরছেন জাভি হার্নান্দেজ।

ছবি আইএসএল

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *