রক্তগঙ্গা কাবুল, জোড়া আত্মঘাতী বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল হামিদ কারজাই বিমানবন্দর

Mysepik Webdesk: আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঠিক সামনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জোড়া বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের প্রাণ হারিয়েছেন বহু। আমেরিকান অ্যাবি গেটের সামনে প্রথমে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে পরেই শুরু হয় এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ। গোটা ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৫২ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। ‘ওয়াল স্ট্রিট’ জার্নালের মতে, হতাহতের সংখ্যা ৬০। মৃতদের মধ্যে চারজন আমেরিকান সেনা রয়েছেন। সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসআইএস-এর খোরাসান গ্রুপ এই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।

আরও পড়ুন: তালিবান আতঙ্কে দেশ-পালানো পপ তারকা আরিয়ানা সোশ্যাল মিডিয়ায় শোনালেন অভিজ্ঞতার কথা

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অ্যাবে গেটে প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে। এটির কিছুক্ষণ পরেই বিমানবন্দরের কাছে ব্যারন হোটেলের সামনে আরও একটি বিস্ফোরণ ঘটে। ব্রিটিশ সৈন্যরা এখানে ছিলেন। বিমানবন্দরের বাইরে তিনজন সন্দেহভাজনকে দেখা গিয়েছে। তাদের মধ্যে দু’জন ছিল আত্মঘাতী বোমারু। আর তৃতীয় ব্যক্তি ছিল বন্দুক নিয়ে। অন্যদিকে, তালিবান এখনও পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে নারী ও শিশু। তালিবান একে সন্ত্রাসী হামলা বলে অভিহিত করেছে।

আরও পড়ুন: আফগানদের মৌলিক অধিকারের কথা বলতে ইনস্টাগ্রামে এলেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, শেয়ার করলেন এক আফগান মেয়ের চিঠি

সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে যে, বিমানবন্দর সংলগ্ন ড্রেনে মৃতদেহের স্তূপ দেখা গিয়েছে। আহতদের গোঙানির শব্দ শোনা যাচ্ছে। জলে পড়ে আছে মৃতদেহ। মানুষ তার প্রিয়জনকে খুঁজছে। একদিন আগেই এই ড্রেনের একটি ভিডিয়ো দেখা গিয়েছিল। সেখানে বহু মানুষের ভিড় ছিল। বিমানবন্দরের ঢোকার জন্য মানুষ ড্রেনে দাঁড়িয়েছিল। এদিকে, ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জোড়া বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নিরাপত্তার জন্য কাবুল বিমানবন্দর থেকে সমস্ত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিমানগুলি ন্যাটো বাহিনীর নিরাপত্তার আওতায় নেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি একটি আত্মঘাতী আক্রমণ ছিল এবং হামলাকারীর লক্ষ্য ছিল আমেরিকান এবং ব্রিটিশ সেনারা।

আরও পড়ুন: কাবুল বিমানবন্দরে তুর্কি সেনাদের মানবিকতার দৃশ্যে মুগ্ধ বিশ্ববাসী

হোয়াইট হাউসের একটি সূত্র মারফত সিবিএস নিউজ জানিয়েছে যে, মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন এবং তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা এক ঘণ্টা সিচুয়েশন রুমে বৈঠক করেন। বিদেশ মন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। কিছু না জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ জেনারেল মার্ক মিলি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছিলেন। উল্লেখ্য যে, কয়েকদিন আগেই পেন্টাগনের তরফে এমন হামলার আশঙ্কা করা হয়েছিল। তা-ই সত্যি হল।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *