‘ভিড়ে নয়, পুজো কাটুক ঘরে!’ ভয়াবহ সংক্রামণের আশঙ্কায় উৎসব নিয়ে সতর্কতা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

hars bardhan

Mysepik Webdesk: করোনার তার নিজের ছন্দে বিশ্বজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তবে দেশে কিছুটা হলেও করোনার জের কমেছে। টানা আট দিন দেশে করোনায় মৃত্যুসংখ্যা এক হাজারের গণ্ডি পেরোয়নি। টানা ২৩ দিন ধরে অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা কমছে। শুধু তাই নয় দেশে করোনা-জয়ীর সংখ্যাও ৬০ লাখ পেরিয়েছে। এই প্রতিটি সাফল্যই কিন্তু একেবারে ধুয়ে-মুছে যেতে পারে উৎসবের মরসুমে!

আরও পড়ুন: হাই স্পিড ট্রেন চালাতে বাদ দেওয়া হচ্ছে স্লিপার কোচ

ওনাম পরবর্তী কেরালা হোক কিংবা দুর্গাপুজোর বাজারে মেতে ওঠা পশ্চিমবঙ্গ সবটাই ভয়াবহ সংক্রামণের আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে বেরিয়ে না-যায়, তার জন্য দেশবাসীর কাছে করজোড়ে আবেদন রাখলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন। দেশবাসীর কাছে তাঁর অনুরোধ, বেশি ভিড়ের মধ্যে যাবেন না। উৎসবের মধ্যেও করোনা সতর্কতা মেনে চলুন। ‘কোনও ধর্ম বা ভগবান উৎসব সাড়ম্বরে পালনের কথা বলেনি’, এই মন্তব্য করে বাড়িতে বসেই পুজো উৎযাপনের পক্ষে সওয়াল করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ।

সামনেই দেশজুড়ে শুরু হতে চলছে লম্বা উৎসবের মরসুম। দুর্গাপুজো, নবরাত্রি, দশেরা, দীপাবলি একের পর এক বড় উৎসব। তবে মহামারীর মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কোনও উৎসবই এ বারের মতো নিষিদ্ধ করা হয়নি। শুধু দেওয়া হয়েছে সতর্কতামূলক নির্দেশিকা। কিন্তু এই সতর্কতামূলক নির্দেশিকায় কাজের কাজ যে কিছু হচ্ছে না, কয়েকটি রাজ্যের তথ্যই তার নমুনা।

আরও পড়ুন: কাশ্মীরের নদীতে ভেসে আসা টিউবে উদ্ধার একে ৪৭

ওনামের পর দৈনিক সংক্রমণ এতটাই বেড়েছে যে মহামারীর শুরু থেকে প্রথম স্থানে থাকা মহারাষ্ট্রকেও পিছনে ফেলে দিয়েছে একসময় রাষ্ট্রপুঞ্জ থেকে শংসাপত্র পাওয়া রাজ্যটি। উৎসব শুরু হওয়ার আগে যেখানে দৈনিক সংক্রমণ এক হাজারের আশপাশে ছিল, শনিবার তা এক লাফে বেড়ে হয়েছে ১১,৭৫৫। অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা এখন ৯৬ হাজার।

রাজ্যেও করোনা সংক্রামন মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে। ১ অক্টোবর অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা ছিল ২৬,৫৫২। রবিবার তা বেড়ে হয়েছে ৩০,২৩৬। মেট্রো চালু হওয়া এবং পুজোর বাজারের ভিড় শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রতিদিনই নিয়ম করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে রাজ্যে। এই নিরিখে দেশের প্রথম ছ’টি রাজ্যের মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ!

গীতার প্রসঙ্গ টেনে হর্ষ বর্ধন বলেছেন, মেলায় বা মণ্ডপে ভিড় না করে এ বছর বাড়িতে বসেই কাছের লোকেদের সঙ্গে পুজো কাটান। তাঁর কথায়, ‘কোনও ধর্ম বলেনি প্যান্ডেলে গিয়ে, বা মন্দির-মসজিদে প্রার্থনা করে সাড়ম্বরে উৎসব পালন করতে। ধর্ম বা বিশ্বাস প্রমাণ করার জন্য ভিড়ে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। কৃষ্ণ বলেছেন নিজের লক্ষ্যে স্থির থাকো। আমাদের লক্ষ্য ভাইরাসকে পরাস্ত করা। মানবজাতিকে রক্ষা করা। এটাই আমাদের ধর্ম। গোটা বিশ্বের ধর্ম।’ শীতে দেশজুড়ে করোনার সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কার কথাও শুনিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

Similar Posts:

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *