মৃত প্রভাকরণ ভীষণভাবে জীবিত আছেন তামিলনাড়ু নির্বাচনে

Talimnadu

Mysepik Webdesk: তামিলনাড়ুর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে বিধানসভা নির্বাচনের আগে শ্রীলঙ্কার সংগঠন লিবারেশন টাইগার্স অফ তামিল ইলম (এলটিটিই)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নেতা প্রয়াত ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণের ছবি ও পোস্টার নিয়ে প্রচার করতে দেখা যেতে পারে। তাঁর মৃত্যুর ১২ বছর পরেও প্রমাণিত হয় যে, রাজ্যে প্রভাকরণের রাজনৈতিক আধিপত্য এখনও বিরাজ করছে।

আরও পড়ুন: মুম্বইয়ের কোভিড-১৯ হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন, মৃত ২

বৃহস্পতিবার, পুডুককোট্টাই জেলার তিরুমায়ম আসন থেকে নাম তামিলার কাটচি (এনটিকে) পার্টির ভোটপ্রার্থী শিব রমন প্রভাকরণের ছবি এবং কাটআউট ব্যবহার করেছিলেন। এনটিকে ছাড়াও চলচ্চিত্র নির্মাতা-রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা এমডিএমকে-র সেন্থামিজহাম সেমান, যিনি তামিলনাড়ুর রাজ্যসভার সাংসদ ভাইকোর নেতৃত্বে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাঁকেও এলটিটিই প্রধানের কাট-আউট নিয়ে প্রচার করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া থোল থিরুমাভালভানের নেতৃত্বে বিদুথলাই চিরুটিগল কাচি পার্টিকেও প্রভাকরণের ছবি নিয়ে প্রচার করতে দেখা গেছে। উল্লেখ্য, প্রভাকরণ ১৮ মে, ২০০৯-এ শ্রীলঙ্কায় মারা যান।

এলটিটিই শ্রীলঙ্কার বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন, দীর্ঘকাল ধরে উত্তর শ্রীলঙ্কায় আনুষ্ঠানিকভাবে সক্রিয় ছিল। ১৯৭৬ সালের মে মাসে এলটিটিইই একটি সহিংস বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রচার শুরু করে। এটি উত্তর ও পূর্ব শ্রীলঙ্কায় একটি স্বাধীন তামিল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল।

আরও পড়ুন: ভারতীয় সেনা ও নৌবাহিনীতে মহিলা অফিসারদের দিতে হবে স্থায়ী কমিশন, সুপ্রিম ঘোষণা

শ্রীলঙ্কা সরকার মুল্লাইটিভুর উপকূলীয় গ্রামে এলটিটিইর প্রধান ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণকে হত্যা করে ১৮ মে, ২০০৯ সালে গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছিল। এই গৃহযুদ্ধটি মূলত এই দ্বীপপুঞ্জের উত্তর এবং পূর্ব অঞ্চলে হয়েছিল। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছিল। যুদ্ধের পরেও, নিরাপত্তা কর্মী সহ ২০ হাজার মানুষ নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধি তাঁর শাসনামলে শ্রীলঙ্কায় শান্তি প্রচেষ্টায় ভারতীয় সেনা পাঠিয়েছিলেন। তবে এলটিটিই-র সঙ্গে সংঘর্ষে প্রায় ১,২০০ ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছিল। ফলস্বরূপ, তিনি নিজেই লিবারেশন টাইগার্স অফ তামিল ইলম (এলটিটিই)-এর লক্ষ্যবস্তুতে এসেছিলেন। ১৯৯১ সালের ২১ মে তামিলনাড়ুর শ্রীপেরুম্বুদুরে যখন একটি নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিতে যাচ্ছিলেন রাজীব গান্ধি, তখন এলটিটিই-র জঙ্গির আক্রমণে নিহত হন তিনি।

Similar Posts:

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *