মহাকাব্যের নাম মোহনবাগান: সারথি বঙ্গ জনতা

mohun bagan

অশোক দে

অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান! আই লিগ এল মোহনবাগানে। এদিন বাইপাস সংলগ্ন এক পাঁচতারা হোটেলে সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আই লিগ ট্রফি প্রদান করা হল বিজয়ী দলকে। মোহনবাগান ক্লাবের তরফে ট্রফি গ্রহণ করেন শ্রী ধনচন্দ্র সিং, শ্রী দেবাশীষ দত্ত এবং সভাপতি শ্রী স্বপন সাধন বসু। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার আই লিগ জয়ের গৌরব অর্জন করল গঙ্গাপারের ক্লাব। ২০১৫ সালের ৩১ মে বেঙ্গালুরুর কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে প্রথমবার আই লিগ স্পর্শ করেছিল মোহনবাগান দল।

আরও পড়ুন: কাছে কিন্তু তবু সুদূর: এক হোটেলে থেকেও আই লিগ সেলিব্রেশন অধরা শিলটন ফৈয়াজের কাছে

বলাই বাহুল্য দ্বিতীয়বার এই জয়ের ফলে মোহনবাগানের মুকুটে এক নতুন পালক সংযোজিত হল। গত ১০ মার্চ কল্যাণী স্টেডিয়ামে পাপা বাবাকার দিওয়ারা’র গোলে আইজল এফ সি-কে পরাজিত করে মোহনবাগান। আইজলের বিরুদ্ধে এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে কার্যত অন্যদের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায় মোহনবাগান। কিন্তু এর কিছুদিনের মধ্যেই অতিমারীর কারণে ঘোষিত হয় দেশব্যাপী লকডাউন। বাতিল হয়ে যায় আই লিগের অবশিষ্ট খেলা। যদিও লকডাউন মোহনবাগানের চ্যাম্পিয়ন হওয়া আটকাতে পারেনি।

মিনার্ভা পঞ্জাব, গোকুলাম কেরালা সহ আই লিগের প্রায় প্রতিটি দল মোহনবাগানকে চ্যাম্পিয়ন হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে অভিনন্দন জানায়। প্রত্যাশিত ভাবেই এই তালিকায় নাম ছিল না প্রতিবেশী ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় তারা আই লিগ পরিত্যক্ত ঘোষণার দাবি জানায় এবং মোহনবাগানকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করার বিরোধিতা করে। প্রতিবেশী ক্লাবের এই দৃষ্টিকটু আচরণ তাদের আই লিগ জয়ে ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ বলেই ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা। বাস্তবে যদিও ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের এই ছেলেমানুষি দাবি খারিজ হয়ে যায় এবং এআইএফএফ-এর তরফে মোহনবাগান চ্যাম্পিয়ন হিসাবে স্বীকৃতি হয়।

আরও পড়ুন: কন্যার পোস্টে মোহনবাগান পাগল পিতার তর্পণ

চ্যাম্পিয়ন হলেও কাঙ্ক্ষিত ট্রফি ক্লাব তাঁবুতে আসতে সময় লেগে গেল প্রায় সাড়ে সাত মাস। দীর্ঘ এই সময় অপেক্ষা করেছেন আপামর মোহনবাগান সমর্থক। অবশেষে এসেছে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। রাজপথে আছড়ে পড়েছে মোহন জনতার ঢল। হোটেল থেকে বেরিয়ে শোভাযাত্রা এগিয়েছে উত্তরের দিকে। কাদাপাড়া, উল্টোডাঙা হয়ে গাড়ি যখন এপিসি রোডের কাছে তখন রাস্তায় হাজার-হাজার মানুষ।

সবুজ মেরুন পতাকা হাতে নিয়ে তারা সামিল হয়েছেন এই শোভাযাত্রায়। শ্যামবাজার, হাতিবাগান মানুষের ভিড়ে অবরুদ্ধ। বিবেকানন্দ রোড, গিরিশ পার্ক, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ হয়ে মিছিল অবশেষে পৌঁছেছে গোষ্ঠ পাল সরণিতে। পুজোর আগে আবার ট্রফি এসেছে মোহনবাগানে।

মোহনবাগানের এই জয় এক ঐতিহাসিক জয়। খুব কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছে জীবন। অতিমারির সংকটে জীবন বিপর্যস্ত। সঙ্গে যোগ হয়েছে অার্থিক অনটন। মোহনবাগান সমর্থকের দল এর বাইরে নয়। কিন্তু এই প্রতিকূলতার মধ্যেও আজ রাজপথ ভরিয়ে দিয়ে তারা ক্লাবের প্রতি নিজেদের ভালোবাসার স্বাক্ষর রেখেছে। স্বাক্ষর রেখেছে নিজেদের দায়বদ্ধতার।

সমর্থকদের কাছে মোহনবাগান নিছক এক ক্লাব নয়। মোহনবাগান এক মহাকাব্যের নাম। ১৩০ বছরের ঝড়ঝাপ্টা সহ্য করে ঋজু দাঁড়িয়ে থাকা এক ইমারতের নাম। যে ইমারতের প্রতিটি অলিন্দ বহন করে ইতিহাসের সাক্ষ্য। এ ইতিহাস অমলিন, এ ইতিহাস অপরিবর্তনীয়। রাজপথের জনস্রোত প্রমাণ করে, মোহনবাগান আছে মোহনবাগানে। মোহনবাগান থাকবে মোহনবাগানেই।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *