দূষণের ফলেই বাড়ছে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা, চাঞ্চল্যকর দাবি বিশেষজ্ঞদের

Mysepik Webdesk: সম্প্রতি করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার পেছনে বিশেষজ্ঞরা দায়ী করেছেন প্রতিনিয়ত বেড়ে চলা পরিবেশ দূষণকে। বায়ুদূষণের উপর একাধিক সমীক্ষা করার পর বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। যদিও এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা কোনও রিপোর্ট পেশ করেননি, তবুও সার্ভে করে তাঁরা প্রমান পেয়েছেন এই তথ্যের। উদাহরণস্বরূপ তাঁরা জানিয়েছেন, উত্তর ইতালির মতো যে সব জায়গায় দূষণের মাত্রা অনেক বেশি, সেখানে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হারও বেশি।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিটি মৃত্যুর জন্যই দায়ী ট্রাম্প: বাইডেন

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, যেহেতু বায়ুদূষণের ফলে মানুষের শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা এবং কার্ডিওভাস্কুলার সংক্রান্ত সমস্যা বেড়ে যায়, সেহেতু তাঁদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যায়। তাঁরা জানিয়েছেন, সার্স সংক্রমণের সময়েও বিশ্বে তুলনামূলক দূষিত শহরগুলির ক্ষেত্রে সার্সের প্রকোপ অনেক বেশি দেখা গিয়েছিল। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই বিষয়ে জানিয়েছে, ‘দূষণের সঙ্গে মৃত্যুর হার বাড়ার মতো কোনও প্রমাণ আমরা এখনও পাইনি। তবে যে সব দেশ বা অঞ্চলে দূষণের মাত্রা তুলনামূলক বেশি, সেখানে সংক্রমণ বাড়ার খবর এলে খারাপ পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকার পরামর্শ দিচ্ছি আমরা। কারণ, দূষণ বেশি হলে করোনা সংক্রমণের মৃত্যুর সম্ভাবনা বেড়ে যায়, এই ঘটনা অবশ্য লক্ষ করা গিয়েছে।’

আরও পড়ুন: জো বাইডেন সবচেয়ে অযোগ্য প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী: ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, বায়ুদূষণ সাধারণত তিন ভাবে করোনা সংক্রমণের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রথমত, দূষিত বায়ু ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রকে দুর্বল করে দেয় বলে করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতাও কমে যায়। দ্বিতীয়ত, দূষণ ফুসফুসকে দুর্বল করে দেয় ফলে সংক্রমণের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। তৃতীয়ত, লকডাউন ওঠার পর ফের পরিবেশে দূষণ বাড়লে বায়ুর দূষিত ধূলিকণার সঙ্গে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। বিশ্বের মোট ৩২৪টি শহরকে নিয়ে নিউ ইয়র্কের বিশেষজ্ঞদের করা একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, চিনের বায়ুদূষণের কারণেই সেখানে করোনাভাইরাস এতটা মারণ রূপ ধারণ করেছিল। তবে লকডাউনের জেরে দূষণের মাত্রা কমায় চিনে দূষণজনিত কারণে মৃত্যু প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছে।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *