ইতালির পুনর্জন্ম, আশাভঙ্গ ইংল্যান্ডের

সায়ন ঘোষ

ডোনারুমার পারফরম্যান্স নাকি ইংল্যান্ডের ব্যাডলাক, কোনটি ইংল্যান্ডের পরাজয়ের পেছনে দায়ী সেটা বলা শক্ত। ইতালি দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরিয়ে দাঁড়ায়। ইংল্যান্ডের নার্ভের চাপ ধরে রাখতে না পারাই ইতালির জয়ের কারণ। এদিন ইতালি দল নামিয়ে ছিল ৪-৩-৩ ছকে। গোলে ডোনারুমা। ডিপ ডিফেন্সে লিওনার্দো বোনুচ্চি ও জর্জিও চেলিনি। দুই উইং ব্যাকে ডি লরেঞ্জো ও এমারসন। মাঝমাঠে মার্কো ভেরাত্তি, বারেল্লা, জর্জিনহো। আপফ্রন্টে সিরো ইম্মোবাইল, লরেঞ্জো ইনসাইন, ফ্রেডরিক চাইসে। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড দল নামায় ৩-৪-২-১ ছকে। গোলে বেন পিকফোর্ড। ডিফেন্সে জন স্টোনস, হ্যারি মিগুইরে, কাইল ওয়াকার। মাঝমাঠে ট্রিপিয়ার, ডেক্লান রাইস, ফিলিপস, লুক শ। দুই অ্যাটাকিং মিডিও রহিম স্টার্লিং ও ম্যাসন মাউন্ট। আপফ্রন্টে হ্যারি কেন।

আরও পড়ুন: ক্রুশ্চেভ ভার্সেস টিটো: প্রথম ইউরো কাপ ফাইনাল ছিল ‘কমিউনিস্টদের লড়াই’

ম্যাচের শুরুতেই ঝটকা দেয় ইংল্যান্ড। ২ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে লুক শ-এর অনবদ্য গোলে লিড নেয় তারা। প্রাথমিক ঝটকা সামলে ইতালি ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। ফ্রেডরিক চাইসের সৌজন্যে একাধিক আক্রমণ গড়ে তোলে। কিন্তু হ্যারি মিগুইরে ও জন স্টোনস সব আক্রমণ আটকে দেয়। মাঝমাঠে দুর্দান্ত খেললেন ম্যাসন মাউন্ট ও রহিম স্টার্লিং। এদিনের বার্থ ডে বয় লুক শ ফ্লোরেঞ্জিকে কার্যত নাজেহাল করে দেন। তার এই গোলটা ইউরো কাপের ইতিহাসে দ্রুততম গোল। অন্যদিকে, বারবার চোখে পড়ল চেলিনি ও হ্যারি কেনের ডুয়েল। জর্জিনহো ম্যাসন মাউন্টকে আটকাতে ব্যর্থ হন। মাঝমাঠ জমাট থাকায় প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের ডিফেন্স ভাঙতে পারেনি ইতালি।

আরও পড়ুন: বাঙালি যেন ধন্দে: কোপা ফাইনাল নাকি মহালয়ার সকাল!

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার জন্য রবার্তো মানসিনি বল পজিশন ধরে রাখার নির্দেশ দেয়। এতেই টলে যায় ইংল্যান্ড। ইতালির সব আক্রমণ আটকে যায় হ্যারি মিগুইরের কাছে। কিন্তু ফ্রেডরিকো চাইসে অনবদ্য খেললেন। একের পর এক আক্রমণ তুলে আনলেন। অবশেষে ৬৭ মিনিটে গোল শোধ করেন লিওনার্দো বোনুচ্চি। গোল শোধের পর দুর্দান্ত খেলতে থাকে ইতালি। চিয়েলিনি কার্যত বোতলবন্দি করে হ্যারি কেনকে। কিন্তু তারপরেও ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে এবং সেখান থেকে ডোনারুমা সৌজন্যে চ্যাম্পিয়ন হয় ইতালি।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *