প্রণব প্রয়াণে শোকের ছায়া সর্বত্রই: স্মৃতিচারণা সোশ্যাল মিডিয়াতেও

কীর্ণাহার-বোলপুর, ০১ সেপ্টেম্বর: খবরটা জানাজানি হয়েছে সোমবার সন্ধ্যাতেই। সন্ধ্যা থেকেই শোকের ছায়া বীরভূমের প্রণব মুখোপাধ্যায়ের জন্মভিটে কীর্ণাহারের মিরাটি গ্রামে। শুধু জন্মভিটে মিরাটিই নয়, তাঁর কীর্ণাহার এলাকা সহ বীরভূমের সিউড়ি, বোলপুর, রামপুরহাট সহ জেলার সর্বত্রই। জীবনে শিক্ষক থেকে অধ্যাপক, রাজনীতিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদের মন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি— বর্ণময় জীবনে তাঁর বন্ধু শুভ্যানুধায়ীর সংখ্যা কম নয়।

আরও পড়ুন: প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির স্মরণে জেলাজুড়ে শোকজ্ঞাপন সিপিআইএমের

মানুষটা বড় পদে থাকলেও ছিলেন নিরহংকারী। বন্ধু থেকে সহপাঠী, গ্রামের মানুষ থেকে বাড়ির পরিচারিকা, রাজনীতিক বা সাংবাদিক, শিক্ষক অধ্যাপক, সাহিত্যিক যাঁরাই প্রণববাবুর সংস্পর্শে গেছেন সকলকে আপন করে নিয়েছেন। সোমবারের পর থেকেই সবার তাই মনখারাপ। রাত থেকেই ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপে সাহিত্যিক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী থেকে সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষ, কমবেশি সকলেই পুরতান ছবি আপলোড করছেন। এতবড় মাপের মানুষটা যে আমআদমির ছবি তোলার আবদার যে মেটাতেন, তা সোমবার রাতের সোশ্যাল মিডিয়াই বলে দিচ্ছে। রাজনৈতিক, অ-রাজনৈতিক ব্যক্তি থেকে শিক্ষক, সাংবাদিক সকলেই শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন মিরাটির পল্টুদাকে। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হলেও তিনি মানুষের মনের কাছে প্রাক্তন নন।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পঞ্চভূতে বিলীন হলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়

মঙ্গলবার সকালে দেখা গেল খাঁ-খাঁ করছে মিরাটির প্রণববাবুর বাড়ি। গ্রামের লোক, আশপাশের মানুষ, সাংবাদিক, পরিচিত পরজন— সবাই প্রণববাবুর সংস্পর্শে কোনও না কোনও সময় এসেছেন। আজ তাঁরা জানেন, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির মরদেহ কীর্ণাহারের মিরাটি গ্রামে আসেনি। তবুও তিনি তো এখানেই ছিলেন, প্রতি বছর দুর্গাপুজোর সময় নিয়ম মেনে গ্রামের বাড়িতে আসতেন। চারদিন থাকতেন। এবার পুজোতে আর আসবেন না। সবার সঙ্গে দেখা হবে না। খোঁজখবরও আর কারোর নেবেন না।
বড় দোতলা বাড়ি, আদি পুরাতন মাটির দেওয়াল টিনের চালের বাড়ি, উঠোনে ধানের বাখার, পাশের মন্দির সব খাঁ-খাঁ করছে। সবাই আসছেন। স্মৃতির আয়নায় প্রণববাবু ধরা দিলেও চোখের নজরে প্রণববাবু নেই। শুধু মন আর মুখ দিয়েই সবাই করছেন প্রণববাবুর স্মৃতিচারণা।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *