করোনা চিকিৎসায় রোগীদের পকেট বাঁচাতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে কড়া দাওয়াই রাজ্যের

Mysepik Webdesk: রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতালগুলির বিরুদ্ধে ভুরি ভুরি অভিযোগ জমা পড়েছে রাজ্যে স্বাস্থ্য দপ্তরে। করোনা রোগীর চিকিৎসা করতে গিয়ে প্রায় সর্বস্বান্ত হয়ে যাওয়ার মত অবস্থা রোগীর পরিবারের লোকজনদের। কখনও অস্বাভাবিক চড়া বিল কড়া আবার কখনও রোগীর পরিবারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা, আবার অগ্রিম দিতে না পারায় চিকিৎসা পরিষেবা না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন রোগীর পরিজনরা। এবার লাগামছাড়া বিলের ওপর লাগাম টানতে, পাশাপাশি রোগী ফিরিয়ে না দেওয়ার জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দপ্তর। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার কড়া নির্দেশ জারি করেছেন স্বাস্থ্য কমিশনের চেয়ারম্যান অসীম বন্দ্যোপাধ্যায়। কী কী রয়েছে সেই নির্দেশিকায়, দেখে নেওয়া যাক।

আরও পড়ুন: জাতীয় সড়কের হাল বেহাল: সমস্যার কথা জানিয়ে জেলাশাসককে চিঠি বিধায়কের

১) রোগীর পরিবারের কাছ থেকে বেড ভাড়ার জন্য কোনও বাড়তি টাকা নেওয়া যাবে না। গত ১ মার্চ যে হারে বেড ভাড়া নেওয়া হত, এখনও সেই হারে ভাড়া নিতে হবে। আইসিইউ, আইটিইউ, আইসিসিইউয়ের কারণ দেখিয়েও কোনও বাড়তি ভাড়া নেওয়া যাবে না।

২) হাসপাতালগুলি কোনও রোগী ফেরাতে পারবে না।

৩) অগ্রিম টাকা জমা দিতে না পারলেও রোগীর চিকিৎসা শুরু করতে হবে। কোনও রোগীর পরিবারকে অগ্রিম টাকা দেওয়ার জন্য ১২ ঘন্টা সময় দেওয়া হবে। টাকা দিতে না পারলেও রোগীকে বিনা চিকিৎসায় রাখা যাবে না। প্রয়োজনে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

৪) ওষুধের ওপর ১০ শতাংশ চার দিতে হবে। রোগীর পরিবার চাইলে বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আন্তে পারবেন।

আরও পড়ুন: আগামী সোমবার থেকে খুলে দেওয়া হবে তারাপীঠ মন্দির

৫) পিপিই কিট, তুলো, ব্যান্ডেজ-সহ চিকিৎসার বিভিন্ন সরঞ্জামে ২০ শতাংশ ছাড় দিতে হবে।

৬) কোনও চিকিৎসকের ভিজিট ১,০০০ টাকার বেশি রাখা যাবে না। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের একাধিকবার ভিজিট করার প্রয়োজন পড়লে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ফি আরও ১,০০০ টাকা বাড়ানো যাবে।

৭) হাসপাতালে চিকিৎসার রেট চার্ট রাখতে হবে। সেই চার্টে বেড চার্জ, চিকিৎসক দেখার চার্জ-সহ যাবতীয় পরিষেবার খরচ লিখে রাখতে হবে। হাসপাতালের প্রবেশপথে, রিসেপশন এবং টাকা জমা দেওয়ার কাউন্টারের সামনে সেই রেট চার্ট রাখতে হবে যাতে অন্তত ছ’ফুট দূরত্ব থেকে তা খালি চোখে দেখা যায়।

৮) হাসপাতালের ডিসপ্লে বোর্ডে রাজ্যের স্বাস্থ্য কমিশনের যোগাযোগের নম্বর রাখতে হবে, যাতে প্রয়োজনে রোগীর পরিজনরা স্বাস্থ্য কমিশনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *