আসবে ঝড়, নাচবে তুফান…

সঞ্জিতকুমার সাহা

কথায় আছে, বিপদ কখনও একা আসে না। যখন আসে, তখন চারদিক থেকেই আসে। যেমন এখন। একে তো ২০১৯-এর ডিসেম্বর থেকে আসা করোনা ভাইরাস ডিজিজ গোটা পৃথিবী জুড়েই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বাদ নেই আমাদের দেশও। আমাদের দেশে করোনার সূত্রপাত হয়েছে ২০২০-র ফেব্রুয়ারি থেকে। মার্চ থেকে শুরু হয় আকস্মিক লকডাউন। উদ্দেশ্য ছিল, অতিমারির সংক্রমণ কমানো। প্রায় সম্পূর্ণ লকডাউন চলেছে কয়েক মাস ধরে। ফলে বহু মানুষ হারিয়েছেন কর্ম। আয়-রোজগারহীন মানুষের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। এর মধ্যেই এসেছিল আমফান নামের এক মহাঝড়। এসেছিল গত বছরের ২০ মে। সেই আঘাত ও ঘা এখনও শুকায়নি। গতবছরের আমফানের সময়ে সমদ্রের জল উথাল-পাথাল হলেও কোটাল ছিল না। তাতেই উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগরের জোড়া নিন্মচাপের জেরে টানা ঘণ্টা কয়েকের তুমুল ঝড় ও বৃষ্টিতে দক্ষিণবঙ্গের জনজীবনে নেমে এসেছিল ভয়ংকর দুর্যোগ। সুন্দরবনের নদীগুলোর বাঁধ ভেঙে, ঘর ভেঙে, জমি-পুকুর-জলাশয় সব উপছে যেমন মানুষেরা হয়েছিল ঘরছাড়া হয়েছিল, তেমনি জীবিকার উৎসগুলি হয়েছিল বিপর্যস্ত। সঙ্গে বহু মানুষের অকালমৃত্যুও হয়েছিল। ঝড় থেমে গেলে দেখা গেল, হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন। আশ্রয়হীন ও খাদ্যহীন। অভুক্ত অবস্থাতেই, ঝড়-বৃষ্টি প্রশমিত হলে দিশেহারা মানুষ প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে বাঁচতে হাজার হাজার মানুষ উঁচু রাস্তায় ত্রিপল খাটিয়ে অথবা কোনও উঁচু জায়গায় স্কুলে আশ্রয় নিয়েছিল।

আরও পড়ুন: বিশ্ব সাহিত্যে চার চিকিৎসক ও বর্তমান অতিমারি

দ্য স্টর্ম অন দ্য সি অফ গালিলি, ১৬৩৩ সালে রেমব্রান্ট হারমেনজেই ফান রেইনের আঁকা

এ বছরের গড়ার দিকে আমরা ভেবেছিলাম, করোনা ধীরে ধীরে বিদায় নিচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে করোনায় মৃত্যুহীন দিনও আমরা লক্ষ করেছি। বুকে আশা জাগছিল। নব্য-স্বাভাবিক অবস্থা থেকে আমরা বুঝি একেবারে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছি। অনেকেই তখন ভাবতে শুরু করেছিলাম, করোনা বিদায় নিয়েছে। কিন্তু ও হরি! করোনা আরও বেশি শক্তি সঞ্চয় করে, নিজেকে আরও পরিবর্তন করে আরও মারাত্মক আকার ধারণ করে ফিরে এসেছে। একে চিকিৎসক বিজ্ঞানীরা বলছেন দ্বিতীয় ঢেউ। আমরা মানুষেরা আবার ঘরে ঢুকে পড়লাম। দেখা গেল, এবারে সংক্রমণ যেমন দ্রুত ছড়াচ্ছে, তেমনি বাড়ছে মৃত্যুসংখ্যাও। অবস্থা এমন হয়েছে যে, কোথাও কোথাও গণ-কবর ও গণচিতার মতো ঘটনাও সংবাদে ঠাঁই পেয়েছে। শুধু তাই নয়, গঙ্গার মতো পবিত্র নদীতেও অন্তত গোটা ষাট ‘লাশ’ ভাসতে দেখা গিয়েছে। অনেকেই বললেন, লাশগুলি উত্তরপ্রদেশ, বিহার থেকে ভেসে আসছে। লাশের কারণে মালদহের অনেক জায়গাতেই মাইকিং করে গঙ্গার জল ব্যবহারে নিষেধ করা হয়েছে। এমনকী গঙ্গার জল পরিশোধিত হয়ে যে নলবাহিত হচ্ছিল, তাতেও দূষণের ভীতি তীব্র ছিল।

আরও পড়ুন: হাতুড়ি

স্নো স্টর্ম: স্টিম-বোট অফ আ হারবার’স মাউথ, ১৮৪২ সালে জে এম ডব্লিউ টার্নারের আঁকা

বর্তমানে আমরা যখন করোনার বিরুদ্ধে লড়াইতে ব্যস্ত ঠিক। তখনি ক’দিন আগেই ‘টাউকটে’ নামের এক তীব্র ঝঞ্ঝা গুজরাত ও মহারাষ্ট্রে ১৫৫ থেকে ১৬৫ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে এসে বহু মানুষের যেমন মৃত্যু ঘটিয়েছে, তেমনি জীবিকার ক্ষেত্রগুলিকে তছনছ করে দিয়েছে। এই ঝড় উঠেছিল আরব মহাসাগর থেকে। এই রেশ মিটতে না মিটতেই, বঙ্গোপসাগর থেকে উঠে আসছে ‘ইয়াস’ (যশ) নামের আরেকটি ঝড়। এই ঝড়ের সঙ্গে তুলনা আসছে আমফানের। আমফানের ক্ষত এখনও শুকোয়নি। বহু মানুষ আজও আশ্রয়হীন। মাথার উপরে ছাদ নেই। শুধু তাই নয়, উড়ে গেছে স্কুল-কলেজের বাড়িও। এমনিতেই শিক্ষার জন্য ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না। বাড়িতে বসে অনলাইনে ক্লাস করে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। এখানেও তৈরি হয়েছে এক আশ্চর্য বৈষম্য। শহুরে মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্তরা যেভাবে এই সুযোগ নিতে পারছে গ্রামাঞ্চলের গরিব ঘরের ছেলেমেয়েরা নিতে পারছে না। সুতরাং বলতে গেলে, করোনা শিক্ষা জগতেও বৈষম্য এনে দিয়েছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরের ছেলেমেয়ারা আরও অন্ধকারে ডুবে গিয়েছে। এখন আমফান নয়, ধেয়ে আসছে ইয়াস।

আরও পড়ুন: মুর্শিদাবাদের গ্রাম থেকে কলকাতার পিজি-তে পৌঁছনো ডাক্তার শ্রীকান্ত চ্যাটার্জীর কাহিনি

টাইগার ইন এ ট্রপিকাল স্টর্ম, ১৮৯১ সালে হেনরি রুশোর আঁকা

‘ইয়াস’ শব্দের আরবি অর্থ নাকি হতাশ বা হতাশা। আবার পারসিতে নাকি জুঁই ফুলের গন্ধ। বাংলায় ইয়াস বা যশ-এর অর্থ খ্যাতি। কিন্তু নামের মানেতে কী আসে যায়। অনেকেই তুলনা করতে শুরু করেছেন, ইয়াস কি আমফানের চেয়েও ভয়ংকর হবে? প্রকৃত যখন আছড়ে পড়বে তখন তুলনাটা স্পষ্ট হবে। তবে ব্যাপারটা যে ভয়ংকর, এ বিষয়ে কোনও সন্দেহই নেই।

এবারে একটু দেখার চেষ্টা করা যাক, ভারতের জলবায়ু কেমন? অনেকে বলেন, ভারত মৌসুমি বায়ুর দেশ। কিন্তু বিশিষ্ট জলবায়ু বিশেষজ্ঞ কোপেনহেগেনের ক্লাইমেট ক্লাসিফিকেশন্স অনুসারে, ভারতের জলবায়ুতে বৈচিত্র্য অনেক বেশি। তাঁদের মতে, ভারতে ছ’টি ভাগ আছে। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী সময়। বিশিষ্ট আবহাওয়াবিদ অজয় নাথের মতে, ভারতের জলবায়ু নির্ভর করে আবহাওয়ামণ্ডল, জলভাগ, জমে থাকা বরফ, ভূত্বক এবং জীব ও উদ্ভিদের উপরে। এর সঙ্গে অবশ্য অক্ষাংশ, জল ও জলস্রোত, বৃষ্টিপাত বৃষ্টিপাতের ধরণ ইত্যাদিকেও যুক্ত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ভারতের জলবায়ুর বৈচিত্র্যের কারণ ভৌগলিক অবস্থান, ভু-প্রকৃতি ও ভূতাত্ত্বিকের অন্যান্য কারণ। কর্কটক্রান্তি রেখা ভারতকে ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় ভাবে ভাগ করে রেখেছে। সেজন্য ভারতে ক্রান্তীয় বর্ষা ও উপক্রান্তীয় পশ্চিমি ঝঞ্ঝার প্রবল প্রতাপ লক্ষ করা যায়। ফলে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে কখনও খরা, কখনও বন্যা, কখনও তাপপ্রবাহ, কখনও শৈত্য প্রবাহ এবং ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় এসব হতেই থাকে। এরই ফলশ্রুতি আরব সাগরের ঘূর্ণিঝড় এবং বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণিঝড়। এই ঝড়গুলি কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করে। যেমন এর আগে আমরা দেখেছি আয়লা, সিডার, আমফান, সুপার সাইক্লোন ইত্যাদি। এসব হলে প্রাকৃতিক বিপর্যয় যে ঘটবে, একথা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখানে ক’টা কথা না বললেই নয় যে, বর্তমানে বিশ্ব উষ্ণায়ন আমাদের দেশের জলবায়ুতে তীব্র থাবা বসিয়েছে। ফলে ঝড়-ঝঞ্ঝার তীব্রতা আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে।

আরও পড়ুন: নেগেটিভ যখন পজেটিভ

স্টর্ম অ্যাট সি, ১৫৬৯ সালে পিটার ব্রুয়গেল দ্য এল্ডারের আঁকা

আবহাওয়াবিদের মতানুসারে, আমরা প্রায় বারো হাজার বছর ধরে একটি হিমযুগের অন্তর্গত উষ্ণ সময়ের মধ্যে রয়েছি। গত দশ লক্ষ বছরের মধ্যে এটি দীর্ঘতম উষ্ণ সময়। বিশ্ব উষ্ণায়ন যত বেশি হবে, আমরা তত হিমযুগের দিকে এগিয়ে যাব। কর্কটক্রান্তি রেখার উত্তরে গড় তাপমাত্রা থাকে সবচেয়ে বেশি মে মাসে। ফলে শুকনো ও গরম হাওয়া পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ যত কম হয়, তার উত্তাপ তত বেশি হয়। বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে ভারতে সামগ্রিকভাবেই গ্রীষ্মের উষ্ণতা ও বর্ষার গতিপ্রকৃতিতে পরিবর্তন ঘটেছে। এসবের কারণে ঝড়-ঝঞ্ঝা আমাদের দেশে হয়েই চলেছে।

এখানে একটু বলার, বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত নিম্নচাপের ফলে যে ঘূর্ণিঝড় হয় তার প্রভাব আমাদের এখানে সব প্রথমে পড়ে সমুদ্র লাগোয়া অঞ্চলে। বিশেষ করে সুন্দরবন-সহ উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, মেদিনীপুর, হাওড়ায়। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সুন্দরবন অঞ্চলে। ঘনীভূত নিম্নচাপের ফলে ঘূর্ণিঝড়ের ফলে সমুদ্র ফুঁসে ওঠে। শুরু হয় জলোচ্ছ্বাস। সেই জলোচ্ছ্বাসেও সমুদ্র  বাঁধ ভাঙে, বাঁধ উপছে জল ঢোকে লোকালয়ে, জমিতে। ভাসে ধান, পান, ঘর ও জীবন। দিনে দিনে দেখা যাচ্ছে, সমুদ্র লাগোয়া নদীগুলোর জলস্তর বাড়ছে। এর ফলে বেড়ে চলেছে জলযন্ত্রণাও।

আরও পড়ুন: সম্বুদ্ধজাতিকা (২য় অংশ)

আ স্টর্ম ইন দ্য রকি মাউন্টেন, এম টি রোসালিয়ে, ১৮৬৬ সালে আলবার্ট বিয়েরস্ট্যার্ডের আঁকা

সুন্দরবন হাসিলের সময়ে চাষবাসের জন্য নদী এলাকায় যে মাটির বাঁধ দেওয়া হয়েছিল, সেই বাঁধের ভিত ছিল ২০ থেকে ৩০ ফুটের মধ্যে আর উচ্চতা ছিল ৬ থেকে ৮ ফুট। এখন প্রকৃতিগতভাবেই দীর্ঘদিন আগের সেই বাঁধ জীর্ণ ও দুর্বল হয়ে পড়েছে। অনবরত জোয়ার ও ভাটার ফলে জলস্রোতের ধাক্বায়, বাঁধের নিচের দিকে যেমন মাটি আলগা হয়ে গিয়েছে তেমনি কোথাও কোথাও ফাটলও দেখা দিচ্ছে। তাছাড়া বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে সমুদ্রের জলের উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে জোয়ারের জলের উচ্চতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই উচ্চতা ১৫-২০ ফুট বা তার থেকেও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা। তাহলে যে আগামী দিনে আরও ভয়ংকর অবস্থার মুখোমুখি হতে হবে সন্দেহ নেই। ‘ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ’-এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৯৯৩ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত সময়ে, সমুদ্রের জলের উচ্চতা বেড়েছে ২.৯৬ ইঞ্চি বা ৭.৫ সেন্টিমিটার। একুশ শতকের মধ্যে তা ৬০ সেন্টিমিটার বা ২ ফুট পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। সমুদ্র লাগোয়া সুন্দরবন নিয়ে যাঁরা ভাবনাচিন্তা করেন তাঁদের বক্তব্য স্পষ্ট: যদি মাটির বাঁধই রাখতে হয়, তাহলে এর ভিত হতে হবে ৮০ থেকে ১০০ ফুট এবং উপরের অংশ হতে হবে ১৪ থেকে ২২ ফুট। এর সঙ্গে কড়া নজরদারি রাখতে হবে বাঁধগুলির উপরে। এখন যেভাবে নিষেধ সত্ত্বেও নদীগুলিতে মীন ধরা চলছে, তা বন্ধ করা দরকার। কারণ মীন ধরার জন্য অনবরত বাঁধ দিয়ে ওঠা নামায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জরাজীর্ণ বাঁধগুলিই। সেই সঙ্গে নষ্ট হচ্ছে অন্যান্য জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদও।

আরও পড়ুন: নোটস ফ্রম দ্য ডেড হাউস (২য় অংশ)

স্টর্ম অন দ্য গ্যাঞ্জাস (গঙ্গা), ১৭৯০ সালে উইলিয়াম হজসের আঁকা

সমুদ্র লাগোয়া অঞ্চলের অস্তিত্বই নির্ভর করে সমুদ্রবাঁধ ও বাদাবনের উপরে। কারণ সমুদ্রের জলে জোয়ার-ভাটা, জলস্তরের বৃদ্ধি, জলের উচ্চতা এসব বাড়তেই থাকবে। এখনি নড়েচড়ে না বসলে আমাদের সমস্যা বেড়েই চলবে। ঘূর্ণিঝড় ও জল-প্লাবন হতেই থাকবে, যা ভীষণ উদ্বেগের। উদ্বেগ এজন্য যে জীবিকার ক্ষেত্রগুলি বিপন্ন হয়ে উঠবে। এছাড়াও আগে সমুদ্র লাগোয়া যে অজস্র খাল-খাঁড়ি-নালা ছিল সেগুলোর অধিকাংশই এখন মৃত। সেসব রাস্তাঘাটের উন্নয়ন কিংবা সেতু নির্মাণের জন্য বুজিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে সমুদ্রের জল ঢুকে গেলে তা বের হতে পারছে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ব উষ্ণায়নকে রোখার জন্য দরকার আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনা ও দীর্ঘমেয়েদি পরিকল্পনা। পরিকল্পনাকে যথাযথ বাস্তবায়িত করা। তা না হলে এমন বিপর্যয়ের মুখোমুখি আমাদের প্রতি বছরেই হতে হবে, এমনকী পরবর্তী সময়ে ঘন-ঘন হতে থাকলেও অবাক হব না।

লেখক পরিবেশ বিষয়ে বিভিন্ন দৈনিক, সাময়িক পত্রপত্রিকা, আকাশবাণীর নিয়মিত লেখক ও শিশু সাহিত্যিক। নির্বাহী সম্পাদক : সবুজ পৃথিবী।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *