মুর্শিদাবাদের গ্রাম থেকে কলকাতার পিজি-তে পৌঁছনো ডাক্তার শ্রীকান্ত চ্যাটার্জীর কাহিনি

ড. কল্যাণ চক্রবর্তী

আমি সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের খুবই ভক্ত; বিশেষ করে তাঁর ‘শ্রীকান্ত’ উপন্যাসটির। যেদিন ডাক্তারবাবুর সঙ্গে প্রথম দেখা হল, বললাম, ‘‘আপনার নিশ্চয়ই ‘শ্রীকান্ত’ উপন্যাসটি প্রিয় গ্রন্থ? নিজেকে কখনো ‘শ্রীকান্ত’ কিংবা শরৎচন্দ্র ভাবেননি?” বললেন, ‘‘রোগের চিকিৎসা করাতে এসে কেউ সাহিত্য আলোচনা আমার সঙ্গে আগে করেননি। আমাদেরও ভালো লাগা আছে, মন্দ লাগা আছে— ব্যস্ততার জীবনে ওসব ভুলেই থাকি, ভুলতেই হয়। কিন্তু যখন ভেতর থেকে তোলপাড় করে ‘শ্রীকান্ত’-কে ডেকে ওঠে কেউ, ভেতরের ‘আমি’; তখন বহরমপুরের গঙ্গার পাড়ে এক শ্মশানের নিস্তব্ধতার অদূরে এক সাধুবাবার কাছে চলে যাই। সন্ন্যাসীর খোঁজ আমার চিরকালের। চারিদিকের সীমাহীন ব্যস্ততা আর কোলাহলের মধ্যেই শরৎচন্দ্রের সেই চরিত্রকে নিজের মধ্যে খুঁজে নিই। নিজের নামের তাৎপর্য ও রূপক-সংকেত সকলেই খোঁজেন; আমিও খুঁজি। ‘শ্রীকান্ত’ উপন্যাসের সেই মহাশ্মশান! অমাবস্যার সেই নিশ্ছিদ্র অন্ধকার! সীমার মধ্যে অসীমের সুখ! প্রকৃতির মাঝে নিজের আত্মপ্রতিকৃতি খোঁজা! নিজেকে উপন্যাসের ‘শ্রীকান্ত’ ভাবতে কার না ভালো লাগে! ব্যস্ত মানুষের মধ্যে কাল্পনিকতা ভিড় করে আসতে তো চায়-ই! কে আর খবর রাখে।”

আরও পড়ুন: নেগেটিভ যখন পজেটিভ

আমার প্রথম আলাপ বহু বছর আগে ডাক্তার শ্রীকান্ত চ্যাটার্জীর চেম্বারে। খাওয়া-দাওয়ার অনিয়মে, অনিয়ন্ত্রিত পরিশ্রমে পেটের বারোটা বাজিয়ে ডাক্তার শ্রীকান্ত চ্যাটার্জীর কাছে দেখাতে এসেছি, সঙ্গে আমার পিসেমশাই তথা বহরমপুরের এক রাষ্ট্রবাদী মান্যবর মানুষ শ্রী সন্মথনাথ আচার্য। আমি কৃষি দপ্তরের সরকারি আধিকারিক, বাকি সময় স্বেচ্ছাসেবার জন্য অবস্থান করছি স্বামী অখণ্ডানন্দ মহারাজ প্রতিষ্ঠিত সারগাছি রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে। এক সৌম্য-সুন্দর, দীর্ঘদেহী দেবদূতের মতো, অশ্বিনীকুমারসম সেই ডাক্তারের সান্নিধ্য লাভ করলাম সেদিন। তখন তাঁর বয়স আনুমানিক পঁয়তাল্লিশ। আমি সবে চাকরিতে যোগদান করেছি।

প্রথম আলাপেই বললেন, ওনার ছেলেমেয়েদের যেন পড়াশোনার দায়িত্ব নিই। আমি বললাম, আমি আশ্রমিক, সারগাছি আশ্রমে সান্ধ্যপাঠের অবৈতনিক শিক্ষক। অনেককে পড়ানোর সেবাকাজ আমার পক্ষে বন্ধ করা তো সম্ভব নয়। উনি বললেন, ‘‘তুমি কেবল আমার বাড়িতে সময় পেলে আসবে। ওদের শিক্ষক আছেন। তুমি সুযোগমতো আমার বাড়িতে এসে ওদের সঙ্গে কথা বলবে। ওদের নিয়ে শহরের মধ্যেই বেড়াতে যাবে।” আমার হেড অফিস তখন বহরমপুরের ‘ডালশস্য ও তৈলবীজ গবেষণা কেন্দ্র’, শহরে এলেই ফেরার পথে শ্রীকান্তবাবুর বাড়িতে যেতাম।

আরও পড়ুন: সম্বুদ্ধজাতিকা (২য় অংশ)

লালদিঘির পাশে ওনার বাড়িতে যে চেম্বার, তাতে সমগ্র জেলার রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। এমডি ডাক্তার তখন সারা মুর্শিদাবাদ ও বহরমপুরে অনেকেই আছেন; কলকাতা থেকেও কেউ কেউ যাতায়াত করেন। কিন্তু রোগনির্ণয়, চিকিৎসা ও সমবেদনায় ওনার মতো ডাক্তার ত্রিসীমানায় নেই। কৃষি বিভাগে কাজ করার সুবাদে, এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশে যোগদানের জন্য মুর্শিদাবাদের বহু মানুষের সঙ্গে আমার আলাপ ছিল৷ তাঁরা প্রত্যেকেই ডা. শ্রীকান্ত চ্যাটার্জীর সুখ্যাতি করতেন। আমার তো মাঝেমধ্যেই ওনার সঙ্গে কথা বলার ও মেলামেশার সৌভাগ্য হত। কখনও উনি তাঁর বাড়িতে থেকে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করতেন। সহকারীকে তখনই বাজারে পাঠাতেন নানান সামগ্রী কিনে আনার জন্য। এতটা সমাদর করার মতো মানুষ আমি হয়তো ছিলাম না। কিন্তু এটা যে তাঁর সহজাত ঔদার্যবোধ ও আত্মীয়তার প্রকাশ, ভালোবাসার প্রকাশ সেটা বুঝেছি। ওনার ব্যক্তিজীবনে যে চাহিদা ছিল, কোনো স্বার্থছাড়াই, কোনো সুযোগ-সুবিধার আদান-প্রদানের সীমা ছাড়াই কেউ দাদার মতো, বন্ধুর মতো তাঁর সঙ্গে মিশুক, তাঁকে ভালোবাসুক। আমি পড়ানোর বিনিময়ে তাঁর বাড়ি থেকে কোনো পারিশ্রমিক নিইনি। আমি জানতাম, তিনি বহু গরিব মানুষকে নিখরচায় দেখতেন, ওষুধও ধরিয়ে দিতেন। বহু মানুষকে আর্থিক সহায়তা করতেন। নীরবে যে সেবাকাজটা তিনি করতেন, তার বহু পরিচয় আমি পেয়েছি।

আরও পড়ুন: ‘উন্নয়নবিরোধী’ এক প্রকৃতিপ্রেমিক মানবদরদি সুন্দরলাল বহুগুনা

প্রথমবার পুজোর আগে তিনি বললেন, ‘‘তোমার এবং তোমার মা-বোনের জন্য জামা-প্যান্টের পিস ও শাড়ি কিনে রেখেছি। শুনেছি তারা এখন বহরমপুরে রয়েছেন, তা নিজে দিতে যাব।” আমি বলি, এসব করলে কিন্তু আমি যাতায়াত বন্ধ করে দেব। শোনেন না তিনি। রিকশায় চেপে ছেলেকে নিয়ে এলেন। আমার মা-কে প্রণাম করে শারদীয়ার শুভেচ্ছা-অর্ঘ্য তুলে দিলেন। মা-কে বললেন, বয়সে অনেক ছোটো হলেও কল্যাণ আমার একজন প্রিয় বন্ধু। আমাদের বন্ধুত্বে কোনো ব্যবসায়িক স্বার্থ নেই, দেনাপাওনার সম্পর্ক নেই। চারিপাশের অজস্র সম্পর্কের মধ্যে আমি কিছুটা যেন স্বস্তি ও আনন্দ পাই। এরপর আমি বহরমপুরের সরকারি আবাসনে মা-বোনকে নিয়ে আসি। ব্যস্তঘন জীবনের মধ্যেও উনি অনেক সময় আমাদের কোয়ার্টারে এসে মানসিক প্রশান্তি অনুভব করেছেন।

ছয় ভাই, এক বোনের মাঝে গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তান শ্রীকান্ত। জন্ম মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি গ্রামে ১৯৫৪ সালে। বাবা এক প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক।

ছেলেদের মানুষ করতে বাবাকে নানান উপায়ে অর্থ সংগ্রহ করতে হয়। সাগরদিঘি এস এন হাইস্কুলে শ্রীকান্তের পড়াশোনা; দারিদ্র্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তাঁর এগিয়ে যাওয়া। অজপাড়াগাঁ থেকে লড়াই করে কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছতে সক্ষম হলেন; মাথায় একটি ভাঙা বাক্স, ১৯৭২ সাল। পড়াশোনার জগতে সকল বিষয়ই তাঁর ভালোলাগে। ভালোলাগে সাহিত্য, ইতিহাস, ভূগোল, গণিত। কিন্তু মানুষের দুর্দশা দূর করতে চিকিৎসক হতে হবে। তখন নকশাল আন্দোলনের ঢেউ রাজ্যজুড়ে। জমির আলে আলে ঘুরে বেড়ানো, জলে-জঙ্গলে চড়ে বেড়ানো এক দামাল, অনুভূতিশীল বালক তারই মধ্যে কলকাতা শহর জয় করতে চললেন। মফস্‌সলি গ্রাম ও তাঁর সুসন্তানেরা শহরের ভালোবাসা পাননি, কে বলে! ডাক্তার মণি ছেত্রীর প্রিয়পাত্র হয়ে উঠতে সময় নেননি বেশিদিন। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক ডাক্তার অনল রায় ছিলেন, তাঁর সহপাঠী। তাঁর কাছ থেকে শ্রীকান্তবাবুর জীবনসংগ্রামের কত যে কাহিনি আর সু-মনের পরিচয় পেয়েছি, তার ইয়ত্তা নেই। এমবিবিএস শেষ করে পিজি-তে হাউসস্টাফশিপ, সেখান থেকেই এমডি ডিগ্রি লাভ। এমডি এন্ট্রান্স পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছিলেন। পরে কার্ডিওলজিতে বিশেষ প্রশিক্ষিত হয়ে ‘ডি কার্ড’ অভিধা লাভ করলেন। যেদিন বহরমপুরে বসবাসের জন্য এলেন, শুরু করেছিলেন একটি কাঠের চৌকি আর দু’টি বাক্স, এই সম্পত্তি নিয়ে। তাঁর জীবন-লব্ধ পুরো সম্পত্তিই নিজের রোজগার করা, পৈতৃক সূত্রে কোনোদিন কিছু পাননি, পাবার সম্ভাবনাও ছিল না। অনিয়ম করেও তাঁকে কোনোদিন রোজগার করতে হয়নি। কিন্তু চাকরি জীবনে কারও কাছে অসম্মান পেলে ছেড়ে কথা বলতেন না। পারিবারিক জীবনে সকল ভাইবোনের প্রতি, মা-বাবার প্রতি যথাসম্ভব কর্তব্য করেছেন, তাদের প্রতিষ্ঠার আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: আম চাষ: ইতিহাস-বৃক্ষ ঘেঁটে

পড়াশোনার জগতে প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও সহপাঠীমহলে তিনি খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। তার কারণ, তাঁর আত্মসম্মান বোধ, গ্রামবাসীর প্রতি ভালোবাসা ও পক্ষপাতিত্ব এবং চিকিৎসক হিসাবে চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ক্ষমতার কারণে। জীবনে যখন যেখানে কর্মরত ছিলেন, সীমিত সম্পদের ব্যবহারে ও যন্ত্রপাতিতে, ওষুধে তিনি মিরাক্যল ঘটিয়েছেন বরাবর। বহু মানুষকে সাক্ষাৎ মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন, তা আমি মুর্শিদাবাদের বহু মানুষের কাছ থেকে শুনেছি। চিকিৎসায় রোগ শনাক্তকরণ করে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করতেন না। তিনি হয়ে উঠেছিলেন ‘মুর্শিদাবাদের বিধান রায়’। খুব প্রয়োজন না বুঝলে রোগীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষাতে পাঠাতেন না। কখনও হয়তো কনফার্ম করার জন্য প্যাথোলজিতে পাঠাতেন। তাঁর রোগ চিহ্নিতকরণের চোখ এতটাই অ্যাকিউরেট ছিল, প্যাথোলজিক্যাল/ ল্যাবরেটরির রিপোর্ট এলোমেলো এলেও নিজে প্যাথোলজিস্টকে ফোন করে রিপিট করাতে বলতেন, ‘‘নীডিলটা আর একটু ডিপ করে ফুটিয়ে নিন। রিপোর্ট এমনই আসবে।” সত্যিই তাই হত। তিনি তাঁর প্রিয় অধ্যাপক ডাঃ মণি ছেত্রীর ছেলে ডা. মিলন ছেত্রীর জটিল রোগ নিজে শনাক্তকরণ করে চিকিৎসা জগতে খুব খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

তাঁর তিন ছেলেমেয়েই বর্তমানে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক। বড় ছেলে ও মেয়ে কলকাতায় স্নাতকোত্তর পঠনরত৷ ওরা যখন ছোটো, তিনজনকেই পড়িয়েছি; মানে ‘পড়া-পড়া-খেলা’। ওরাও বোঝেনি কখন ওদের মাস্টার হয়ে গেলাম। আমি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েও কীভাবে আমার ছাত্রছাত্রীরা সফল চিকিৎসক হলেন, এই গোপন কথা কে-ই বা জানবে! সবচেয়ে বড় কথা এই তিন ভাইবোনেদের মধ্যে একটা শুভঙ্করী শক্তি নিহিত আছে, যা সেই শ্রীকান্ত ডাক্তারের ঐশী-কৌলিক-সম্পদ, benevolent Gene. এরা কখনও অর্থপিশাচ ডাক্তার হবেন না কোনোদিন, এ আমি হলফ করে বলতে পারি। ছাত্র-প্রতিমকে আমিও কখনো অমানুষ হবার শিক্ষা দিইনি। ডাক্তার শ্রীকান্ত চ্যাটার্জীর বড় ছেলেকে তাই ২০১৭ সালের উত্তরবঙ্গের বন্যায় তপন ব্লকের দুর্গতদের জন্য রান্নাকরা খাবার নৌকা নিয়ে গ্রামে গ্রামে পরিবেশন করতে দেখি। ওনার ছোটো ছেলে কল্যাণ ভাবনায় অগণিত সেবাকাজে নিঃশব্দে অংশগ্রহণ করেন। শ্রীকান্তবাবুর যে ‘আর্ট অফ লিভিং’, তা সঞ্চারিত হয়েছে পুত্র-কন্যাদের মধ্যে। কিন্তু এই সুকুমার হৃদয়বৃত্তি ধরে রাখা সোজা কথা নয়। তাঁর সহধর্মিণী একটি গার্লস কলেজের শিক্ষিকা, যে কলেজে আমি কিছু সময় গেস্ট-টিচার হিসাবে কাজ করেছি। তিনি সর্বদাই চিকিৎসক-স্বামীর অকুণ্ঠ সেবাযত্ন করেছেন।

গতবছর করোনা পরিস্থিতিতে বহরমপুরের লালদিঘির বাড়ির সামনে পাইচারি করছেন। হাঁটতে হাঁটতে রাস্তার মোড়ে এসেছেন। এক রিকশাওয়ালা তাঁকে দেখে এগিয়ে এলো। শ্রীকান্তবাবু বললেন, যাবেন না। তবে জিজ্ঞেস করলেন, ‘‘রোজগার কেমন হচ্ছে?” রিকশাওয়ালা বললে, ‘‘সারাদিনে একশো টাকাও হয় না, মালিককে টাকা দিয়ে হাতে প্রায় কিছুই থাকে না৷” তিনি বুক পকেট হাতড়িয়ে ৪৫০ টাকা বার করে তার হাতে দিলেন; রিকশাওয়ালা পায়ে পড়ে গেল। ডাক্তারবাবু বলছেন, ‘‘এসব কোরো না। তোমার বাড়ির ছেলেমেয়েদের খাইও, নেশাভাঙ কোরো না৷” সারাজীবন শ্রীকান্তবাবু যে পকেট কাচিয়ে কতজনকে দান করেছেন, তা ইয়ত্তা নেই। নব্বইয়ের দশক, বহরমপুর জেলা হাসপাতালের কথা। রোগীর কাছে গিয়ে তিনি বলছেন, ‘‘ওষুধ খাচ্ছেন, যেগুলো দিয়েছিলাম?” ‘‘পয়সা লাই ডাক্তার, কিনতেক পারিক লাই। আপনেরা যা কচ্চেন উতেই হবে।” শ্রীকান্ত বুকপকেটে হাত ঢুকিয়ে যা পেলেন রোগীর হাতে ধরিয়ে দিলেন। রোগীর পরিজন জানালার বাইরে থেকে দেখছেন সব।

আরও পড়ুন: ইসরাইল-প্যালেস্তাইন সংঘাত, একপেশে মিডিয়া

গতবছর ১৮ এপ্রিল করোনার পরিস্থিতির মধ্যেই পড়ে গিয়ে মাথায় বড় ধরনের চোট পান শ্রীকান্তবাবু। সঙ্গে সঙ্গেই কোমায় চলে যান তিনি। গোটা পরিবার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি নিয়ে কলকাতায় চলে আসেন; মল্লিকবাজারের নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে তিনি ১৬ দিন চিকিৎসাধীন থাকেন। কিন্তু জ্ঞান আর ফিরে আসেনি। ৪ মে তিনি প্রয়াত হন। পরদিন শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়, তাঁরই প্রিয় শহর বহরমপুরে গঙ্গার ধারে নশ্বর দেহ কলকাতা থেকে নিয়ে এসে। এবছর ২৩ মে বহরমপুরের বাড়িতে তাঁর বাৎসরিক পারলৌকিক কাজ সম্পন্ন হবে। করোনা পরিস্থিতিতে আমি নিজে উপস্থিত থাকতে না পারলেও কলকাতাতে বসেই এক প্রিয়জনের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি, বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করছি।

ঈশ্বরের পাদপদ্মে চিরশান্তিতে তিনি কি ঘুমোতে পারবেন? আমার তো মনে হয়, রোগজর্জর পৃথিবীতে আবারো তিনি ফিরে আসবেন এবং আবারও যোগ্য চিকিৎসক হয়ে, এই বাংলায় তাঁর চেনা জেলায় গরিব মানুষের মধ্যে আবারও ত্রাতা হয়ে উঠবেন। রোগীদের দেখেই তাঁর প্রথম চাহনিটি যেন দেব-চিকিৎসক অশ্বিনীকুমারের মতোই; এক অভূতপূর্ব অভয়ের, নিরাপত্তার, নির্ভরতার। বহরমপুর গত ২০২০ সালে এক নির্ভরযোগ্য ডাক্তারকে হারিয়েছে। এই ডাক্তারকে আবারও ফিরিয়ে দিন; হে দয়াময়, হে করুণাসিন্ধু! তোমার কুমারকে আবারও ধরাধূলিতে পাঠাও, হে অশ্বিনীদেব!

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *