Latest News

Popular Posts

এক নেতাজি সেনানী এবং তাঁর পরিবারের করুণ কাহিনি

এক নেতাজি সেনানী এবং তাঁর পরিবারের করুণ কাহিনি

Mysepik Webdesk: আজ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী। আজকের এই বিশেষ দিনে তাঁর আজাদ হিন্দ ফৌজের সৈনিক ক্ষিতীশচন্দ্র রায়ের পরিবারের গল্প বলব। ক্ষিতীশচন্দ্র দাস হুগলির শ্রীরামপুরে থাকতেন। ব্রিটিশদের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ করেছিলেন তিনি। ঢাকার কুখ্যাত কারাগারে ১৮ মাস অত্যাচারও সহ্য করেছিলেন তিনি। আজ তাঁর পরিবার প্রবল দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করছে। সামান্য একটি কাঁচা বাড়িতে এখন দিন গুজরান করেন তাঁরা।

আরও পড়ুন: ১২৫: প্রাসঙ্গিকতার প্রশ্নে সুভাষচন্দ্র

এহেন ক্ষিতীশচন্দ্র তাঁর মাকে ছেড়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ে শামিল হয়েছিলেন। এখন তাঁর পরিবারের দেখাশোনা করার কেউ নেই। না নেতা, না মন্ত্রী, না বিধায়ক, না এমপি। তবে, দুই কক্ষের বাঁশ ও টালির ঘরে বসবাসকারী পরিবারটিকে রাজ্য সরকার মাসিক ৩,০০০ টাকা পেনশন দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। এখন এই বাড়িতে থাকেন ক্ষিতীশচন্দ্রের স্ত্রী ও দুই ছেলে। তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সাহায্যের জন্য চিঠিও লিখেছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি বদলায়নি।

আরও পড়ুন: বোর্ডিং যখন বোরিং নয়: নন্টে ফন্টে আর নারায়ণ দেবনাথের গল্প

ক্ষিতীশচন্দ্র রায় অনেক বিপ্লবীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের নায়ক গণেশ ঘোষ তাঁর বাড়িতে এসেছিলেন ১৯৭৮ সালে। জয়প্রকাশ নারায়ণ, সুভাষচন্দ্র বসু, শরৎচন্দ্র বসু এবং অমিয় বসু ছিলেন তাঁর সঙ্গী, যাঁরা দেশের রাজনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন। ১৯৪২ সালের কথা। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গে ঢাকার চট্টগ্রাম কারাগারে ১৮ মাস বন্দি ছিলেন ক্ষিতীশচন্দ্র। ১৮ মাস পর ইংরেজ সৈন্যদের চোখে ধুলো দিয়ে কারাগার থেকে পালিয়ে যান। ১৯৪৬ সালে তাঁকে আবার কলকাতা থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং আলিপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়।

আরও পড়ুন: কলকাতা ডার্বি আর বাঁটুলের বাঙালি সুপারম্যানের স্বীকৃতি প্রাপ্তি

শ্রীরামপুরের মহেশ কলোনিতে দুই কক্ষের একটি বাড়িতে থাকে ক্ষিতীশচন্দ্র রায়ের পরিবার। পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রতি মাসে যে তিন হাজার টাকা পেনশন দেয়, তাতে টিকে থাকা অসম্ভব। তাঁর স্ত্রী ঝর্ণা রায় বলেন, ছেলে অভিজিৎ এবং অপূর্ব কয়েকবার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সাহায্যের জন্য অনুরোধ করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে একাধিকবার চিঠি লিখেছেন। কোনও প্রকার সাহায্য পাওয়া যায়নি। কোনও নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ বা বিধায়কও কখনও দেখা করতে আসেননি। অভিজিৎ রায় জানান, তাঁর বাবা ক্ষিতিশচন্দ্র রায় ১৯২০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। অল্প বয়সেই তিনি দেশের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেন। স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বাধীন আজাদ হিন্দ ফৌজে যোগ দেন।

তথ্য ও চিত্রঋণ দৈনিক ভাস্কর

টাটকা খবর বাংলায় পড়তে লগইন করুন www.mysepik.com-এ। পড়ুন, আপডেটেড খবর। প্রতিমুহূর্তে খবরের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *