ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতিতে সহায়তা করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত

Mysepik Webdesk: সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যে, তারা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতিতে সহায়তা করছে। আমেরিকাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ আল ওতাইবা বলেছেন, “আমরা চাই যে এই দুই দেশ ভালো বন্ধু না হোক, তবে কমপক্ষে আলোচনা শুরু হওয়া উচিত যাতে শান্তি অর্জন সম্ভব হয়।”

গত মাসে ভারত ও পাকিস্তান হঠাৎই এলওসি-তে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছিল। তারপরে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে সহায়তা করছে। তবে এই প্রথম প্রথম সংযুক্ত আরব আমিরাত তার ভূমিকা স্বীকার করেছে।

আরও পড়ুন: করোনা রুখতে খোলা বাজারে পশু বিক্রি বন্ধের পরামর্শ হু-এর

ইউসুফ আল ওতাইবা

ইউসুফ বুধবার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভার্চুয়াল অধিবেশনে অংশ নিয়েছিলেন। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক এবং তাদের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূমিকা নিয়েও এখানে প্রশ্ন করা হয়েছিল। এক প্রশ্নের জবাবে এই কূটনীতিক বলেছিলেন, “উভয় দেশই পারমাণবিক শক্তি নিয়ে সজ্জিত। তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক হওয়া জরুরি। এই দুই দেশের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব হওয়া প্রয়োজনীয় নয়, তবে অন্তত শত্রুতা থাকা উচিত নয়। তাই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ।” ভারত ও পাকিস্তানের ইন্টিলিজেন্স অফিসাররা জানুয়ারিতে দুবাইয়ে একটি গোপন বৈঠক করেছিলেন। তখন এলওসি-তে গুলি চালানো বন্ধ হওয়া উচিত বলে একমত হয়েছিল। যুদ্ধবিরতির পরে মনে করা হচ্ছে যে, দু’দেশই শীঘ্রই আবার তাদের হাই কমিশনারকে নিয়োগ করবে। উল্লেখ্য যে, ২০১৯ সাল থেকে ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লিতে হাই কমিশনার নেই।

সম্প্রতি পাকিস্তানের নতুন অর্থমন্ত্রী হামমাদ আজহার ভারত থেকে তুলো ও চিনি আমদানির অনুমোদন দিয়েছিলেন। পাকিস্তানে এই দুই পণ্যের ঘাটতি রয়েছে। সুতির অভাবে টেক্সটাইল শিল্প বন্ধের পথে। পবিত্র রমজান মাস চলছে এবং পাকিস্তানে এই মুহূর্তে চিনির দাম প্রতি কেজি ১১৫ টাকা। তবে হামাদের ঘোষণার পরের দিনই ইমরান-সরকার এই দু’টি জিনিস আমদানির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের মতে, কট্টরপন্থীদের চাপের কারণেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়েছিল।

আরও পড়ুন: করোনার মাঝেই চিনে ৩টি উৎসব, তরুণরা মৃত্যুভয়ে লিখছেন উইল

অন্যদিকে, মার্কিন রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছেন― ১১ সেপ্টেম্বরের আগে আফগানিস্তান থেকে আমেরিকান সেনা প্রত্যাহার করা হবে। যা আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক প্রশ্ন উত্থাপন করে। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা এক প্রশ্নে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত বলেছিলেন, “আফগানিস্তান ইস্যুতে সবার নজর রয়েছে। পাকিস্তানও সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতও সেখানে একটি বড় শক্তি এবং পরিস্থিতি উন্নয়নে অনেক সাহায্য করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তালিবান এবং আফগানিস্তান সরকার একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এক্ষেত্রে পাকিস্তান বড় ভূমিকা নিতে পারে।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *