গতকাল যেভাবে এইসব লিখেছিলাম

রিপন হালদার

আমি দেখতে পাচ্ছি একটা লোক প্রতিদিন সকাল এগারোটার দিকে সাইকেল নিয়ে পথে পথে ঘোরে। পথ মানে ফসলের মাঠের আলের মাঝখান দিয়ে যে ধুলো পথ তার পাইডারের মোলায়েম নিয়ে নির্জন শুয়ে থাকে। তার নরম বুকের উপর দিয়ে রবারের চাকা লম্বা গভীর ক্ষতের মতো দাগ কেটে কেটে এগিয়ে যায়।

লোকটা হয়তো কোথাও যাচ্ছে। আমি পিছু নিলাম। ফসল ভরা রং-বেরঙের চৌকা ক্ষেতগুলো পেরোনোর শেষে তার দ্বিচক্রযানটি বিশ্রাম পেল একটা জলাশয়ের কাছে এসে। যানটিকে পাড়ের ঢালে শুইয়ে দিয়ে লোকটা উঠে যাচ্ছে উপরে। ক্রমশ উপরে উঠে সম্রাটের মতো তাকিয়ে আছে সামনে। দীর্ঘ জলাশয়ের প্রবাহের দিকে। গুগল ম্যাপে জলাশয়ের নাম ‘মথুরা বিল’ লেখা থাকলেও আমরা যারা এখানকার অধিবাসী তারা একে ‘মথুরা ঝিল’ নামে চিনি।

লোকটা আমার বাড়ির আশপাশেই থাকে। সকাল-বিকাল টিউশন পড়ানোর ফাঁকে মস্ত এক শূন্য নির্জন দুপুর। ছোট্ট এক সংসারও আছে লোকটার। যত তাড়াতাড়ি পারে সেই সংসারের চৌকাঠ পেরিয়ে এই শূন্যে ছুটে আসতে পারলে যেন সে বেঁচে যায়।

লোকটা এছাড়া আর কী করে? লোকটা কি কবি? গল্প লেখে নাকি লোকটা? হয়তো লেখে অথবা না। আমার কী! কিন্তু লোকটাকে তো আমি না দেখে, না জেনে থাকতে পারছি না! তাই একপ্রকার জেদ নিয়ে লেগে পড়লাম।

আরও পড়ুন: নীলাঞ্জন হাজরার কবিতা: ‘অস্বীকার করেছি মানচিত্রের কঠোর সীমানা’

জানলাম, লোকটা আগে কবিতা লিখত। দু’টো বইও আছে কবিতার, ‘বৃষ্টির কথা হচ্ছে’ আর ‘অংকফুল’। দু’হাজার চৌদ্দ-পনেরো সালে পর পর বের হয় বইদু’টি। সেভাবে কেউ পড়েনি। স্বভাবিক, তার তো কোনও বিজ্ঞাপন ক্ষমতা নেই! নেই তেমন সাহিত্য জগতের বন্ধু-বান্ধব! থাকার মধ্যে কেবল সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট। তাতে আর ক’জন প্রকৃত পাঠক! এখানে সবাই লেখক! তবু লেখার বিরাম নেই লোকটার। অনলাইনে বিভিন্ন ম্যাগাজিনে তার লেখা মাঝেসাজে প্রকাশিত হয়। তার দু’বছর পর লোকটার কী হল ছেড়ে দিল কবিতা লেখা। দীর্ঘ প্রায় বছরখানেক কবিতা লিখল না। যে লাইনগুলো তার জীবন-প্রণালীর অংশ হয়ে উঠেছিল এতদিন, ঘুম বা জেগে থাকা অথবা ছাত্র পড়ানোর ফাঁকে নিঃসীম নীরবতা ছেঁকে যে লাইনগুলো মোবাইলের নোটপ্যাডে কালো কালো অক্ষরে স্বরচিত হত, মনে হত নিজে থেকেই ওরা লিখিত হয়ে যাচ্ছে। তারপর ব্যাচ ছুটি হলে বাড়ির দিকে যাওয়ার নির্জনতর রাস্তায় সাইকেলের ধীর চলার সময় যে পঙ্‌ক্তিগুলো হাওয়া রোদ আলোছায়া আকাশ গাছ বাড়ি ঘর কুকুরের ঝিম মেরে কুণ্ডলী পাকিয়ে পড়ে থাকা, সব ছুঁয়ে ভেদ করে জেগে উঠত, ভুলতে থাকল লোকটা সব কিছু। তার যেন মনে হতে লাগল আরও কিছু চায়, আরও ভিন্ন কিছু। আলাদারকম ভাবে কিছু বলতে চায়।

আরও পড়ুন: শঙ্খ ঘোষ: ‘আমার চলা ছিল আমার নিজস্ব’

এইসময় লোকটা আবার পড়াশোনায় ডুবে গেল। যখনই সময় পায়, রাত দিন বিকেল টিউশন-ব্যাচে বই ওর ব্যাগে থাকবেই। কিন্তু প্রচলিত বাংলা বইয়ে তৃপ্তি পেল না। হঠাৎ করেই সন্ধান পেয়ে গেল অনলাইন ম্যাগাজিনগুলোর। সেখানে পেতে থাকল কিছু নতুন লেখা, নতুন লেখক, যাদের নাম আগে কখনও শোনেনি। লোকটা ভেবে দেখল তার সেই সব লেখাই বেশি ভালো লাগছে যা অনুবাদিত। বিদেশি সাহিত্যিকদের লেখা বড় বেশি করে মনের কাছাকাছি আপন বলে মনে হচ্ছে। শুরু হল দ্বন্দ্ব। এতদিন তার মাতৃভাষায় সে যা পড়ে এসেছে, তা থেকে এইলেখা ভীষণ ভীষণ আলাদা। বিষয় তথা জীবনকে দেখার এই আলাদা বক্র দৃষ্টি লোকটার ভালো লেগে গেল। প্রায় পাগলের মতো লোকটা এদের পড়ে যেতে লাগল। কীসব কঠিন কঠিন সব নাম এদের! দু-একজন বাদে এদের প্রায় সবাই বর্তমান পৃথিবীতে অনুপস্থিত। বেশিরভাগেরই আবির্ভাব ঘটেছিল দক্ষিণ আমেরিকায়। তারপর ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, জার্মান, রাশিয়া সহ গোটা বিশ্বে। তারপর আরও চমৎকৃত হয়ে লোকটা লক্ষ করল, জাপানি সিনেমার মতোই জাপানি লেখকরাও ওকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। আর হ্যাঁ, এইসময় লোকটা ইন্টারনেটের কল্যাণে দেশি-বিদেশি ভালো ভালো সিনেমা দেখাও শুরু করেছিল, সে এক অন্য জগৎ। এই ধরনের কিছু আগে সে দেখিনি। লোকটার মাথার মধ্যে তখন অহরহ কী যেন বিস্ফোরণ হতে শুরু করল। এই পরিচিত পৃথিবীর মধ্যেই নতুন জগতের সন্ধান পেয়ে গেছে যেন। এভাবেও তো ভাবা যায়! লেখা যায় না এভাবে ভিন্ন আঙ্গিকে! যা আগে সেভাবে বাংলায় সে পড়েনি! রাত আর দিন বলে লোকটার জীবনে তখন আলাদা কোনও সীমারেখা থাকল না। রাত এগারোটার পর সবার খাওয়া হয়ে গেলে সবাই ঘুমের নিশ্চিন্ত রাজ্যে দেহকে সঁপে দিলে লোকটা নিজের ঘর তৈরি করত। সঙ্গী বই, মোবাইল আর বেশ কয়েক বছরের পুরনো ল্যাপটপ। মোবাইলটা গান শোনার জন্যই তখন ব্যবহৃত হত। পড়ালেখার মুড তৈরি করতে প্রথম দিকে গৌরচন্দ্রিকার মতো এটা ওকে সাহায্য করে বেশ। মুড এসে গেলে বন্ধ। ইয়ারফোন কান থেকে খোলার পর চারদিকে নীরবতার শব্দ। শীতকালে অবশ্য ইলেকট্রিক পাখার শব্দ না থাকায় আরও ঘন হত সেই স্তব্ধতা। সেই স্তব্ধতার শীর্ষবিন্দুতে পৌঁছনোর পর তার নিজের কাজ শুরু হত। কিন্তু প্রথম প্রথম কি-বোর্ডে বাংলা লেখা খুব সমস্যা হয়ে দাঁড়াল। তাই বলে লেখা হবে না! ডায়েরি নিয়ে শুরু হল অভিযান। লোকটার ভিতরে যে আগ্নেয় লাভা তোলপাড় করছে, তা বেরিয়ে আসতে থাকল গলগল করে। একেক রাতে একটা বা দু’টো করে গল্প লিখিত হতে থাকল। দেহ মন মাথায় তৃপ্তির ক্লান্তি এসে যখন অবশ করে দিত। লোকটার ঘুম পায়। ওদিকে ভোরের পাখিদের ডাকাডাকি শুরু। তারপর আবার সাড়ে সাতটায় টিউশন ব্যাচ! ইদানীং আটটাও বেজে যাচ্ছে যেতে।

আরও পড়ুন: চৈত্র সংক্রান্তি আর গাজনের দিনগুলো

অভিভাবকদের কয়েকজন মৃদু অথচ তীব্র অভিযোগও জানিয়ে ফেলেছেন ইতিমধ্যে। কিন্তু লোকটা কী করবে! টাকার জন্য রাত জাগা বন্ধ করে দেবে! কিন্তু তাহলে তো ওই চমৎকার লাভা উদ্‌গীরণ বন্ধ হয়ে যাবে! কী করা যায়! ওদিকে বেশি রাতে লাইট জ্বলে বলে সংসারের অন্য সদস্যদের তীব্র মুখ গোমরা আপত্তি। লোকটা সমস্যায় পড়ে। দু’টো ছোট ডায়েরি ইতিমধ্যে ভর্তি হয়ে গেছে লেখায়। সে ছাড়া যে লেখা কেউ হয়তো বুঝতে পারবে না। এমনই ঘিজিমিজি অস্পষ্ট। একদিন চেষ্টা করল অন্ধকারেই লিখতে। সকালে ডায়েরি খুলে দেখে চরম বিশৃঙ্খল হয়ে লাইনগুলো এক পৃষ্ঠা ছেড়ে অন্য পৃষ্ঠায় ছড়িয়ে পড়েছে। বাক্যের অবশিষ্ট কিছু শব্দ পড়ে গেছে বিছানার চাদরের উপর। তারপর সেখান থেকে তাদের কুড়িয়ে ডায়েরিতে তুলতে হয়েছে। এতে সমস্যা বেড়ে গেল আরও। উপায় ভাবতে থাকল লোকটা। দেশ-বিদেশের সেই প্রিয় লেখকদের সাক্ষাৎকার পড়া শুরু করল। কিছু সমাধান পায় কিনা এই আশায়। কিন্তু জানতে পারল, বেশিরভাগ লেখকই লেখালেখির সময় অন্য কোনও কাজ করতেন না। তাঁদের লেখার সমস্যা আর লোকটার সমস্যা তো এক নয়! একটা আলাদা ঘর পর্যন্ত নেই লোকটার! তারপর রাত্রি জাগরণ এবং টিউশন সংক্রান্ত সমস্যাবলি। এসব তো তাদের ছিল না! অবশ্য তাদের ছিল আবার আলাদা রকমের মারাত্মক সব ঝামেলা টামেলা। লোকটার মতো এইরকম বেসিক ঝঞ্ঝাট কারোর ছিল না। শেষপর্যন্ত একটা উপায় বের হল। জাপানের এক সাহিত্যিকের জীবন কাহিনি থেকে জানা গেল ভোরে উঠে লেখার মন্ত্র। বাহ! চমৎকার! ‘ইউরেকা’ বলে চেঁচিয়ে উঠেছিল কিনা লোকটা জানা যায়নি।

আরও পড়ুন: প্রকৃত কবিতা থাকে শুভকামনার মতো জন্মে ও বিদায়ে

মনে পড়ে গেল লোকটা ছেলেবেলায় পড়াশোনা করত ভোরে উঠেই। এবার শুরু হল সেই পদ্ধতির পুনর্জাগরণের সাধনা। তাড়াতাড়ি খেয়েদেয়ে এগারোটার মধ্যে লোকটা শুয়ে পড়তে থাকল। দু-চার দিনের ব্যর্থতার পর হঠাৎ একদিন ভোররাতে দুই চোখ খুলে যায়। চমৎকার নির্জন আবহাওয়া। মন-মেজাজ সতেজতায় ভরপুর। উঠে পড়ল। প্রাতঃকৃত্য সেরে বাথরুমে গিয়ে চোখে মুখে ভালো করে জল দিয়ে ঘরে এসে টেবিল ল্যাম্প খাটের কোনায় জ্বালিয়ে বসে পড়ল ডায়েরি নিয়ে। না, আজ আর কোনও গল্প রচনা নয়, শুরু করবে সে বড় কোনও লেখা। চলতি ভাষায় যাকে উপন্যাস বলা হয়। প্রথম পৃষ্ঠায় লিখল, ‘ভিন্ন গ্রহ থেকে বলছি’। ভালো লাগল না। কেটে লিখল ‘ভিন্ন গ্রহ থেকে লিখছি’। এই নামটা থাকল। কিন্তু তিন-চারদিন পর কেমন যেন লাগল। আবার কাটল, এবার লিখল ‘আগামীকাল এইসব ঘটেছিল’। উঁহু, এটা হুবহু মিলে যাচ্ছে অন্য একটি বইয়ের নামের সঙ্গে। শেষে অনেক ভেবেচিন্তে ঠিক হল ‘আগামীকাল এইসব লিখেছিলাম’। এবার একটু সুস্থির হওয়া গেল বোধহয়। তার পরবর্তী প্রায় মাসখানেক ধরে প্রতিদিন ভোর তিনটে বা চারটের সময় লোকটার চোখ খুলে যেতে থাকল। প্রতিদিন লিখিত হতে থাকল একটি করে অধ্যায়। সাড়ে ছ’টায় শেষ লেখা। তারপর বাড়ির পার্শ্ববর্তী মাঠে ভোরের ঠান্ডা হাওয়ায় ঘণ্টাখানেকের ভ্রমণ। সেদিনের লেখা রিভাইস হত ওইভাবে হাঁটার মাধ্যমেই মনে মনে। তারপর পরের দিনের গল্প কীভাবে এগোবে, তার একটা আবছা আভাস ওই সময়ের মধ্যেই ভাবা হয়ে যেত। বড় আনন্দময় ওই সময়। পড়াতেও যাওয়া গেল সময়মতো। এসে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়া ঝিলপাড় বা অন্য কোথাও। ফিরে এসে খাওয়ার পর ঘণ্টাখানেকের দিবানিদ্রা।

বড় সাইজের ডায়েরি শেষ হওয়ার আগেই শেষ হল লেখা। এবার শুরু হল পুনর্লিখন। পুরো লেখার সমস্যাজনক অধ্যায় বা অনুচ্ছেদগুলো পুনর্লিখিত হতে থাকল। এভাবে চলল আরও এক মাস বা তারও বেশি। মোটামুটি সন্তুষ্টজনক অবস্থায় তখনকার মতো সমাপ্ত হল লেখা।

আরও পড়ুন: ‘বনলতা সেন’ আসলে মৃত্যু, জন্ম থেকে জন্মান্তরে যাবার বিশ্রাম

এর কয়েকমাস বিরতির পর আবার ফিরে গেল গল্প লেখায়। বেশ কয়েকটি লেখা হল। পাঠানো গেল কয়েকটি পত্রিকায়। ছাপাও হল। সিদ্ধান্ত নেওয়া হল গল্পের বইয়ের। কারণ ওই গল্পগুলো যেন লোকটাকে তাড়া দিচ্ছিল প্রকাশের। লোকটা গল্পগুলো নিয়ে বেশ আশাবাদী হয়ে পড়েছিল। তার বিশ্বাস গল্পগুলো মোটেই প্রচলিত ধারার নয়। শেষপর্যন্ত থাকতে না পেরে লোকটা ছাপতে রাজি হল। ‘তবুও প্রয়াস’ প্রকাশনা থেকে বের হল লোকটার প্রথম গল্পের বই ‘এখানে অমল নামে কেউ থাকে না’। যথারীতি পাঠকসমাজ চুপচাপ। কয়েকটি সংবাদপত্র আর পত্রিকায় রিভিউর জন্য পাঠানো হল। সেখানেও পাথুরে নীরবতা। হতাশা ঘিরে আসবে আসবে করছে লোকটার মধ্যে। যে লেখাগুলো সে ভেবেছিল বিস্ফোরণ ঘটাবে। যেখানে তার হৃদয়ের তাপ-উত্তাপ জমাট বেঁধে আছে, সেই লেখা নিয়ে কারও কোনও উৎসাহই নেই! অবশ্য কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি তাঁদের মুগ্ধতা জানিয়েছিলেন। ব্যস, ওইটুকুই। লোকটা বুঝতে পারল লেখালেখির চরম বাস্তব সত্যটা। এভাবে বছর দুই বিভ্রান্তির মধ্যে থাকতে থাকতে আরও কিছু গল্প লেখা হল। কিছু কিছু ছাপাও হতে থাকল বিভিন্ন ওয়েব ও লিটল ম্যাগাজিনে। কিন্তু কোথায় যেন মনের তার ছিঁড়ে যাচ্ছিল। কিছুতেই মনকে বোঝাতে পারছিল না। বারবার মনে হত কী যেন হয়নি, অসমাপ্ত আছে কী যেন।

আরও পড়ুন: বনের দোল, মনের দোল

এইসময় নেটওয়ার্কিং সাইটে একটি বিখ্যাত প্রকাশনা সংস্থার বিজ্ঞাপন দেখতে পেল। নতুন উপন্যাস জমা দিতে বলছে। পছন্দ হলে ছাপবে। লোকটা মহা উৎসাহে কলেজ স্ট্রিটে গিয়ে জমাও দিয়ে এলো পাণ্ডুলিপি। সপ্তাহখানেক পর ফোন এলো, লেখা তাদের পছন্দ হয়েছে। তিন দিন পর কনফার্ম করবে। এই লেখা যেন আর কোথাও না দেওয়া হয় ইত্যাদি ইত্যাদি। সেই তিন দিন তারপর তিন মাস হয়ে গেল। কোনও ফোন নেই। শেষে লোকটা নিজেই ফোন করল। অপর প্রান্ত থেকে নিরুত্তাপ কণ্ঠে জানানো হল, লেখা অমনোনীত হয়েছে। তাঁরা ছাপবেন না। লোকটা বিভ্রান্ত হল। হয়তো কিছুটা হতাশও। বিশ্রী একটা ইয়ার্কির মতো লাগল ব্যাপারটা।

এর মধ্যে এসে গেলেন করোনা মহাশয়। লকডাউনের সময়কালে লিখিত হল আর একটি উপন্যাস। জুলাইয়ে লোকটার মাতৃবিয়োগ হল। ‘চিন্তা’ প্রকাশনী থেকে প্রস্তাব এলো উপন্যাস প্রকাশের। মহা উৎসাহে এবার লোকটা পড়ে থাকল লেখাটা নিয়ে। এডিট চলল ইচ্ছামতো। মাস দু’য়েকের লড়াইয়ের পর লেখা অনেকটাই মনের মতো হল। ততদিনে সে শিখে ফেলেছে ল্যাপটপে সরাসরি টাইপ করে লিখতে। সে এক নতুন মুক্তি।

এখন কথা হল লোকটার সম্পর্কে আমি এতকিছু জানলাম কীভাবে! ঘটনা হল, যার সম্পর্কে লিখছি তার নাম রিপন হালদার। আর আমার নামও তাই। ফলত জানা তো স্বাভাবিকই, তাই না! কিন্তু ওই হালদার মহাশয় সম্পর্কে এখনও আমি অনেক কিছুই জানি না। একদম সত্যি বলছি। আমি এও জানি না লোকটা আবার কবে নতুন লেখায় হাত দেবে। লেখালেখির সময়কালে বাস্তববিবর্জিত হয়ে সে কোন ঘোরের মধ্যে চলে যায় এবং আমার অস্তিত্বকে সে কেন কোন রসায়নে চূড়ান্তভাবে ভুলে থাকে, সত্যি বলছি জানি না। এরকম কিছু ভেবেই কী লালন বলেছিলেন, ‘‘আবার সে আর লালন একসাথে রয়/ তবু লক্ষ যোজন ফাঁক রে!’’  

    

আগামীকাল এইসব লিখেছিলাম
রিপন হালদার
চিন্তা
২০০ টাকা    

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *