করোনার জেরে বিনা চিকিৎসায় ফেরাল তিনটি হাসপাতাল, মায়ের গর্ভেই মৃত যমজ সন্তান

Mysepik Webdesk: পেটে যমজ সন্তান, সেই পরিস্থিতিতে একনাগাড়ে ১৪ ঘণ্টা ধরে একের পর এক হাসপাতালে ঘুরলেন অন্তঃসত্ত্বার পরিবার। কিন্তু করোনার ভয়ে পর পর তিনটি হাসপাতাল ফিরিয়ে দিল তাদের। অবশেষে মায়ের গর্ভেই মৃত্যু হল যমজ সন্তানের। পরে কোঝিকোড় মেডিক্যাল কলেজে ওই মহিলার অস্ত্রোপচার করা হলেও তাঁর দুটি মৃত শিশু জন্মায়। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে কেরলের মল্লপুরমে। অন্তঃসত্ত্বা মহিলার স্বামীর অভিযোগ, তিনি পর পর তিনটি হাসপাতাল ঘুরেও কোথাও তাঁর স্ত্রীকে তিনি ভর্তি করতে পারেননি। আর সেই কারণেই তাঁর দুই সন্তানের মৃত্যু হয়েছে জন্ম হওয়ার আগেই।

আরও পড়ুন: গাড়ি-বাইকের কাগজপত্র সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা কেন্দ্রের, এখুনি জেনে নিন

মহিলার স্বামী জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে তাঁর স্ত্রীর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসলেও পরে ১৫ তারিখ তাঁর অ্যান্টিজেন পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। এরপরেই তাঁর অল্প অল্প প্রসব বেদনা শুরু হয়। তখন থেকেই তিনি মানজেরি মে়ডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া শুরু করেন। তিনি জানান, “রবিবার ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ আমার স্ত্রীর প্রসব বেদনা উঠলে তাঁকে নিয়ে শহলাকে মানজেরি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাই। কিন্তু সেটি কোভিড হাসপাতাল বলে আমার স্ত্রীকে সেখানে ভর্তি নেওয়া হয়নি। এরপর সারাদিন ধরে একের পর এক হাসপাতালে ঘোরার পর অবশেষে সাড়ে সন্ধ্যে ৬টা নাগাদ আমার স্ত্রীর চিকিৎসা শুরু হয়।”

আরও পড়ুন: আজ আনলক ৫-এর গাইড লাইন ঘোষণা সিনেমা হল, স্যুইমিং পুল, এন্টারটেইনমেন্ট পার্ক কী খুলতে চলেছে?

ওই ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরেই নড়েচড়ে বসে কেরালা সরকার। কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজা এই ঘটনাটিকে বেদনাদায়ক আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিবকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। জানা গিয়েছে, ওই মহিলাকে প্রথমে এড়াভান্নার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু করোনার অজুহাত দেখিয়ে তাঁকে ভর্তি নেওয়া হয়নি। এরপর মানজেরি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখান থেকেও ওই সন্তানসম্ভবা মহিলাকে পাশের কোঝিকোড় জেলার সরকারি হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু সেখানে কোনও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞই ছিলেন না। আবার অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতাল ভর্তি করার আগে সেখানে ফের আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে করোনা পরীক্ষার কথা বলা হয়।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *