তিনটি কবিতা

বিশ্বদেব মুখোপাধ্যায়

আজ

আজকে, নয়তো কালকে
সত্য দিয়েই ছিঁড়তে হবে
মিথ্যে সুতোর জালকে।

কালকে তো নয়, আজকে
সৎ কবিতায় ভাঙতে হবে
অপ্রিয়তার লাজকে।

খাঁচা

পাখিটি খাঁচায়!
ডানা মেলে
আকাশে পাখিত্ব উড়ে যায়।

বেহাগ

ভাণ্ডের ভিতর শূন্য। রাত নাই। ঈশ্বর আছেন।
উপরে নীলাণ্ড গোল। ছাত নাই। ঈশ্বর আছেন।
বাহিরে ন্যুব্জ ও নুলো মহাকাল।
হাত নাই। ঈশ্বর আছেন।
মহাকাশে মীনলগ্ন… ফাৎনায় নিঃসর আছেন।

নীচে লঘু-সপ্তর্ষি বঁড়শিবৎ… মাঝে সূত্রহীন
অযুত-আলোকবর্ষী শূন্য… তার শেষে অবলীন
নিরালম্ব তৎপুরুষ… জ্যোৎস্নায় নিহিত আছেন
তিনি তথা তিন কাল সারারাত বেঁধেছেন বীণ
ষড়জ নিখাদ গান্ধার… বিশ্বময় ত্রিস্বরে বাজেন
কখনও অনন্ত সুরে, কখনও বা দূরে মগ্ন মীন।

বাংলাভাষার একজন কবি ও প্রাবন্ধিক হিসাবে বিশ্বদেব মুখোপাধ্যায়-এর নাম সুপরিচিত। জন্ম ১৯৪৫-এ, কলকাতায়, কিন্তু মনে মনে আজীবন বসবাস বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে। তাঁর মাতৃ-পিতৃভূমি­— কথা সাহিত্যিক তারাশঙ্করের গ্রাম। বিশ্বদেব তাঁর দৌহিত্র। তাঁর মা গঙ্গাদেবী এবং বাবা শান্তিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৯৭৫-এ (ছায়া যার দশদিক)। এ পর্যন্ত তাঁর একাধিক কাব্যগ্রন্থ এবং প্রবন্ধ সংকলন পাঠক মহলে বিশেষ রূপে সমাদৃত হয়েছে।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *