প্রাণ বাঁচাতে ছেলেকে নিয়ে রক্তাক্ত শরীরে বাইক চালিয়ে ছুটলেন বাবা, কিন্তু কেন?

Mysepik Webdesk: রাজ্যের সাপ্তাহিক লকডাউনের সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ এক ব্যক্তিকে রক্তাক্ত শরীরে বাইক চালিয়ে ছেলেকে নিয়ে যেতে দেখা গেল। লকডাউনের দিনে গাড়ি না পাওয়ায় দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে তিনি বাইক নিয়েই হাসপাতালের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ছেলেকে রক্ত দেওয়ার জন্য। কিন্তু সব কিছুই ওলটপালট হয়ে গেল একটা অ্যাকসিডেন্টেই। কিন্তু তাতেও হাল ছাড়লেন না হাওড়ার মালিপাঁচঘড়ার বাসিন্দা শুভেন্দু ভুক্ত। রক্তাক্ত অবস্থাতেই তিনি ছেলেকে নিয়ে বাইক চালিয়ে যাচ্ছিলেন হাসপাতালের দিকে। উদ্দেশ্য একটাই, যেভাবেই হোক ছেলেকে রক্ত দিয়ে বাঁচাতে হবে।

আরও পড়ুন: প্রবল বর্ষণে জলোচ্ছ্বাস বাড়ছে বীরভূমের নদীগুলির, বন্যার আশঙ্কা

এদিকে পুলিশের নাকা চেকিং চলার সময় শুভেন্দুকে থামানো হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় বাইক চালিয়ে নিয়ে যেতে দেখে প্রথমে সন্দেহ হয় পুলিশ আধিকারিকদের। স্বাভাবিকভাবেই পুলিশ জানতে চাইল কী ঘটেছে? কেন তার জামাকাপড়ে রক্তের দাগ? উত্তরে শুভেন্দুবাবু পুলিশকে জানান, তাঁর ১১ বছরের ছেলে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত। তিনি রক্তের জন্য পদ্মপুকুরের একটি ব্লাড ব্যাঙ্কের দিকে যাচ্ছিলেন। শুক্রবার লকডাউনের দিনেই ছিল তাঁর ছেলে সুপ্রিয়র ব্লাড ট্রান্সফিউশনের দিন। সেই কারণেই তাড়াহুড়ো করে হাওড়া ব্রিজে ওঠার মুখে তিনি দুর্ঘটনার মুখে পড়েন। তাঁর শরীরের নানা জায়গায় কেটে ছোড়ে যায়। তাই পোশাকে রক্তের দাগ। কিন্তু তাঁর কাটাছেঁড়ার থেকেও ছেলের রক্তের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। তাই সেই অবস্থাতেই তিনি বাইক চালিয়ে ফের ব্লাড ব্যাঙ্কের দিকেই যাচ্ছিলেন।

আরও পড়ুন: করোনা চিকিৎসায় রোগীদের পকেট বাঁচাতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে কড়া দাওয়াই রাজ্যের

শুভেন্দুবাবুর মুখে গোটা ঘটনাটি শোনার পরেই ট্রাফিক গার্ডের সিভিক ভলান্টিয়ার মহম্মদ নিয়াজুদ্দিন এগিয়ে আসেন আহত শুভেন্দুবাবুকে সাহায্য করতে। তিনি নিজেই পদ্মপুকুরে ব্লাড ব্যাঙ্কে গিয়ে শুভেন্দুবাবুর ছেলের জন্য এ পজিটিভ রক্ত দেন। রক্ত নিয়ে হাওড়ার হাসপাতালে ফিরলে সেই রক্ত দেওয়া হয় শুভেন্দুবাবুর ছেলেকে। আর তাতেই এ যাত্রায় রক্ষা পায় ছেলেটি। এভাবেই মানুষের পশে থাকার বার্তা দিয়ে গোটা ঘটনাটি কলকাতা পুলিশ তাদের ফেসবুক পেজে শেয়ার করে।

আরও পড়ুন: জাতীয় সড়কের হাল বেহাল: সমস্যার কথা জানিয়ে জেলাশাসককে চিঠি বিধায়কের

#পাশেথাকাসাধ্যমতো শুক্রবার, ২১ আগস্টের ঘটনা। তখন সকাল সাড়ে এগারোটা হবে। লকডাউনে জনশূন্য হাওড়া ব্রিজ। কলকাতার দিকে…

Posted by Kolkata Police on Saturday, 22 August 2020
Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *