‘বেশি বাড়াবাড়ি করলে আরও শীতলকুচির মতো ঘটনা ঘটবে’, ফের বেলাগাম দিলীপ ঘোষ

Mysepik Webdesk: শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলি চালানোর ঘটনা প্রসঙ্গে বেলাগাম ও বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। রবিবার বড়নগরে বিজেপি প্রার্থী পার্নো মিত্রের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ কার্যত হুমকির সুরে বলেন, “বেশি বাড়াবাড়ি করলে জায়গায়-জায়গায় শীতলকুচির মতো ঘটনা ঘটবে।” এদিন শীতলকুচির ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “উনি পাপ করছেন, অন্যায় করছেন। মানুষকে উস্কানি দিচ্ছেন। অবিলম্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচার বন্ধ করে দেওয়া উচিত। উনার বিরুদ্ধে মামলা করা উচিত।” তারপরেই তিনি এহেন মন্তব্য করে বসেন।

আরও পড়ুন: ‘গণহত্যা করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী’, আজ কালো পোশাকে প্রতিবাদ মমতা বন্দোপাধ্যায়ের

প্রসঙ্গত, শীতলকুচির জোড়পাটকির ১২৬ নং বুথে শনিবার সকালে ভোট শুরু হওয়ার কিছু পরেই আচমকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের বিরুদ্ধে ভোটারদের লক্ষ করে এলোপাথাড়ি গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। গুলি লেগে মৃত্যু হয় চার জনের। অভিযোগ, প্রায় ৩০০ জন দলীয় কর্মী কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘিরে ঘরে তাদের রাইফেল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তাই প্রাণ বাঁচাতে বাধ্য হয়ে ওই কর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী। একই দাবি করে নির্বাচন কমিশনও। যদিও এই দাবি মানতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এই ঘটনাকে তিনি একপ্রকার ‘গণহত্যা’ বলে ব্যাখ্যা করেন। ঘটনার পর সাংবাদিকদের দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এমনটাই দাবি করেন।

আরও পড়ুন: শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বিচারে গুলি চালানোর অভিযোগ, মৃত ৪, ভোটগ্রহণ বন্ধের নির্দেশ ১২৬নং বুথে

এদিন বিজেপি প্রার্থী পার্নো মিত্রের সভায় নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ উপস্থিত জনগণকে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলেন। তিনি বলেন, “আপনারা সবাই সকাল সকাল গিয়ে লাইন দিয়ে ভোট দিন। প্রতিটি বুথে সেন্ট্রাল ফোর্স থাকবে। কেউ যদি গায়ের জোর দেখায়, তাহলে ভয় পাবেন না, কারণ আমরা আছি। আর বেশি বাড়াবাড়ি করলে জায়গায়-জায়গায় শীতলকুচি হবে।” দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যে ইতিমধ্যেই জোর বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *