পশ্চিমে দেশান্তরের মরশুম

পৌষালী চক্রবর্তী

কত পুরনো প্রবাদ— মানুষের জীবন বহতা নদীর মতো; ভাঙতে-ভাঙতে, গড়তে-গড়তে এগিয়ে চলা। তার ছেড়ে আসা খাতে পলি পড়ে, জন্ম নেয় নতুন বৃক্ষপ্রাণ। কখনও সেখানে একটি দু’টি মানুষে মিলে বসত গড়ে তোলে। নতুন প্রবাহপথে যা যা পড়ে, তা ভেসে চলে মোহনার দিকে। পশ্চিমাঞ্চলের আষাঢ়ে যার দু’কূল ছাপিয়ে যাচ্ছে, চৈত্রে সে জরতী নারীর শিরাওঠা রোগা হাতের মতো জলরেখার দাগমাত্র। সময়ের কত বিচিত্র গতির সাক্ষী একটি নদীজীবন। এক নদীর প্রাকৃতিক আয়ুর তুলনায়, মানুষ ক্ষীণায়ু; মহাবিশ্বে সেই অতি নগণ্য আয়ুর মানব জীবনে বিভিন্ন পর্যায়ের সময়ের চলন বিভিন্ন রকমের। শিশুদের কাছে সময় যেন অনেক দীর্ঘ; অথচ  বাবা মা’র কাছে সন্তানের শৈশব দশা চোখের পলকে পেড়িয়ে যায়। স্থানভেদেও সময়ের আপেক্ষিক চলন দৃশ্যমান হয়। শহরের জীবন যেন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌড়য়, গ্রামজীবন তেমনই চলে অনেক ধীর লয়ে। আর এই নশ্বর জীবনে স্থানান্তরের সঙ্গে সময়ের চলনের যুগলবন্দি মাঝেমাঝে তৈরি করে এক আশ্চর্য বিভা। এমনই এক দীর্ঘ নাগরিক ক্লান্তির ভাদ্র বিকেলের ডাকে পশ্চিমাঞ্চলের চিঠি এলো…

আরও পড়ুন: তুৎ পাখি উড়া দিলে…

তারপর তো কান্নাকাটি থামিয়ে, বাক্স-প্যাঁটরা বেঁধে, প্রথমবার চড়ে বসা গেল রাতের হাওড়া-আদ্রা-চক্রধরপুর প্যাসেঞ্জারে। সেটি ভোর ভোর পৌঁছে দেবে বরাভূম স্টেশন। চোখে জল কেন? বাড়ি থেকে বেশ অনেকখানি দূর, তায়  উপদ্রুত— LWE ব্লক। তখন কী আর জানি, কোন মায়াভূখণ্ডে যাচ্ছি, দক্ষিণবঙ্গের এক অনুজ্জ্বল মফস্বল থেকে— সেখানে পাহাড়চূড়ায়, অরণ্যে, পাহাড়তলিতে যেসব জন-স্থান আছে, তাদের সময় ধারণা, সময়ের চলন সম্পূর্ণ পৃথক…

আমরা যারা রাতের ট্রেনের যাত্রী, তারা জানি জানালার বাইরে ঘন অন্ধকারের মধ্যে মাঝেমাঝে দৃশ্যমান আলোকবিন্দুর ছুটে চলা দেখতে দেখতে কখন ঘুম নেমে আসে; আর মোটামুটি নিয়মিত যাত্রী হয়ে গেলে তখন জানলার অন্ধকারে চোখ ডোবানোর বদলে ই-বুক, বা সিনেমা সঙ্গী হয়। নিস্তরঙ্গ রাতের ট্রেন কত নিঝুম স্টেশন, ঘুমন্ত জনপদ পেরিয়ে একপেট মানুষ নিয়ে ছুটে চলে গন্তব্যে। দরজার পাশের সাইড লোয়ারে সিট থাকলে কখনও সখনও আধাঘুমন্ত টের পাওয়া যায় নিশাচর মানুষের ওঠানামা। ব্রাহ্ম মুহূর্তে ঘুম ভাঙায় ‘গ্রম চা’ হাঁক! ট্রেনের কাচের জানালা ছুঁয়ে ফেলে প্রথম সূর্যকিরণ। আকাশের বুক চিরে চলে যাওয়া কালো হাইটেনশন তারে দোল খায় সবুজ বাঁশপাতি। প্রাণের স্পন্দ জাগে এই গোলার্ধে, একটি নতুন দিনে— ‘ভোরের বাতাস যায় যে চিরে হঠাৎ ধীরে’।

আরও পড়ুন: হাথক দরপণ

12 COVID-19 Special Departures from Barabhum SER/South Eastern Zone -  Railway Enquiry

বরাভূম। গুটিগুটি পায়ে ঝোলাঝুলি নিয়ে নেমে আসি আমরা দুই ভোলা— আমি ও আমার কত্তামশাই। তিনি আমাকে পৌঁছতে ও দেশ গাঁয়ের হাল-হকিকত বুঝতে এসেছেন। প্ল্যার্টফর্মে নেমেই প্রাণ জুড়িয়ে গেল। আগের রাতে ঝড়-বৃষ্টি হয়েছিল। ট্রেনে বসে উৎকণ্ঠায় ভালো বুঝতে পারিনি। এখন দেখি, এমনিতে পরিষ্কার তকতকে স্টেশনটি বৃষ্টিজলে ধুয়ে নিকোনো তকতকে দাওয়ার মতো হয়ে আছে। স্টেশনে প্রচুর আলো হাওয়া খেলে যায়। আর মধুর অন্তরঙ্গতায় তার একদিকে ঝরে পড়ে আছে কৃষ্ণচূড়া ফুল। সেখানে এক ঝাঁকড়া গাছ, তার নীচটি লালে লাল। মেঘলা আবহাওয়ায় আরও ফ্লুরেসেন্ট রং। ‘গ্রম চা’ খাব কিনা ভাবছি, এমন সময় সামনে তিনজন উদয় হলেন। দু’জন পরিচয় দিলেন। তাঁরা নিরাপত্তারক্ষী হিসাবে নিযুক্ত; তাঁদের দেখে তো আবার ঘাবড়ে গেলাম, না জানি কী বিপদ সবসময় ওঁত পেতে থাকে! আরেকজন, তিনি গাড়ির চালক, যাঁরা আগামী দিনের পরিক্রমায় প্রায় সবসময় সঙ্গী হবেন।

ব্লক অফিসে পৌঁছে বেশ লাগল চত্বরটা। ট্রেনিংয়ে যখন পুরনো সময়ের কথা বলা হত, স্বল্প সংস্থান, পরিকাঠামোগত সমস্যায় পূর্বসূরিদের কত অসুবিধাজনক অবস্থা অতিক্রম করতে হয়েছে আমরা শুনতাম। সে তুলনায় অবস্থা এখন বহুলাংশে ভালো। কোয়ার্টার সংলগ্ন ছাদে দাঁড়ালে অনতিদূরে দেখা যায় পাহাড়ের রেখা। নাম জানলাম কানা পাহাড়। সেখানের গুহায় নাকি আদিম মানুষের বসবাসের নিদর্শন আছে। ঘরের জানালায় দাঁড়ালে দেখা যায় টলটলে জলের মাগুসরাই বাঁধ। খুব বড়, গভীর জলাশয়কে এখানে বাঁধ বলে, অনেকটা আমাদের দিঘির মতো।

জয়েনিংয়ের ফর্ম্যালিটি শেষ করে বেরোলাম জেলাশহরের দিকে। সিধে রাস্তা পুরুলিয়া। যাওয়ার পথে অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামল। উইন্ডস্ক্রিন অবিরত জলে ভেসে যায় যায়, বারবার মুছেও আটকানো যাচ্ছে না ভিতরের কাচে ঘুলিয়ে ওঠা বাষ্প। দৃষ্টির স্বচ্ছতা যেন আসছেই না!

তার মধ্যেই আমার সঙ্গী দু’জন চেনাতে শুরু করলেন বিভিন্ন পাহাড়— ডাইনে বাঁয়ে। কিন্তু জল ভেদ করে দৃষ্টি আর পৌঁছয় কই! জেলায় পৌঁছে দেখা হল জেলাশাসক, সকল অতিরিক্ত জেলাশাসক এবং সদর (পশ্চিম) মহকুমা শাসকের সঙ্গে। জেলাশাসক অনেক কিছুই বললেন। কিছু বিষয় গভীর দাগ কাটে, যা ধীরে ধীরে বলা যাবে। উপস্থিত, বৃষ্টির মধ্যে খুব সতর্ক থাকতে বললেন; সব ত্রাণসামগ্রী যাতে তৈরি থাকে। পাহাড়ের দিকে ছোট ছোট জলধারা থাকে, যাকে স্থানীয় ভাষায় ‘জোর’ বলে। কখনও কৃষিকাজের সুবিধার্থে জোরের ঢালে বাঁধ দেওয়া হয়— জোরবাঁধ বা চেকড্যাম। জোরের অগভীর খাতের বহনক্ষমতা কম হওয়ায় অঝোর বৃষ্টি মাঝেমাঝে দুকূল প্লাবী হয়ে যায়— হড়পা বান আসে। পাহাড়পথে বৃষ্টির ক্ষত বা রেন কাট তৈরি হয়। আর মাটির বাড়িতে বৃষ্টির সময় যত না ক্ষয় হয়, তারপরে রোদ উঠলে ক্ষতি বাড়ে— মাটির ভিজে দেওয়াল তীব্র রোদে শুকানোর সময় বড় বড় ফাটল নেয়।

ফেরার পথে বৃষ্টি ধরে আসল। মেঘ সরে গিয়ে আকাশ পরিষ্কার হচ্ছে। যার জানালার সঙ্গে যেটুকু আকাশ ছুটছে, তার নীল ভেদ করে দৃষ্টি যেন প্রসারিত হচ্ছে। হঠাৎই মনখারাপ করতে শুরু করে। আকাশের প্রসারের সঙ্গে, শালের বনে ঘনিয়ে আসা আসন্ন সন্ধ্যার সঙ্গে অনাদিকালের কোনও বেদনার যেন যোগ আছে। যে দিনাবসানের বেদনা গুহামানবীর গলায় দিয়েছিল আদি সুর, শিল্পীকে দিয়েছিল গুহাচিত্রে বাইসনের রেখা টানার প্রেরণা সেই বিষণ্ণ জাম রঙের সন্ধ্যা নামছে ডুংরী, কুলিহ, ডহরে। ঘরে ফেরা মোষের সিং সেই রঙে মিশে গিয়ে তাকে যেন স্বাগত জানাচ্ছে। দৈবাৎ এমন বিষণ্ণতার ছায়াপাতে মনে মহতের ভাব আসে…

আরও পড়ুন: সম্বুদ্ধজাতিকা (৮ম অংশ)

অফিসে এসে আবার বসি সহকর্মীদের সঙ্গে। পরদিন থেকে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু। বুথ তালিকা নিয়ে বসে ভাবি বুথ ভিজিট দিয়েই এলাকার সঙ্গে পরিচিতি তৈরি শুরু করা যাবে। ভূমিরূপ, জনগোষ্ঠীর বিভিন্নতা, তাদের সাংস্কৃতিক প্রকাশ বুঝতে না পারলে কোনও পরিকল্পনা নেওয়া বা তাকে বাস্তবায়িত করা মুশকিল বলে মনে হচ্ছিল। অবশ্য বাইরে থেকে এসে কী তার অন্তর্লীন অমূর্ত রূপকে অত সহজে হৃদয়ঙ্গম করা যায়?

সপ্তাহান্তের স্পেশাল ক্যাম্পেন ডে-র নিয়মানুগ বুথ ভিজিট সেরে আমরা কয়েকজন গেলাম বেড়শার দিকে। সেখানে বিরহড়দের গ্রাম বেড়শা পাহাড়তলিতে। গ্রামে ঢোকার মুখে বিশাল মাঠ। সেখানে তখন চুটিয়ে ক্রিকেট খেলা চলছে হইহই করে। খেলতে নামলাম। এতক্ষণ যারা দৌড়ে এসে কাঁধের উপর হাত ঘুরিয়ে বল করছিল, আমাকে স্ট্রাইকিং এন্ডে পেয়ে, উইকেটের পাশে দাঁড়িয়ে সোজা বল করতে লাগল। আমি তাতেও বেশ কয়েকবার ব্যর্থ হয়ে সজোরে ব্যাট চালালাম। আশ্চর্য! বলে যেন ডানা লাগল; সে আকাশপথে গিয়ে অদৃশ্য হল বেড়শা পাহাড়ের দিকে। তাদেরকে আবার বল দেব, এই শপথ করে অপরাধী মন নিয়ে গ্রামের দিকে ঢুকলাম। খেলার আনন্দটাই যেন মাটি হল আমার জন্য। পরে সেই দামাল কিশোরেরা অফিসে এসে তাদের পাওনা ঠিক বুঝে নিয়েছিল।

গ্রামে ঢোকার মুখে দেখি কয়েকটি শিশু লালমাটির ধুলো মেখে খেলছে। তাদের মায়েরা একজায়গায় গোল হয়ে বসে গল্পে মত্ত। একটি রোগা চেহারার বউ, শাঁখা পলা পিতলের বিবর্ণ চুড়ি পরা হাতে নারকেল পাতা ছাড়িয়ে কাঠি বার করছে। পাতকোতলায় জল তুলছে এক কিশোরী। তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে আমরা এগোতে থাকলাম বিরহড় বাড়িগুলির দিকে। তারা সব খোলা প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে। অনেকেই পাহাড় থেকে নেমেছেন। প্রথমে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা চলতে লাগল। একটু পরেই তাদের একজন ঘর থেকে দড়ির খাটিয়া নিয়ে এলেন, বসতে দেওয়ার জন্য। সেটা হয়তো রাতের আরামের শয্যা। কিন্তু ঘরের দুয়ারে আসা অচেনা মানুষের জন্য নিমেষেই তা দিয়ে দিতে পারেন; নিজের কী সংস্থান আছে, তা না ভেবেই এগিয়ে দেন একগাল মুড়ি। এই দুয়ারখোলা আন্তরিকতা আমাদের সাধ্যবস্তু নয়— মনে মনে ভাবি, সীমানা প্রাচীরহীন বাসস্থান, উদার অরণ্য পাহাড়ের সঙ্গে সহাবস্থান, প্রকৃতি লগ্ন জীবনযাত্রা হয়তো তাদের মনে আধুনিকতার সেই রক্তবীজ পোঁতেনি, যার নাম… সন্দেহ। তাদের জীবনে কষ্ট, অভাব আছে কিন্তু সেই যন্ত্রণার বোধ বা ধারণা ‘এলিয়েনেটড’ মানুষের থেকে আলাদা। তাদের ‘মূল স্রোতে’ নিয়ে যাওয়ার প্রাতিষ্ঠানিক লড়াইয়ের সঙ্গে হামেশাই মেলে না তাদের নিজস্ব মনোগত বাসনা, যে মনোজগত আমাদের জটিল গঠনের আয়নায় ঠিকভাবে প্রতিবিম্বিত হয় না। এ এক আদিম কূট। অরণ্য-নির্ভর সভ্যতার সঙ্গে নাগরিক প্রগতির আদৌ মিথস্ক্রিয়া সম্ভব কিনা…

আরও পড়ুন: আদিবাসীরা নাচবে না

গল্পে গল্পে তারা বলতে থাকেন, সেদিনের বনজসম্পদ সংগ্রহের কথা। পাহাড়ে পাহাড়ে দিনমানে ঘরে ফেরার তাড়া। সন্ধ্যা নামছে। তার ঘাতসহ কঠোর হাতের  কৌশলে চিহড়লতার বিনুনী বুনে দড়ি পাকাবেন বিরহড় মা, উনুনের জ্বালে ফুটে উঠবে ভাত, তাকে ঘিরে বসে থাকবে অন্নমুগ্ধ শিশুরা, বুড়ো ঠাকুরদা চাঁদের নীচে বসে বলবে পরাণকথা; অতিদূর থেকে ভেসে আসছে মাদলের মৃদু গম্ভীর ধ্বনি। সময়ের তাল যেন ঘনীভূত হয়ে আচ্ছন্ন করছে জনপদকে— ধীরে, অতি ধীরে তার চলন; আর সেই সময় আস্তর ভেদ করে ঊর্ধ্ব মুখে যাত্রা করেছে এক অনন্ত বোধিবৃক্ষ, যার ছায়ায় পুষ্ট জনপদবাসী জানে সুজাতার পরমান্নর কৃৎকৌশল। আমরা বাসার দিকে ফিরতে থাকব এক পরাবাস্তবতার ঘোরে, তার আড়ালে মুখ লুকোতে চাইবে প্রায়োগিক ব্যর্থতার অসেতুসাধ্য দূরত্ব… মনে হতে থাকবে সবার জীবনেই কোনও না কোনওভাবে আসে স্থান-কালের অন্য মাত্রায় দেশান্তরিত হওয়ার মরশুম, যেমন থাকে আমাদের যুথচেতনার পুরাকথায়…

ক্রমশ…

পৌষালী চক্রবর্তী পেশায় রাজ্য সরকারি আধিকারিক। রসায়ন, তুলনামূলক সাহিত্য ও বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্যের গবেষক। আগ্রহের বিষয় ইতিহাস, দর্শন, উনিশ শতক। নেশা বই পড়া, ফোটোগ্রাফি, পাহাড়ে বেড়ানো আর ভারতীয় মার্গ সংগীত শোনা। প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘লিলিথ জন্মেরও আগে’ (২০২০)। তাঁর চাকরি-জীবনের প্রথম পোস্টিং পুরুলিয়া জেলায়। তিনি তাঁর পুরুলিয়া যাপনের কথা লিখবেন ধারাবাহিকভাবে ‘তুৎ পাখি উড়া দিলে’ কলামে। কখনও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার জারণে, কখনও রূপক গল্পের কল্প আখ্যানে তাঁর এই নিবেদন অতীতচারী, বর্তমান-আবদ্ধ, অনাগত কালের পুরুল্যার করকমলে…

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *