লাগামহীন ট্যাক্টর র‍্যালি, ট্যাক্টর উল্টে মৃত ১ কৃষক, উত্তপ্ত ২৬শের রাজধানী, দায়ী খুঁজতে চলছে সুরতহাল

Mysepik Webdesk: নতুন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত কৃষকদের মিছিল লালকেল্লা পৌঁছেছিল। অনেক জায়গায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের খবরও পাওয়া গেছে। দিল্লি আইটিওর কাছে ট্যাক্টর উল্টে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। চাষিদের মধ্যে কোন্দল দেখেই সরকার সিংহু, টিকরি, গাজিপুর সীমান্তের পাশাপাশি মুকারবা চৌক এবং নাঙ্গলাই এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: লালকেল্লায় পৌঁছে কৃষকরা ওড়ালেন কৃষক আন্দোলনের নিশান

দিল্লির লালকেল্লায় প্রবেশের পরে বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত একজন আন্দোলনকারী যে জায়গায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়, সেখানে খালসা পান্থ এবং কিষাণ সংঘের পতাকা লাগিয়ে দেন। দিল্লি আইটিওতে একজন কৃষকের মৃত্যুর খবর খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ট্র্যাক্টরটি উল্টে যাওয়ার কারণে এই কৃষক মারা যান। অক্ষরধামের কাছে ব্যারিকেড পেরিয়ে যান বিক্ষোভকারীরা। এই সময়ে অনেক নিহংকে তলোয়ার নিয়ে হাঁটতেও দেখা যায়। কৃষকদের নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ সদস্যরা দিল্লির নাঙ্গলাইয়ের রাস্তায় বসেছিলেন। বিপুল সংখ্যক মহিলা জওয়ানও এতে ছিলেন।

আরও পড়ুন: ২৬শের প্যারেডে প্রথমবার অংশ নিলো রাফাল

তবে স্বাধীনতা দিবসের পতাকা যেখানে ওড়ে, সেই দেশের গর্ব লালকেল্লার বুকে উড়ল অন্য পতাকা, এই ঘটনাতেই বোঝা যাচ্ছে যে, পরিস্থিতি আজ একেবারেই নিয়ন্ত্রণে ছিল না। কৃষকদের থামাতে দিল্লির নাঙ্গলয়ের কাছে যে ব্যারিকেড তৈরি হয়েছিল তাও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের বাধা ভেঙে কৃষকদের কাফেলা দিল্লির লাল দুর্গে পৌঁছেছিল। অন্যদিকে, গাজিপুর সীমান্তের নিকটে কৃষকরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেছিল। এর পরে পুলিশ টিয়ার গ্যাস শেল নিক্ষেপ করলেও কৃষকদের দমন করা যায়নি।

আরও পড়ুন: কৃষকদের মিছিলে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ল পুলিশ, উত্তপ্ত দিল্লি সীমান্ত

খোদ দিল্লির বুকে এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির পিছনে কে দায়ী, তা নিয়ে এখন জোর চর্চা চলছে। ভারতীয় কিষান ইউনিয়নের নেতা রাকেশ টিকায়েত জানিয়েছেন, ”যাঁরা তাণ্ডব চালিয়েছেন, তাঁরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তা করেছেন।” এই সমস্ত মানুষদের চিহ্নিত করেছেন বলে দাবিও করেছেন টিকায়েত। দিল্লি পুলিশের জয়েন্ট সিপি শালিনী সিং জানিয়েছেন, সকাল থেকে পুলিশের তরফে কৃষকদের প্রতি শান্তির আবেদন করা হয়। তারপরও তাঁরা হিংসার আশ্রয় নেন। অনেক পুলিশ কর্মী আজ আহত। প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন এটি কোনও মতেই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নয়।” পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়ারও অভিযোগ আনা হয়।

আরও পড়ুন: একুশের ছাব্বিশ, নানা মনের নানান ভাবনা

অন্যদিকে, অধীর চৌধুরি কেন্দ্রীয় সরকারকে এই অবস্থার জন্য দায়ী করে বলেন, ‘‘কেন্দ্র কৃষকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। সরকারি আরোপিত দুর্দশার বিরুদ্ধে যখন আজ রাস্তায় রাস্তায় নেমেছেন তাঁরা, স্টিম রোলার চালিয়ে তাঁদের দমন করতে চাইছে সরকার। কৃষি আইন চাইছেন না তাঁরা। কত জন প্রাণও দিয়েছেন। স্টিম রোলার চালিয়ে কখনোই দমন করা যাবে না কৃষকদের। বিনাপ্ররোচনায় দিল্লি পুলিশ কৃষকের ওপরে হামলা করেছে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে। কৃষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানাচ্ছি আমরা। এই কৃষি-বিরোধী ও দেশ-বিরোধী আইন বাতিল করা হোক। ভারতে এর আগে বহু আইন তৈরি হয়েছে, বহু আইন বাতিলও হয়েছে। একটা আইন বাতিল হলে আকাশ ভেঙে পড়বে না। ভারত সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে কৃষি আইন বাতিল করে সমস্যা সমাধানে।’’ মঙ্গলবার সামসেরগঞ্জের নতুন ডাকবাংলা এলাকা থেকে ধূলিয়ান পর্যন্ত মিছিলে হাঁটার সময় একথা বলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরি।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *