ইউপি: টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় অবহেলা, সিদ্ধার্থনগরের গ্রামবাসীরা ১ম ডোজে কোভিশিল্ড ও ২য় ডোজে পেলেন কোভ্যাকসিন

Mysepik Webdesk: উত্তরপ্রদেশের সিদ্ধর্থনগর। নেপাল সীমান্তঘেঁষা একটি গ্রাম। সেই গ্রামে করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া নিয়ে চূড়ান্ত এক অবহেলার অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। এখনকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র বার্নির উপকেন্দ্র আউন্দহি কালানে ২০ জনকে দু’টি পৃথক কোম্পানির টিকা দেওয়া হয়েছে। ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ হিসেবে দেওয়া হয় কোভিশিল্ড, তারপর দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে দেওয়া হয় কোভ্যাকসিন। এর পরও আধিকারিকরা সাফাই গাইছেন যে, টিকা গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

যদিও এই ভুল টিকাকরণের জন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন আধিকারিকরা। জেলার চিফ মেডিক্যাল অফিসার (সিএমও) দাবি করেছেন, তদন্তে তিনজন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরে তিনি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এএনএম সহ তিনজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন। এমন ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বিরোধীরা কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন। তাঁরা সরকারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা শুরু করেছেন। সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব বলেছেন, এটি বিজেপি সরকারের অবহেলার একটি চূড়ান্ত খারাপ উদাহরণ।

আরও পড়ুন: ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত দেড় বছরের শিশু

১৪ মে, ইউপি-র সিদ্ধার্থনগর জেলার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র বার্নির উপকেন্দ্র আউন্দহি কালানে ২০ জনকে দু’ধরনের টিকা দেওয়ার ঘটনার কথা জানা গিয়েছে বটে, তবে এখনও পর্যন্ত কোনও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকী সিএমও তদারকি ও তদন্তের দাবি করার পরেও কোনও রোগীর তদারকি করা হয়নি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপক মীনা দুই সদস্যের একটি দল গঠন করে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট চেয়েছেন। তদন্ত দলের সদস্য এসিএমও ডাঃ সৌরভ চতুর্বেদী এবং ডাঃ ডি কে চৌধুরি এএনএম কেন্দ্রের ইনচার্জ এবং ব্লক কোল্ড চেইন ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

সিদ্ধার্থনগর সিএমও সন্দীপ চৌধুরি জানিয়েছেন, তিনি এএনএমের সাসপেনশন সহ তিনজনের বিরুদ্ধে পাঁচ দিন আগেই ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একইসঙ্গে ডিএম দীপক মীনার কথায়, তিনি দু’দিন আগে এএনএম স্থগিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জানান, ইনকোয়ারি রিপোর্ট দু’দিন আগে পাওয়া গেছে। যাঁরা বিভিন্ন ভ্যাকসিন পেয়েছেন, তাঁদের সবারই অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হবে। তাছাড়াও পরিবার কল্যাণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রিপোর্ট চেয়েছেন। তদন্তের পরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *