উত্তরপ্রদেশে পঞ্চায়েত ভোটের পরিণতি ৭০০-রও বেশি শিক্ষকের করোনায় মৃত্যু: অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য

Mysepik Webdesk: গত শুক্রবার এক ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে উত্তরপ্রদেশে। সেখানকার স্টেট টিচার্স ইউনিয়ন সরকারের কাছে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে যে, কমপক্ষে ৭০০ স্কুলশিক্ষক কোভিড আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, যাঁরা পঞ্চায়েত ভোটের ডিউটিতে গিয়েছিলেন। উল্লেখ্য যে, করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গের বিপর্যয়কর হামলার মধ্যে উত্তরপ্রদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছিল চার দফার পঞ্চায়েত নির্বাচন। আর সেই নির্বাচনে কোভিডের বলি হয়েছেন ৭০০-রও বেশি শিক্ষক। এই ঘটনার জন্য অনেকেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করছেন। এমনকী গত শনিবার জাতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধি বঢ়রাও এমন অভিযোগ করে বলেছেন যে, ‘এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের চেয়ে কম কিছুই নয়’। এই ঘটনার জন্য তিনি সরাসরি রাজ্য নির্বাচন কমিশন (এসইসি)-কে দায়ী করেছেন।

আরও পড়ুন: দৈনিক আরও কিছুটা কমল করোনা সংক্রমণের মাত্রা

মথুরায় এক ডিসিআরসি-র ছবি। রাজ্য নির্বাচন কমিশনে তত্ত্বাবধানে ভোটের কাজ হয়েছিল কোভিড বিধির ন্যূনতম তোয়াক্কা না করে। ছবি হিন্দুস্তান টাইমস।

তাছাড়াও আরেক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, একজন আট মাসের গর্ভবতী মহিলাও যিনি ভোটের ট্রেনিংয়ের সময় রোগাক্রান্ত হন, তিনি চিঠি দিয়েও ছাড় পাননি। অনেক অসুস্থ শিক্ষককে সাসপেন্ড বা গ্রেফতারির ভয় দেখিয়ে ভোটের ডিউটি করতে বাধ্য করা হয়। অনুমান, সেখান থেকে বিপদ আরো বেশি ঘনিয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২৯ এপ্রিল ৭৫% ভোট গ্রহণের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত পর্বে পঞ্চায়েত নির্বাচন শেষ হয়। আর তারপর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ প্রবলভাবে আছড়ে পড়ে। প্রিয়াঙ্কা গান্ধি বঢ়রা টুইট করেছেন— “উত্তরপ্রদেশের প্রায় ৬০ হাজার গ্রাম সভায় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় তরঙ্গের বিপর্যয়মূলক আক্রমণ সম্পর্কে কোনো চিন্তাভাবনা ছাড়াই পরিচালনা করা হয়েছিল এই নির্বাচন। ভোটের জন্য প্রচারকার্যও অব্যাহত ছিল। উত্তরপ্রদেশের গ্রামগুলিতে কোভিড-১৯’এর বিস্তার এখন থামার মতো নয়। বহু সংখ্যায় মানুষ মারা যাচ্ছেন, যা সরকারি পরিসংখ্যানের তুলনায় অনেক বেশি।” আরো অভিযোগ যে, উত্তরপ্রদেশের গ্রামীণ অঞ্চলে মানুষ তাঁদের বাড়িতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করছেন। এই মৃত্যুগুলি যে মহামারিতে মৃত্যু, তা গণ্য হচ্ছে না, কারণ বহু লোকজনই করোনা টেস্ট করাননি।

আরও পড়ুন: ‘টিকা মজুত নেই, অথচ বিরক্তিকর টিকাকরণ রিংটোন’, কেন্দ্রকে তিরস্কার দিল্লি হাইকোর্টের

শুক্রবার নয়াদিল্লির একটি কবরস্থানে তাঁদের প্রিয়জনকে দাফনের আগে আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুরা ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম (পিপিই) পরেছিল। ছবি এএফপি।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধি আরও লিখেছেন যে, “সরকারের পদক্ষেপগুলি সত্যকে আড়াল করার জন্য এবং জনসাধারণ ও চিকিৎসক সম্প্রদায়কে উভয়কে সন্ত্রস্ত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে যা ঘটছে, তা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের চেয়ে কম কিছু নয়। এর জন্য দায়ী রাজ্য নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য সরকার।” উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহের শুরুতে নির্বাচনের দায়িত্ব পালনকালে কোভিড-১৯’এর কারণে মারা যাওয়া সরকারি কর্মচারীদের পরিবারের জন্য ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো একটি চিঠিতে উত্তরপ্রদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সংঘ নিহতদের নাম তালিকাভুক্ত করে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে বলেছে যে, এই সমস্ত শিক্ষক ট্রেনিং ও ভোটগ্রহণের সময় সংক্রামিত হয়েছিলেন। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের গোচরে আসে এবং শীর্ষ আদালত ভোট গণনা চলাকালীন কোভিড নিয়ম প্রয়োগের সম্পর্কিত আবেদনের বিষয়ে রাজ্য সরকার এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ জারি করে। অবশ্য ওয়াকিবহাল মহল মনে করেন, ততদিনে যা সর্বনাশ হওয়ার হয়েই গেছে।

কভার ছবিটি পিটিআই-এর সৌজন্যে

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *