ভ্যাকসিনের ফলে শরীর নাকি চুম্বক! সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন দাবিতে চাঞ্চল্য

Mysepik Webdesk: কথায় আছে— ‘অকালে কিনা খায়, বিবাদে কিনা যায়’। অর্থাৎ এই অতিমারির সময় খাবার কেন, কোনও কিছুতেই বাছবিচার করলে চলবে না। ঝগড়া-বিবাদে জড়ালে অর্থ, সুখ, শান্তি সবই যাবে। এখন যে ঘোর ‘অকাল’ চলছে, সেই সময় করোনা ভ্যাকসিন আপনাকে নিতেই হবে। না-হলে অতিমারির সঙ্গে লড়াইয়ে আমরা নাকি জিততে পারব না। কিন্তু কে জানত যে, ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পরে ঘটে যাবে আজব এক কাণ্ড। হ্যাঁ, এমনই এক আজব ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলা থেকে।

৭১ বছর বয়সি অরবিন্দ জগন্নাথ সোনার কোভিশিল্ডের দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছিলেন। সে নিতেই পারেন। কিন্তু খবর হল, ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন যে, কোভিশিল্ডের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পরে তাঁর শরীর নাকি চুম্বকে পরিণত হয়েছে। স্টিলের খুন্তি, কয়েন সহ লোহার তৈরি সমস্ত দ্রব্যই আটকে যাচ্ছে তাঁর শরীরে বলে দাবি করেছেন ওই বৃদ্ধ। কি, বিশ্বাস হচ্ছে? আপনাকে আমাকে বিশ্বাস করানোর জন্য তিনি তৈরি করেছেন একটি ভিডিয়ো-ও। সেখানে দেখা যাচ্ছে যে, তাঁর গায়ে অনায়াসেই চিপকে যাচ্ছে চামচ, খুন্তি কিংবা কয়েন।

আরও পড়ুন: বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গবেষণামূলক বিশ্ববিদ্যালয়ের তকমা আইআইএসসি বেঙ্গালুরুকে

ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এই ভিডিয়ো দেখে তো নেটনাগরিকদের চক্ষু চড়কগাছ। সম্প্রতিক অতীতে চিকিৎসক গবেষকরা বলেই দিয়েছিলেন, টিকা নিলে শরীরে যে ম্যাগনেটিক প্রভাব পড়ে, এমন ধারণা ভিত্তিহীন। সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসিও এই একই কথা বলছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া অরবিন্দ জগন্নাথ সোনারের সঙ্গে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটে গেল তবে? নাসিকের শিবাজিচৌকে বসবাস করা অরবিন্দবাবুর পরিবারের লোকেরা প্রথম-প্রথম ভেবেছিলেন যে, ঘামের কারণে সম্ভবত এমন ঘটছে। এরপর তিনি স্নান করেন। স্নান করার পরেও একই ঘটনা পুনরাবৃত্তি ঘটে। জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক দিন ধরেই এমন ঘটনা ঘটে চলেছে।

এহেন পরিস্থিতিতে এখন নাসিক শহরের চিকিৎসকদের কাছেও এই বিষয়টি আজব এক ধাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রসঙ্গত নাসিক জেলার চিকিৎসক ডাঃ অশোক থোরাট বলেছেন যে, “এটি গবেষণার বিষয়। এই মুহূর্তে এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করাটা তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে। এমন ঘটনার পিছনে কী কারণ থাকতে পারে, তা নিখুঁতভাবে তদন্তের পরেই জানা যাবে। বর্তমানে আমরা মহারাষ্ট্র সরকারকে এই বিষয়ে একটা রিপোর্ট পাঠাব। এরপর তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হবে।” উল্লেখ্য যে, মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপে ইতিমধ্যেই এই ঘটনা নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

অন্যদিকে অরবিন্দ সোনারের ছেলে বলেছেন, “ইউটিউবে একটি ভিডিয়ো দেখেছিলাম। যেখানে দিল্লির এক ব্যক্তি বলেছিলেন যে, করোনার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পরে তাঁর শরীরে চৌম্বকীয় শক্তি তৈরি হয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর আমি আমার বাবা-মাকেও বলেছিলাম যে, একবার চেষ্টা করা উচিত। আমরা যখন বাবার শরীরে কয়েন, চামচ, প্লেট জাতীয় জিনিস দিই, তখন দেখি তাঁর শরীরে এই সমস্ত জিনিসই আটকে যাচ্ছে।”

আরও পড়ুন: শচীন-কন্যা সারার সঙ্গে সম্পর্ক? উত্তর দিলেন শুভমন গিল

আপাতত এমন এক ঘটনায় অরবিন্দবাবুর গোটা পরিবারের সঙ্গে হতবাক প্রত্যেকেই। কীভাবে শরীরে এমন চৌম্বকীয় শক্তির উদ্ভব হয়েছে, এ নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও উত্তর নেই কারও কাছেই। খোদ চিকিৎসকরাও এর কারণ খুঁজতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে, করোনার ভ্যাকসিন প্রয়োগের বিষয়টি নিয়ে মহারাষ্ট্রে এখনও বিভ্রান্তি এবং শঙ্কার পরিবেশ রয়েছে। অনেক গ্রামে মানুষ এখনও করোনার ভ্যাকসিন নিতে ভয় পান। এমন পরিস্থিতিতে যদি এই জাতীয় খবর সামনে আসে, তবে টিকাদান প্রচারে সমস্যা হতে পারে। তাই সরকার এবং পৌরসভার উচিত এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা।

আর হ্যাঁ, প্রসঙ্গত একটি কথা বলে রাখা জরুরি, mysepik.com এটি নিশ্চিত বা ঘটনাটিকে সমর্থন করে জানাচ্ছে না যে, করোনার ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পরেই এমন ঘটনা ঘটেছে।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *