করোনাকালে ‘দুয়ারে দশভুজা অক্সিজেন হাব’ গড়ে মানবসেবায় এগিয়ে এলো বেলেঘাটা ৩৩নং পল্লীবাসীবৃন্দ

dosvuja

Mysepik Webdesk: ভোট যখন মধ্যগগনে, গোটা দেশের করোনা পরিস্থিতি তখন ভয়াবহ আকার ধারণ করতে শুরু করেছিল। ভোট-পরবর্তী করোনা পরিস্থিতি আরও খারাপ হল। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে যখন একপ্রকার প্রায় নাজেহাল অবস্থা, যখন অক্সিজেন সংকট চলছে, ঠিক তখনই বেলেঘাটা ৩৩নং পল্লীবাসীবৃন্দ নতুন এক উদ্যোগ নিয়ে মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছিল। করোনা পরিস্থিতি বিচার করে এর মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার বিভিন্ন দুর্গাপুজো কমিটিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিল। তিনি করোনা রোগীদের সেবা থেকে শুরু করে এলাকায় স্যানিটাইজিং সহ ভিড় নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতি বিষয় যথোপযুক্তভাবে করার আবেদন পুজো কমিটিগুলিকে করেছিলেন। সেই আবেদনে সাড়া দিয়েছে কলকাতার বিভিন্ন ছোট বড় পুজো কমিটি। তাদের মধ্যে অন্যতম হল বেলেঘাটার ৩৩নং পল্লীবাসীবৃন্দ। তাদের উদ্যোগেই গড়ে উঠেছে ‘দুয়ারে দশভুজা অক্সিজেন হাব’।

ক্লাবের সভাপতি পরিমল দে এই প্রসঙ্গে mysepik.com-কে বলেন, “মে মাসের ১-২ তারিখ থেকেই আমরা এই ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছিলাম। এক্ষেত্রে আমরা পাশে পাই ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা বিধায়ক পরেশ পালকে। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় ২৩ মে শুরু হয় করোনা রোগীদের সেবার এই অক্সিজেন হাব। বেলেঘাটার এক বাড়ির ছাদের তলায় কোভিড রোগীদের জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে রয়েছে বেড, অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং ওষুধ। তা ছাড়াও রয়েছে অক্সিজেন পার্লার, ২৪ ঘণ্টার জন্য যেখানে রয়েছে অক্সিজেন সাপোর্টও। অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও রয়েছে। ঈশ্বরের অনেক কৃপা হল প্রথমদিকে অন্ততপক্ষে ১৪-১৫ জন আক্রান্ত নিয়মিত আসছিলেন। এখন সেই সংখ্যাটা ২-৩ জনে এসে ঠেকেছে। আমাদের সঙ্গে যুক্ত ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত সাহা, সহ-সম্পাদক অঙ্কন অধিকারী এবং অভিনব দে।”

আরও জানা গিয়েছে যে, ইএসডি-ডিসি অফিসের বিপরীতে অবস্থিত সিআইডি রোডের পি ২১১ বাড়িটি ৬ মাসের জন্য ভাড়ায় দিয়েছেন বাড়ির মালিক। পরবর্তীতে ১২ বেডের একটি সেভ হোম তৈরি করার পরিকল্পনাও রয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষের। তবে জনস্বার্থে এই দুর্গা পুজো কমিটির এহেন উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। আর হ্যাঁ, শহর কলকাতার বর্ধিষ্ণু বেলেঘাটায় এই বাড়িটিকে যিনি তুলির আঁচড় দিয়ে অপূর্ব ভাবে সাজিয়ে তুলেছেন, সেই শিল্পীর নাম সুব্রত (ভোলা) দত্ত। বাড়ির দিকে তাকালেই আপনার চোখ টানতে বাধ্য। সেখানে কখনও দেখা যাচ্ছে দেবী দুর্গাকে, যিনি অসুর-রূপী করোনাভাইরাসকে নিধন করছেন, কখনও দেওয়ালের আনাচ-কানাচে চোখে পড়বে সচেতনতার বাণী। প্রখ্যাত কিংবদন্তি ফরাসি চিত্র শিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গগ একবার বলেছিলেন, “There is peace even in the storm…” অর্থাৎ ঝড়ের মধ্যেও শান্তি আছে। সেই ঝড় একদিন থেমে যাবেই, পৃথিবী আবার শান্ত হবেই। কুর্নিশ বেলেঘাটা ৩৩ নম্বর পল্লীবাসীবৃন্দ।

ছবি: ডিকু ভট্টাচার্য

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *