ড্যানিশ ডিনামাইটে বিধ্বস্ত ওয়েলস, অন্যদিকে লড়ে হার অস্ট্রিয়ার

সায়ন ঘোষ

গতকাল থেকে শুরু হয়েছে ইউরো কাপের রাউন্ড অফ সিক্সটিনের ম্যাচ। প্রথম ম্যাচে রীতিমতো চমকে দিয়েই ডেনমার্ক উঠে গেল কোয়ার্টার ফাইনালে। ইউরো কাপের প্রথম ম্যাচে ড্যানিশদের নির্ভরযোগ্য মিডিও এরিকসনের হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হবার ট্রমা থেকে বার হয়েছে ড্যানিশরা। বরং অনেক উজ্জীবিত ফুটবল খেলছে তারা। তাদের খেলা মনে করাচ্ছে আশির দশকে মাইকেল লাউড্রপের ডেনমার্ককে। এদিন ডেনমার্ক দল নামায় ৩-৪-২-১ ছকে। গোলে স্কিমিচেল। রক্ষণভাগে ক্রাইস্টসেন, সাইমন, ভেস্টেগার্ড। এদের সামনে চার মিডিও লারসেন, পিয়ের এমিলি, জোয়াকিম পেডারসেন, থমাস ডিলেনাই। সামনে দুই অ্যাটাকিং মিডিও ব্রেনওয়েথ এবং ডামসগার্ড। সামনে কাসপার ডলবার্গ। অন্যদিকে, ওয়েলস দল নামায় ৪-২-৩-১ ছকে। গোলে ড্যানি ওয়ার্ড। রক্ষণভাগে বেন ডিভাইস, জোসেপ রডন, ক্রিস্টোফার, কনর রবার্টস। দুই ডিফেন্সিভ মিডিও জো আলেন ও মরেল। সামনে তিন অ্যাটাকিং মিডিও গ্যারেথ বেল, অ্যারন রামসে, ড্যানিয়েল জেমস। সামনে স্ট্রাইকারে কিয়েফার মোর।

আরও পড়ুন: অলিম্পিক শুরুর আগে ব্যাডমিন্টনে দেশের অন্যতম ভরসা বি এস প্রণীথকে চিনে নিন

ম্যাচের শুরুতে গ্যারেথ বেলের সৌজন্যে প্রাথমিক ঝটকায় ওয়েলস দিলেই কাসপার ডলবার্গের নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। ম্যাচের ২৭ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুরন্ত শটে ডেনমার্ককে এগিয়ে দেন কাসপার ডলবার্গ। গোলের পর একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে ডেনমার্ক। ডামসগার্ড ও ডলবার্গ রীতিমতো চেপে ধরে ওয়েলসকে। দ্বিতীয়ার্ধেও খেলার কোনও পরিবর্তন হয়নি। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে উইলিয়ামসের ভুল ক্লিয়ারেন্স ডলবার্গের কাছে গেলে ডলবার্গ আবার গোল করে ড্যানিশদের এগিয়ে দেয়। এরপর গ্যারেথ বেল ও ড্যানি জেমসের নেতৃত্বে ওয়েলস আক্রমণ শানালেও ড্যানিশ দুর্গের কোনও পতন হয়নি। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে বক্সে ঢুকে ডান পায়ের ইনসাইড ডজে ওয়েলস ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে বাঁ-পায়ের অনবদ্য শটে গোল করেন জোয়াকিম পেডারসন। ৯৪ মিনিটে এক দুরন্ত ফিনিশে ব্রেনওয়েথ চতুর্থ গোলটি করে ওয়েলসের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন।

আরও পড়ুন: ফুটবল পরিসরে উপেক্ষিত দুই ইতালীয় ‘তরুণে’র গল্প

অন্যদিকে, দ্বিতীয় খেলায় অস্ট্রিয়া লড়াই করে হার মানল ইতালির কাছে। এবারের ইউরোতে ইতালির যেন পুনর্জন্ম হয়েছে। রবার্তো মানসিনির হাতে পড়ে ইতালি নতুনভাবে জেগে উঠেছে। একটানা জিতেই চলেছে তারা। এদিন ৪-৩-৩ ছকে দল নামায় ইতালি। গোলে ডোনারুমা। রক্ষণভাগে জিওভান্নি ডি লরেঞ্জো, লিওনার্দো বোনুচ্চি, ফ্রান্সিসকো আর্কেবি, লিওনার্দো স্পিনজোল্লা। তিন মিডিও নিকোলাও বরেল্লা, জর্জিনহো, মার্কো ভেরাত্তি। আপফ্রন্টে বেরার্দি, ইম্মোবাইল, ইনসাইন। অস্ট্রিয়া দল সাজায় ৪-২-৩-১ ছকে। গোলে ড্যানি বেকম্যান। রক্ষণভাগে স্টিফেন লাইনার, ড্রাগোভিক, হিন্টেরেগার ও ডেভিড আলাবা। দুই ডিফেন্সিভ মিডিও জেভিয়ার ও গ্রিলিটিসিচ। তিন অ্যাটাকিং মিডিও বাউমগার্টনার, সাবিৎজার, কনরাড লিমার। আপফ্রন্টে মার্কো আরনাউটোভিচ।

আরও পড়ুন: অন্য ২৫ জুনের গল্প: নব্বুইয়ে পা ভারতীয় ক্রিকেটের এক গৌরবোজ্জ্বল দিনের

প্রথমার্ধে দু’দল আক্রমণ শানালেও দুই দলের ডিফেন্স ছিল শক্ত। অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক বেকম্যান ইনসাইন ও বরেল্লার থেকে দু’টি নিশ্চিত গোল বাঁচান। ইম্মোবাইলের একটি শট বারে লেগে ফিরে আসে। অন্যদিকে, ডোনারুমা বক্সে ভেসে আসা ক্রস চমৎকারভাবে ধরে নেন। দ্বিতীয়ার্ধেও কোনও পরিবর্তন হয়নি। ডেভিড আলাবার নেতৃত্বে অস্ট্রিয়ার ডিফেন্স কার্যত দুর্ভেদ্য হয়ে উঠে। আজ্জুরিদের সব আক্রমণ তারা আটকে দিতে থাকে। ইতালির ডিফেন্সিভ স্ট্র্যাটেজিতে ইতালিকেই আটকে রাখে তারা। ৬৬ মিনিটে আরনাউটোভিচের গোল অফসাইডের জন্য বাতিল হয়। অতিরিক্ত সময়ের ৫ মিনিটে পরিবর্ত ফুটবলার ফ্রেডরিকো চাইসের অনবদ্য ভলিবল থেকে করা গোলে ইতালি ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। ১৫ মিনিটের মাথায় আর এক পরিবর্ত ফুটবলার পেসিনার গোলে ফের এগিয়ে যায় ইতালি। অতিরিক্ত সময়ের ২৪ মিনিটে অস্ট্রিয়ার হয়ে একমাত্র গোলটি করেন সাসা। ইতালির এই জয়ের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে মাঠে নামবে।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *