মুসলিমদের পক্ষে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করে উত্তরাখণ্ডের কোচের পদ থেকে ইস্তফা ওয়াসিম জাফরের

Wasim Jaffer

Mysepik Webdesk: প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ওয়াসিম জাফরের বিরুদ্ধে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ উত্তরাখণ্ড (সিএইউ)-এর কর্মকর্তারা ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ করেছিলেন। একইসঙ্গে তারা অভিযোগ করেছিল যে, বায়ো-বলয়ে ট্রেনিংয়ের সময় মৌলবিদের প্রোটোকল ভেঙে জন্য শিবিরে ডেকে নিয়ে এসেছিলেন। তাছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে দল নির্বাচনে মুসলিমদের পক্ষে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও। যদিও জাফর এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আরও পড়ুন: কোপা ডেল রে: সেভিয়ার কাছে ম্যাচ হেরে ফাইনালে ওঠা কঠিন করে তুলল বার্সেলোনা

মঙ্গলবার উত্তরাখণ্ড দলের কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন জাফর। ৫৫ লক্ষ টাকা দিয়ে তাঁকে এক বছরের জন্য কোচ করা হয়েছিল। গত মাসে ঘরোয়া টুর্নামেন্টে সৈয়দ মুস্তাক আলি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে উত্তরাখণ্ড দল ৫টি ম্যাচের মধ্যে ৪টি হেরেছিল।

সিএইউ সেক্রেটারি মহিম ভার্মা এবং সিলেকশন কমিটির চেয়ারম্যান রিজওয়ান শমশাদ অভিযোগ করেছিলেন যে, কুণাল চান্দিলার জায়গায় জাফর ইকবাল আবদুল্লাহকে অধিনায়ক করে নিয়েছেন জাফরই। ইকবালকে ব্যাটিংয়ে শীর্ষ অর্ডারে নামেন। অন্যদিকে, ওপেনার চান্দিলাকে মিডল অর্ডারে পাঠানো হয়েছিল।

তিনি বলেছিলেন যে, মৌলবিরা প্রশিক্ষণ শিবিরে আসার পরে জাফর দলটির ‘রাম ভক্ত হনুমান কি জয়’ স্লোগানও বদলেছিলেন। উত্তরাখণ্ড টিম গতবছর থেকেই ‘রাম ভক্ত হনুমান কি জয়’ স্লোগান নিয়ে খেলছিল। জাফর এটি বদল করে ‘গো উত্তরাখণ্ড’ তৈরি করেছিলেন বলে অভিযোগ।

আরও পড়ুন: ৭ মার্চ অলিম্পিকের বাছাইপর্বের জন্য দিল্লি ন্যাশনাল ম্যারাথন

এই অভিযোগের বিষয়ে ওয়াসিম জাফর এক নিউজ এজেন্সিকে বলেন, “আমি তাঁদের (মহিম ও শমশাদ) বলেছিলাম যে, দলের অধিনায়ককে জয় বিস্তাকে করা উচিত। সে একজন তরুণ খেলোয়াড়। সে প্রস্তুতও ছিল। তবে টুর্নামেন্টে পৌঁছে তাঁরা (মাহিম ও শামশাদ) বলেছিলেন যে, ইকবালকে অধিনায়ক করা উচিত। তারপর আমি ‘হ্যাঁ’ বলেছি এবং ইকবালকে অধিনায়ক করেছি।”

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৯ হাজারের বেশি রান করা ৪২ বছরের প্রাক্তন এই ক্রিকেটার আরও বলেন, “এমন অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি আমার ইমেইলে সবকিছু দিয়েছি। তাঁরা আপাতভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি এ বিষয়ে। তাঁরা আমার বিরুদ্ধে ধর্মীয় রং দেওয়ার মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।”

জাফর বলেন, “আমরা যখন সৈয়দ মুস্তাক আলি টুর্নামেন্ট খেলতে এসেছি, তখন সেক্রেটারি এবং নির্বাচক আমার সঙ্গে অধিনায়ক ও দল পরিবর্তন করার বিষয়ে কথা বলেননি। তাঁরা আমার সঙ্গে দল নির্বাচনের বিষয়ে কথাও বলেনি, তবে তাঁরা কেন তাদের পিছনে পিছনে এমন কিছু করছে? তাঁদের আমার সব কথা বলা উচিত ছিল। সে-কারণেই আমি কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। আমি কেন পদত্যাগ করেছি, তা তাঁরা জানতে চাননি।”

‘রাম ভক্ত হনুমান কি জয়’ স্লোগান প্রসঙ্গে জাফর বলেছিলেন, ‘প্রথম কথাটি এই স্লোগান (জয় শ্রীরাম বা জয় হনুমান) আমি এখানে শুনিনি। অনুশীলন ম্যাচ চলাকালীন কয়েকজন খেলোয়াড় ‘রানি মাতা সাচ্চে দরবার কি জয়’ স্লোগান দিয়েছিল। এটি শিখ সম্প্রদায়ের স্লোগান এবং এই সম্প্রদায়ের দলে কেবল দু’জন খেলোয়াড় রয়েছে যারা এই স্লোগানটি ব্যবহার করেছিল। তবে আমি কখনও জয় হনুমান বা জয় শ্রীরাম শুনিনি।”

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *