কাবুল যখন কণ্টকময়: এক সিনেমাওয়ালির আঁখো দেখা হাল

Mysepik Webdesk: কান পুরস্কার বিজয়ী আফগানিস্তানের মহিলা সিনেমা নির্মাতা শাহরবানু সাদত। তিনি এখন কাবুলে প্রাণভয়ে রয়েছেন। কাবুল ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় রয়েছেন আতঙ্কিত এই পরিচালক। ‘হলিউড রিপোর্টার’-এ তিনি যে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, তাতে এমনই উৎকণ্ঠার কথা উঠে এসেছে। তিনি যা বলেছেন, তাতে বোঝা গিয়েছে যে, বড় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন আফগান এই পরিচালক। শাহরবানু বলেছেন, “চোখের সামনে সবকিছু বদলে গেল। যদি বেঁচে থাকি তবে কাবুলের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর সিনেমা বানাব। পুরোপুরি বদলে যাবে আমার সিনেমার ধরন। নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এখন যা দেখছি, যদি বাঁচতে পারি সেগুলো সিনেমায় তুলে ধরতে পারব এবং গোটা পৃথিবীকে জানাতে পারব।”

আরও পড়ুন: অশান্ত সময়ে ফিরছে আফগানিস্তান!

২০১৬-এ কান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘উলফ অ্যান্ড শিপ’ ছবির জন্য ‘ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট’ পুরস্কারপ্রাপ্ত শাহরবানু এখন এয়ারপোর্ট খোলার অপেক্ষায় রয়েছেন। সপরিবারে তিনি আফগানিস্তান ছাড়তে চান বিমান পরিষেবা চালু হলেই। ‘হলিউড রিপোর্টার’কে তিনি আরও বলেন, “কীভাবেই বা বিমানবন্দরে পৌঁছব অথবা কীভাবে বিমান পাব, সেটা সত্যিই একটা বড় সমস্যা। বিমানবন্দরের প্রথম চেকপয়েন্ট তালিবানদের দখলে। বিমানবন্দরের পথে অনেকগুলো পয়েন্ট আছে।”

আরও পড়ুন: টোকিও প্যারালিম্পিকে অংশগ্রহণ বিশ বাঁও জলে: অনিশ্চিত দুই আফগান ক্রীড়াবিদের জীবন

২০১৯-এ ‘দ্য অরফানেজ’ ছবির জন্য ফের ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট পুরস্কার পাওয়া এই আফগান পরিচালক জানিয়েছেন, তাঁর বন্ধুরা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছেন। প্রত্যেকেই তাঁদের নিজের জায়গা থেকে শাহরবানুকে মদত করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, “আরও অন্তত যদি একটা মাস পাওয়া যেত! পুরো চমকে যাওয়ার মতো বিষয়। এত দ্রুত সব কিছু ঘটে যাবে, তা ভাবতেও পারিনি।” পরিচালক জানিয়েছেন, তিনি দেশ ছাড়ার আমন্ত্রণ পেলেও তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কারণ পরিবারসহ যাওয়ার অনুমতি ছিল না।

সেখানকার পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ, তা উঠে এসেছে শাহরবানুর কথায়। বাড়ির কাছেই একটি ব্যাঙ্কে তাঁর নিয়মিত যাতায়াত। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেছেন, প্রায় ৫০০ মানুষ ৫ থেকে ১০ জন গ্রাহকের বদলে সেই ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলার চেষ্টা করছেন। সেই পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে অনেককেই ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হচ্ছে ব্যাঙ্ক থেকে। আর বাইরে দাঁড়িয়ে রয়েছে তাদের নিজস্ব পতাকা লাগানো তালিবানদের গাড়ি। তাঁর সংযোজন, “এই তালিবানরাজে সিনেমা থেমে যাবে। আর তাদের এই উত্থানের প্রভাব নারীদের ওপর পড়বেই।” উল্লেখ্য যে, তালিবান ইতিমধ্যেই বন্দি করেছে আফগানিস্তানের প্রথম মহিলা গভর্নর সালিমা মাজারিকে।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *