কোন পথে যে চলি! ভ্যাকসিন নীতির কার্যকারিতার প্রশ্নে ধাঁধাঁ

Mysepik Webdesk: টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে কমাতে হবে ব্যবধান। ল্যানসেট জার্নালের করা একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমনই এক তথ্য। সেখানে বলা হয়েছে যে, করোনাভাইরাসের নতুন ডেল্টা প্রজাতির বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি গড়ে তুলতে গেলে দু’টি ডোজ নেওয়ার মধ্যে কম করতে হবে ব্যবধান। সমীক্ষা আরও জানিয়েছে, করোনার আদি জাতির বিরুদ্ধে ফাইজারের ভ্যাকসিন যতটা কার্যকরী, নতুন ডেল্টা প্রজাতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কতটা কার্যকরী নয় সেটি। এক ভ্যাকসিনেই শরীরে কোভিডের নতুন ভ্যারিয়েন্ট প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি নিয়েও যে দাবি উঠেছে, তা ভুল বলে দাবি করা হয়েছে ল্যানসেটের এই গবেষণায়।

আরও পড়ুন: আনলক হচ্ছে দিল্লি, ৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে মেট্রোরেল চালানোর প্রক্রিয়া শুরু

তাছাড়াও যাঁরা কেবলমাত্র প্রথম টিকা গ্রহণ করেছেন, তাঁদের ডেল্টা প্রজাতির বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডির প্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম। এমনই উঠে এসেছে সমীক্ষায়। সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে যে, দু’টি ডোজ নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবধান বেশি হলেও অ্যান্টিবডির প্রতিক্রিয়া উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পাচ্ছে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক দিকও উল্লেখ করা হয়েছে ল্যানসেট জার্নালের করা এই সমীক্ষায়। রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, টিকা নেওয়া থাকলে করোনায় আক্রান্ত হলেও হাসপাতালে ভর্তির হার অনেক কম হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বিশ্বরক্ষার কৃতিত্ব নিতে গিয়ে ভারতীয়দের বিপদে ফেলছে মোদি সরকার: অমর্ত্য সেন

সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এমা ওয়াল প্রসঙ্গত বলেছেন, “নতুন প্রজাতির করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য দ্বিতীয় ডোজ দ্রুত দিতে হবে। যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনায় কম, তাঁদের দিতে হবে বুস্টার। আমাদের সমীক্ষার রিপোর্ট তা-ই বলছে।” উল্লেখ্য যে, ফাইজারের একটি ডোজ নেওয়ার পর ৭৯ শতাংশ মানুষের দেহে করোনার আসল স্ট্রেনের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হলেও বি.১.১.৭ বা আলফা ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে কেবল ৫০ শতাংশের শরীরেই। আর এই অ্যান্টিবডির প্রতিক্রিয়া ডেল্টা প্রজাতির বিরুদ্ধে খুবই কম। মাত্র ৩২ শতাংশ। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকায় মেলা বিটা প্রজাতির বিরুদ্ধে তা মাত্র ২৫ শতাংশ।

আরও পড়ুন: ভারতে করোনার ডেল্টা স্ট্রেনই সবচেয়ে বেশি সংক্রামক, দাবি বিশেষজ্ঞদের

এদিকে, ল্যানসেটের গবেষণায় দুই টিকা দেওয়ার মধ্যে ব্যবধান কমালে কার্যকারিতা বেশি পাওয়া যাবে বলে দাবি করা হলেও ভারতের নীতি কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন নীতিতে চলছে টিকাকরণ প্রক্রিয়া। সাম্প্রতিক অতীতে প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের মধ্যে ব্যবধান ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ থেকে বাড়িয়ে ১২ থেকে ১৬ সপ্তাহ করা হয়েছে। কেন্দ্র জানিয়েছে যে, প্রথম ডোজের পর শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরির জন্য সময় দিতে বাড়ানো হয়েছে এই ব্যবধান।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *