পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কেন হারল ভারত?

Mysepik Webdesk: যা কখনও ঘটেনি, তা দুবাই ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রবিবার ঘটল। ২৯ বছরের মধ্যে প্রথমবার বিশ্বকাপের ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে পরাজয়ের মুখোমুখি হল টিম ইন্ডিয়া। ১৯৯২ সাল থেকে ভারতের টানা ১২টি জয়ের একলহমায় শেষ হয়ে গেল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসরে। পাকিস্তান প্রথমবারের মতো একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ১০ উইকেটে জিতেছে। অন্যদিকে, ভারত প্রথমবার টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১০ উইকেটে হেরেছে। কেন এমন করুণভাবে হেরে গেল বিরাট-বাহিনী?

আরও পড়ুন: জয় দিয়ে এএফসি-২৩ এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারে অভিযান শুরু করল ভারত

শাহিন শাহ আফ্রিদি বর্তমানে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে বিপজ্জনক ওপেনিং বোলার। ১৪৫ কিলোমিটার বেগে বল করেন পাকিস্তানের এই বাঁ-হাতি বোলার। হাতে দুর্দান্ত সুইং রয়েছে। প্রচণ্ড গতিতে তাঁর ডেলিভারি কাট করে উইকেটের দিকে ঢোকে। কেরিয়ারের ৬২ ইনিংসে ২২ বারের মতো প্রথম ওভারে উইকেট নিয়েছেন শাহিন। পাওয়ার প্লে ওভারেও তিনি প্রচুর উইকেট নেন। কিন্তু ভারতীয় দুই ওপেনার রোহিত শর্মা এবং কে এল রাহুলের খেলা দেখে মনে হয়েছে ঠিকমতো হোমওয়ার্ক করেননি তাঁরা। এই দুই গোড়াপত্তনকারী ক্রিকেটারই শাহিন আফ্রিদির বলে আউট হয়ে যান।

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপের মঞ্চে পাকিস্তানের কাছে প্রথমবার পরাজিত ভারত

টিম ইন্ডিয়ার তিন উইকেট পড়ে যায় ৩১ রানে। এরপর ব্যাট করতে আসা ঋষভ পন্থ অধিনায়ক বিরাট কোহলির সঙ্গে ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন। একসঙ্গে তাঁরা দলকে ৮৪ রানে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এরপর পন্থ ভুল শট খেলে আউট হয়ে যান এবং ভারতের ১৭৫ রানে পৌঁছনোর আশাও নষ্ট হয়ে যায়। ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালেও পন্থ একইভাবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আউট হয়েছিলেন। সেদিন তিনি ২৪/৪ স্কোরে ক্রিজে আসেন এবং দল যখন ৭১ রানে পৌঁছায়, তখন তিনি একটি খারাপ শট খেলে আউট হন।

আরও পড়ুন: ঘোষণা হল জুনিয়র মহিলা বিশ্বকাপের সময়সূচি, ভারতের প্রথম ম্যাচ রাশিয়ার বিপক্ষে

এটা পরিষ্কার ছিল যে, হার্দিক পান্ডিয়া বোলিং করবেন না। কিন্তু তাঁর ব্যাটিং ফর্মও এই মুহূর্তে একেবারেই ভালো নয়। তা সত্ত্বেও তিনি প্রথম একাদশে ছিলেন। পান্ডিয়া ৮ বলে মাত্র ১১ রান করেন। ডেথ ওভারে তাঁর ব্যাট থেকে আসেনি সংক্ষিপ্ত কোনও ঝোড়ো ইনিংস। তাছাড়াও ভারতের বোলিং পরিক্লপনা ছিল সম্পূর্ণ ফ্লপ। ভারতের শুরু থেকেই উইকেটের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বিরাট কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে নামেননি। প্রথম চার ওভারে চারজন ভিন্ন বোলারকে দিয়ে বল করান তিনি। আশ্চর্যজনকভাবে ভারতীয় ফাস্ট বোলাররা বাউন্সার করারও পর্যন্ত চেষ্টা করেননি। পাকিস্তানের বাবর আজম ও মহম্মদ রিজওয়ানের কোনও দুর্বলতা ভারতীয় বোলাররা এদিন খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়েছিলে ভারতীয় বোলিং ব্রিগেড। তাছাড়াও ভারতীয় খেলোয়াড়দের বডি ল্যাঙ্গুয়েজও জেতার মতো ছিল না। খুব তাড়াতাড়ি এই বিষয়গুলি শুধরে নিতে হবে ভারতকে।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *