দেশদ্রোহ আইন কেন বাতিল করা হচ্ছে না? কেন্দ্রকে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের

Mysepik Webdesk: ১৮৭০ সালে ব্রিটিশ আমলে ভারতে তৈরি হয় দেশদ্রোহ আইন। পরাধীন ভারতে সেই সময়ে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বলপূর্বক জেলে ঢোকানোর জন্য এই আইনের অপব্যবহার করত ইংরেজরা। তারপর থেকে পেরিয়ে গিয়েছে ৭৫ বছর, কিন্তু এই আইনের অস্তিত্ব আজও বর্তমান। এই আইনেরই ধারা প্রয়োগ করে আজও সরকার জেলবন্দি করে চলেছে সাধারণ মানুষকে। ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পর এই আইনের আদৌ কোনও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কিনা, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে এদিন প্রশ্ন করল সুপ্রিম কোর্ট।

আরও পড়ুন: ভারতীয় জনতা যুবমোর্চার সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক রাজু বিস্তা, সহ-সভাপতি হলেন অনুপ সাহা

বৃহস্পতিবার এই বিষয় সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এন ভি রমণের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ দেশদ্রোহ আইন নিয়ে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁরা কেন্দ্রকে এই আইনের প্রয়োগ ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আদালতের প্রশ্ন, এই ধরণের ঔপনিবেশিক আইন কেন বাতিল করা হচ্ছে না। স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও কী এই আইনের কোনও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে?

আরও পড়ুন: কোভিড নিয়ন্ত্রণে যোগী আদিত্যনাথের প্রশংসায় পঞ্চমুখ নরেন্দ্র মোদি

এদিন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি বলেন, “আমার কাছে খবর রয়েছে, বর্তমানে এই আইনটির প্রচুর অপব্যবহার হচ্ছে।” তিনি উদাহরণস্বরূপ বলেন, “ছুতোর মিস্ত্রিকে করাত দেওয়া হয়েছিল কাঠের টুকরো কাটার জন্য। কিন্তু তিনি সেই করাত দিয়ে জঙ্গলের সমস্ত গাছ কেটে ফেলছেন। অর্থাৎ, কোনও বিশেষ ক্ষেত্রে যেখানে এই আইনের প্রয়োগ করার কথা, তা না করে ইয়াই আইনের যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে। এটা কখনোই কাম্য নয়। দেশদ্রোহ আইনের অপব্যবহার হচ্ছে। যদি কোনও পুলিশ কোনও ব‍্যক্তিকে ফাঁসিয়ে দিতে চান, তিনি সাতপাঁচ না ভেবে শুধুমাত্র নিজের ইচ্ছাতেই ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪(এ) ধারা প্রয়োগ করেন।”

আরও পড়ুন: করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট কাপ্পা, ভারতে এখনও পর্যন্ত থাবা বসিয়েছে সাতজনের শরীরে

এরপরেই অ‍্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেনুগোপালকে প্রধান বিচারপতি সিভি রমন বলেন, “এই রাষ্ট্রদ্রোহ আইন মূলত একটি ঔপনিবেশিক আইন। পরাধীন ভারতে মহাত্মা গান্ধীর মুখ বন্ধ করতে, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকে দমন করার জন্য এই আইনের প্রয়োগ করত ব্রিটিশরা। কিন্তু স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও আমাদের দেশে এই আইন রাখার আদৌ কী কোনও প্রয়োজন রয়েছে? যেখানে কেন্দ্রীয় সরকার একাধিন পুরোনো আইন বাতিল করে দিচ্ছে, তখন এই আইন এখনও পর্যন্ত বাতিল করা হচ্ছে না কেন? এই আইনের অপব্যবহার নিয়ে আমরা রীতিমতো উদ্বিগ্ন। আমরা অবশ্য কোনও রাজ‍্য সরকার বা কেন্দ্রকে দোষ দিচ্ছি না। তবে এই আইনটি বাতিল করা যায় কিনা তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করুক সরকার।”

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *